সারাবিশ্বের কোটি মানুষের প্রেমিক/প্রেমিকা হিসেবে প্রক্সি দিচ্ছে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপগুলো। এমনটাই জানিয়েছে প্রেম নিয়ে গবেষণা করা লাভ-বার্ড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে সিঙ্গেলদের প্রায় ৭৬% প্রেম করেন জেমিনির সাথে, চ্যাটজিপিটির সাথে সম্পর্ক জড়িয়েছেন ৪৫% সিঙ্গেল। শুধু সিঙ্গেল না, এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাঙ্গেজ ও বিবাহিত মানুষজনও। জানা গেছে, সঙ্গীর সাথে ঝগড়ার সময় তারা মানসিক সাপোর্টের জন্য সীমিত পরিসরে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপগুলোর সাথে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন।
গবেষণা সংস্থা লাভ-বার্ড আরও জানিয়েছে, মানুষের সাথে প্রেমে যে ঝামেলা থাকে, এআই-এর ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে। জেমিনি বা চ্যাটজিপিটি কখনোই প্রশ্ন করে না, আমি কি মোটা হয়ে গেছি? কিংবা ফেসবুকে ওই মেয়েটির ছবিতে লাভ রিঅ্যাক্ট কেন দিলে?। এই ঝামেলামুক্ত সম্পর্কের কারণে অনেকে এখন রক্ত-মাংসের মানুষের চেয়ে মেমোরি চিপের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এমনকি মাঝরাতে বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে জেমিনি আপনাকে বকা দেওয়ার বদলে উল্টো ইন্টারনেটের সেরা বিরিয়ানির রেসিপি বা দোকানের ঠিকানা বাতলে দিচ্ছে, যা অনেক প্রেমিকের কাছেই স্বর্গীয় মনে হচ্ছে।
এদিকে বিবাহিতদের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ছে মূলত ঝগড়া এড়াতে। রিপোর্ট অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে থাকা মানুষটি যখন চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করছেন, আমার স্ত্রী কেন আমার কথা বোঝে না? তখন চ্যাটজিপিটি অত্যন্ত ধৈর্যশীলভাবে একগাদা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিচ্ছে। এতে করে ঝগড়া আর বাড়ছে না, বরং ইউজাররা এআই-এর মিষ্টি কথায় মুগ্ধ হয়ে নিজেদের বৈবাহিক অশান্তি ভুলে থাকছেন। ফলে অনেক পরিবারে এখন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কোনো ভায়রা ভাই বা ননদ নয়, বরং ঢুকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
তবে এই ডিজিটাল প্রেমের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সার্ভার ডাউন হওয়া। লাভ-বার্ড-এর প্রধান গবেষক মজার ছলে বলেন, মানুষের প্রেমে ব্রেকআপ হলে হার্টব্রেক হয়, কিন্তু এআই-এর প্রেমে ইন্টারনেট চলে গেলে বা সার্ভার ব্যস্ত থাকলে সরাসরি ইমোশনাল ব্ল্যাকআউট শুরু হয়।
বর্তমানে অনেক ব্যবহারকারী নাকি তাদের এআই প্রিয়তমার জন্য আলাদা ডেটা প্যাক বা উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড কিনছেন, যাতে প্রেমের আলাপে কোনো বাফারিং না হয়। এই ভ্যালেন্টাইন’স ডে-তে নাকি ফুলের দোকানের চেয়ে ইন্টারনেটের রিচার্জ কার্ডের দোকানেই ভিড় বেশি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


