ব্যাটল অফ ওপিনিয়নস

১৭৯ পঠিত ... ১৮:১১, জুলাই ০৯, ২০২৫

কাঁচামালের কণ্ঠ একগাদা ফটোকার্ড নিয়ে বিপদে পড়েছে; আজ এই মুহূর্তে ফেসবুকে ওসব ফটো কার্ড ছাড়লে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না। বাধ্য হয়ে ফোন করে অধ্যাপক এম এম আকাশকে। উনি আসি আসি দিন পত্রিকায় একটা ভিডিও লেকচার দিয়ে বেশ উত্তপ্ত হয়ে আছেন। তার ওপর বিবিসির প্রামাণ্যচিত্র দেখে ক্রোধে অগ্নিশর্মা। কাঁচামালের কণ্ঠের ফোন পেয়েই বলেন, আপনি আমাকেই বলুন, হোয়াট ইজ বিবিসি; বিবিসি কারা; যে বৃটিশ দুশো বছর উপনিবেশের নিষ্পেষণে মেহনতি মানুষকে নির্যাতন করেছে; তাদের মিডিয়াকে আমি বিশ্বাস করবো কি করে! আমি শুধু জানি জুলাই আমাদের পরম মমতার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটুকু কেড়ে নিয়েছে। আমি আগেই বলেছিলাম ডানপন্থীদের নির্মূল করতে। কিন্তু তা তো হলো না। খেয়াল করুন, বিবিসি একজন ডানপন্থীর বয়ানে স্টোরিটা বলেছে। এটা আমাদের গল্প নয়; যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম।

অধ্যাপক কর্নেল কলিমুল্লাহ কাঁচামালের বেলার ফোন পেয়ে বলেন, বিবিসি মহোদয় মাননীয়া হাসিনাকে নিয়ে যে প্রামাণিক চিত্র ছেড়েছে; বুকে পাথর চাপা দিয়ে আমি তা দেখেছি। অথচ মার্কিন ককাসে মাননীয় কংগ্রেসম্যান জিব্রাল্টার হোয়াইটম্যান বাংলাদেশে মিডিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ে উনার কনসার্ন প্রকাশ করেছেন। সেটাই হতে পারতো আজকের কাঁচামাল মিডিয়াগুলোর শিরোনাম। সেখানে বিবিসি মহোদয় এসে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমেরিকাকে ম্যানেজ করলে বৃটেন পাঞ্চ দেয়, বৃটেনকে ম্যানেজ করলে এমেরিকা পাঞ্চ দেয়; এমনি দোলাচলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। দেখার বিষয় আমাদের রিপাবলিক টিভি কি অর্ঘ্য নিয়ে আসে। আমি খোলা চোখে যা দেখছি, ইউনুস মহোদয় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষার পরীক্ষায় জিরো পেয়েছেন। এই নিয়ে তার চারটি জিরো হলো।

কাঁচামাল প্রতিদিন ফোন করে রাজনীতিক সালাউদ্দিন আহমেদকে। তিনি বলেন, রাজনীতিতে আবেগের মূল্য নেই। বিবিসির প্রামাণ্য চিত্র হওয়া উচিত ছিলো নির্বাচন বিষয়ে। কারণ নির্বাচন ছাড়া আমি কোন সমাধান দেখি না। আমি গণতান্ত্রিক মানুষ। কোনদলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। নির্বাচনে সবাই অংশ নিক; জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই ক্ষমতায় যাবে। নির্বাচিত সরকার ছাড়া কারো পক্ষে কোন সংস্কার করা সম্ভব নয়। নির্বাচন বিষয়ে কোনো প্রামাণ্যচিত্র এলে আমাকে ফোন করবেন প্লিজ।

কাঁচামাল টোয়েন্টিফোর টিভির টকশোতে এসে পড়েন রাজনীতিক ফজলুর রহমান, তিনি কপাল চাপড়ে বলেন হায়রে আল্লাহ যেই দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্মান নাই; বঙ্গবন্ধুর সম্মান নাই; সেইখানে বিবিসির কি এক ডকুমেন্টারি নিয়া নাইচা উঠলেন আপনারা। লেথাল উইপন চেনেন আপনারা; হায়রে হায় উইপন না চিইনা আপনারা তা নিয়া কথা বলেন। আমি লেথাল উইপন চালাইতে টেরনিং নিছিলাম; একাই ৪৯টা এনিমি চিত কইরা ফালাইছিলাম। হের পর কমান্ডার আমারে কইলো, তুমি একাইতো সবগুলিরে পাইড়া ফালাইলা; আমরা তাইলে কি ফালাইতে আইলাম! হুইনা রাখো হাঁটুর বয়সী পোলাপান, অস্ত্র জমা দিছি টেরনিং জমা দিইনাই; হায় আল্লারে আল্লা মুইমুনসিংহে বিজয় চত্বর ভাইঙ্গা ফালাইলো রাজাকারের বাচ্চারা।

টিভি হোস্ট বলে, ওটা মির্জা আজম চত্বর; তার আব্বা ছিলো রাজাকার কাশু মির্জা। বাপে যাই হোক, পোলায় সাচ্চা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা; আমারে সে ডরাইতো। আরে আমারে তো তারেকই ডরায়। আমার ওয়াইফরে ফোন কইরা জিগায়, উনার মেজাজ-মর্জি ভালো থাকলে দেন একটু কথা বলি।

টকশো টকার গোলাম মওলা রনি কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, একটা দেশের রাষ্ট্রপতি মবের ভয়ে লুকিয়ে থাকে, মানুষের নাম চুপ্পু হলেই কি তাকে চুপচাপ থাকতে হবে; তাকে আসলে চুপ করিয়ে দেয়া হয়েছে; সেসব নিয়ে কথা হওয়া দরকার। বিদেশী মিডিয়া কখন কি উদ্দেশ্যে কি করে তা আমরা অনেকটাই বুঝি। এদিকে দেশি মিডিয়ার ধনধান্য পুত্র ভরা আমাদের বসুন্ধরাকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে জুলাই বিপ্লবীরা; এর একটা বিহিত করা দরকার।

 সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, বিবিসির ডকুমেন্টারি দিয়া আমার কি কাজ; আমার চাই শক্তিশালী অর্থনীতি। দেশের অর্থনীতির অবস্থা কি জানেন; ব্যাংকগুলিতে যে লালবাতি জ্বলছে সেইদিকে হুঁশ আছে! উপদেষ্টাদের যোগ্যতা কি! কিসের ভিত্তিতে উপদেষ্টা হইলো তারা। হাসিনারে হটাইছেন ভালো কথা; কিন্তু আপনারা কি হাসিনার চেয়ে কম কিছু! ইলেকশন দিয়া বিদায় হন।

কাঁচামাল ট্রিবিউন বিবিসির প্রামাণ্য চিত্র সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করে দার্শনিক ফরহাদ মজহারকে। উনি রেগে উঠে বলেন, পশ্চিমা মিডিয়া দেখলেই আপনারা এমন আদেকলামি কেন করেন বলুন তো! এটা কি কলোনিয়াল হ্যাং ওভার। এমেরিকা রেজিম চেঞ্জ করতে পারে; কিন্তু ইনসাফ কি দিতে পারে। লিবিয়ার গাদ্দাফিকে হটিয়ে কি দিয়েছে তারা লিবিয়ার মানুষকে! বিপ্লবী সরকার যদি শহীদ মিনারে শপথ নিতো; তবে এটা বিপ্লবী সরকার হতে পারতো। এখন আর শাসনতন্ত্রে হাত দিতে পারবেন! পারলেন না তো। সাম্রাজ্যবাদী প্রেসক্রিপশনে আপনারা এমন ওষুধ গিলেছেন যে; রাষ্ট্র সংস্কার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আপনারা আমার কোন কথা শুনলেন না! এখন পস্তাতে থাকুন!

কাঁচামাল নিউজ টোয়েন্টিফোর বিবিসি প্রামাণ্যচিত্র সম্পর্কে অভিমত জানতে ফোন করে রুমিন ফারহানাকে। রুমিন ফিসফিস করে বলেন,  হ্যালো, আস্তে আস্তে কথা বলুন; আগে একদম ভয় পেতাম না; এখন খুবই ভয় পাই। গাড়িতে আগে একা ঘুরতাম, এখন কাউকে একজনকে নিয়ে নিই। বিবিসি প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আর কি মন্তব্য করবো। মনটা ভেঙ্গে গেছে। আগে উত্তর দিন কেন ৩২ নম্বর মব লেলিয়ে দিয়ে ভাঙ্গা হলো, হিন্দি গান বাজিয়ে নাচা হলো।

ওদিকে সহমত ভাই, শিবব্রত দাদা, ললিতা দিদি, আনারকলি আপা কোন মুখ নিয়ে ফেসবুকে আসবে তা স্থির করতে পারে না। চারিদিকে সবাই লেথাল উইপন লেথাল উইপন করছে। সহমত ভাই ভাবে, ইস কোথাও যদি মবের কবলে পড়ে কেউ মারা যেতো; তাহলে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে মব মব করতে করতে ঢুকে পড়া যেতো ফেসবুকে। শিবব্রত দাদা চোখ বন্ধ করে ধ্যান করে, কোথাও একটা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙ্গা হলে "এদেশে আর হিন্দুদের থাকতে দেবে না" বলে ভিক্টিম কার্ড ফেলে এন্ট্রি নেয়া যেতো। ললিতাদি কল্পনা করে, দাড়ি টুপিওয়ালা একটা লোক গিয়ে কোন পথচারী নারীকে ওড়না ঠিক করতে বলতো যদি, দেশটা আফঘানিস্তান হয়ে গেলো বলে আর্তনাদ করে ওঠা যেতো। আনারকলি আপা বুদ্ধি দেয়, চলো, ছেলেটার জ্বর এসেছে, মাকে হাসপাতালে নিয়ে এলাম-দোয়া করবেন, ফুপার হার্টের অপারেশন হচ্ছে; রক্তের প্রয়োজন বলে মন খারাপের ঝাপটা দিয়ে ফেসবুকে কামব্যাক করি। তখন কিছু মানুষের সিম্প্যাথি পেলে সন্ধ্যা নাগাদ, আগেই ভালো ছিলাম-স্টেপডাউন ইউনুস গানটা গাওয়া যাবে।

(এই রম্য রচনা কাল্পনিক প্রতিক্রিয়ার সমাহার মাত্র)

১৭৯ পঠিত ... ১৮:১১, জুলাই ০৯, ২০২৫

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top