অলিম্পিকে এবার ইতিহাস গড়েই সাঁতারে সোনা জিতেছেন আমেরিকান সাঁতারু ড্রেসেল। কিন্তু সোনা-ডায়মন্ড যা-ই জেতেন, সাঁতারে বাংলাদেশিদের ধারেকাছেও হয়তো থাকবেন না এই সাঁতারু। এই আসরে ৫টি সোনা জেতা এই সাঁতারুকে রীতিমত ওপেন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বসেছেন ঢাকার মিরপুর-মতিঝিলগামী এক চাকরিজীবী।
ড্রেসেলের উদ্দেশ্যে এই চাকরিজীবী এক নিঃশ্বাসে বলেন, 'তুমি সাঁতার কাটো ওই সুইমিংপুলে, আর আমি সাঁতার কাটি ঢাকার মত বর্ষাকালীন আন্ডারওয়াটার সিটির সবচেয়ে লম্বা রুটে। উই আর নট সেইম ব্রো। থরে থরে পরিকল্পনামাফিক সাজানো ওই রিমের সাঁতার আর চাকরি বাঁচানো অ্যাডভেঞ্চারাস সাঁতারে রাতে দিনের তফাৎ ড্রেসেল মিয়া। একবার এক রিমে আসলে মিরপুর ১০ নাম্বারে গিয়া ডাইনে যাবা নাকি বামে তাই খুঁজে পাবা না। মেট্রোরেলের সবকটা পিলারের লগে ধাক্কা খাইয়া সাঁতার ছাইড়া দেওয়া লাগবে। আমাগোর লগে লাগতে আইসো না। ম্যানহোলে গায়েব হইয়া যাবা।'
জনৈক এই চাকরিজীবীর বক্তব্যে যুক্তিও আছে। সত্যিই তো, ঢাকাবাসীর মত এমন সাঁতার আসলেই কেউ কাটে না। এখানে বেঁচে থাকার জন্য সাঁতার কাটতে হয়। সাঁতার এখানকার মানুষের জীবনের সাথে মিশে গেছে। অলিম্পিকে সোনাজয়ী সাঁতারুকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাবার অধিকার, সাহস আর যোগ্যতা যদি কারো থেকে থাকে তারাতো ঢাকাবাসীই৷
ধানমন্ডি থেকে পল্টনের দিকে অফিস করেন রাহাত নামের এক জীবনসাঁতারু। তিনি বলেন, 'ওই ড্রেসেলরা সামান্য একটা হাফপ্যান্ট পইরা সাঁতার কাটে, ওইটাও ভিজে যায়। আর আমরা ফরমাল ড্রেস পইরা জামাকাপড় সম্পূর্ণ শুকনা রাইখা সাঁতার শেষে অফিস করি, মিটিং করি, ক্লায়েন্টের লকে ক্যাচক্যাচ করি, আবার বাসায় আসি। ওরা আমাদের সাথে কিসের সাঁতার চ্যালেঞ্জ করবে। এই ঢাকায় প্রতিটি অলগলিতে ডজন খানেক করে ফেলেপস, ড্রেসেল জন্মায়৷ তাও সাহস থাকলে আসুন, কম্পিটিশন লাগি। আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখে যান।'
এদিকে নিজের ফেক আইডি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সফল সাঁতারু ফেলেপস এবারের পদকজয়ী ড্রেসেলকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। ড্রেসেলকে ট্যাগ করে তিনি বলেন, 'যাইস না ভাই। আমি গেছিলাম একবার, সেই স্মৃতি এখনো আমাকে হতাশ করে দেয়। সেই হতাশায় ফিটনেস থাকার পরেও আর অলিম্পিক খেলি নাই। রিমে নামলেই দেখি, আমি এক ম্যানহোলের ভিত্রে পইড়া গেছি, নিচের দিকে তলায়া যাচ্ছি, ক্যামেরাম্যান চ্যাংদোলা অবস্থায় আমার ছবি তুইলা ফেলতেছে।'
এ পর্যায়ে বর্ষাকালীন ঢাকা শহরকেই অলিম্পিক সাঁতার প্রতিযোগিতার ফিক্সড ভেন্যু হিসেবে নির্বাচনের পক্ষে মতামত দেন তিনি।


