ঐতিহ্যগতভাবে পুরান ঢাকার মানুষের পেটে বিরিয়ানি মুখে আবে হালা লেগেই থাকে। কিন্তু গতরাতে পিএসজি বনাম রিয়াদ মাদ্রিদের ম্যাচের পর বদলে গেছে পুরান ঢাকার চিত্র। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের মুখে বহুল প্রচলিত আবে হালা শব্দ দুটির বদলে স্থান নিয়েছে ‘আবে হালি’।
মানুষের গল্প, আড্ডা, এমনকি দৈনন্দিন কথোপকথনে শোনা যাচ্ছে আবে হালি। শব্দের এই পরিবর্তনের রহস্য উন্মোচনের জন্য চা-বিড়ি খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে চলে গিয়েছি সরেজমিনে। গলির মোড়ে ফুটবল হাতে ইলিয়াস জুনিয়র নামের এক শিশুর কাছে ব্যাপারটি নিয়ে সে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি পরা শিশুটি বলেন, এইসব ভূয়া কথাবার্তা! এই আবে হালি এখনকার আবে হালি না, এটা আসলে ২০১৬ সালের হলি আর্টিসানের আবে হালি! থুক্কু কী বলি! এখন এআই-দিয়ে এইগুলা ছড়ানো হচ্ছে।
এক পর্যায়ে রেগে গিয়ে এই শিশু বলে, ওই মিয়া! আপনি কি পিএসজি-বার্সা ঐক্যজোটের সদস্য নাকি? আমাদের কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই চারটি ডিম হাতে সে আমাদের প্রতিনিধি ও ডক্টর শহীদুল্লাহকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে ডিম ছুঁড়ে মারলে একটা ডিম শহীদুল্লাহ সাহেবের পাঞ্জাবিতে পড়ে।
পুরান ঢাকার রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকরা এই শব্দ পরিবর্তনের জন্য বার্সা-পিএসজি ঐক্যজোটকে দায়ী করেন। তবে বার্সা-পিএসজি ঐক্যজোট বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে। তারা বলছেন, এটি ভাষার স্বাভাবিক পরিবর্তন। পৃথিবীর যেকোনো ভাষার পরিবর্তন দেখলেই আপনারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। এই প্রজন্ম নতুনত্ব এবং পরিবর্তনে বিশ্বাসী। ভাষা পরিবর্তনের মাধ্যমে কারো সেন্টিমেন্ট হার্ট করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
বিষয়টি নিয়ে ভাষাবিদ ড মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাষা আমাদের পরিচয়। ভাষাকে বিকৃতি করা ঠিক না। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ফ্যান পেয়ে গেলে আবে হালি বললে কোনো সমস্যা হবে না।
এই তিনি আবে হালি বলে আবারও দৌড় দেন।
মনীষী ফরহাদ মাজহারের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখেন, সংবিধান ছুঁড়ে ফেলা ছাড়া এইসব সমস্যার কোনো সমাধান নাই। আমি শুরু থেকেই এটা বলে আসছি।