জর্জ বুশকে নিয়ে ১০টি বিস্ফোরক কৌতুক

২৭৬৬ পঠিত ... ১৫:০৭, জুলাই ০৬, ২০২০

জর্জ ডব্লিউ বুশ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩তম প্রেসিডেন্ট। তবে হাস্যরসিকদের কাছে তিনি চিরস্মরণীয়, কারণ ইতিহাসের অন্যতম নিন্দিত ও সমালোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশকে নিয়ে রয়েছে অজস্র জোক। বেশিরভাগ জোকেই তাকে দেখানো হয় স্থূলবুদ্ধির ব্যক্তি হিসেবে। চলুন পড়া যাক তাকে নিয়ে কিছু বিস্ফোরক, মানে ফাটাফাটি জোক।

 

১# 

আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ লং ড্রাইভে বেরিয়েছেন। কিছুদূর যাওয়ার পর দুর্ঘটনাবশত একটি গাধা তার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা গেল। বুশ ড্রাইভারকে বললেন-  এই নাও ১০০ ডলার, গাধার মালিককে ক্ষতিপূরণ বাবদ দিয়ে এসো। 

কিছুক্ষণ পর ড্রাইভার ফিরে এসে হাসতে হাসতে বলল, এই নেন স্যার ১৫০ ডলার। 

: ১৫০ ডলার পেলে কোথায়? 

: স্যার, গাধার মালিক খুশি হয়ে আমাকে ৫০ ডলার দিয়েছে।

: কেন? তুমি কী বলেছো?

: কিছুই না। শুধু বলেছি, আমি বুশের ড্রাইভার, গাধাটা কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে! 

 

২#

বুশের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি হয়ে গেছে। সাংবাদিকেরা ছুটে গেল তাঁর কাছে, শতদিন পূর্তির প্রতিক্রিয়া জানতে, ‘হোয়াইট হাউসে এই ১০০টা দিন কেমন কাটল আপনার?’ বুশ যেন আকাশ থেকে পড়লেন, ‘বলো কী, এক বছর হয়ে গেছে!’ 

 

৩#

নানা কারণে বুশের ওপর ত্যক্তবিরক্ত এই মার্কিন বুড়ো গেছেন পানশালায়, গলা ভেজাতে। এমন সময় টিভিতে বুশের ভাষণ দেখানো শুরু হলো। বুড়ো চটে গিয়ে বলে উঠলেন, ‘আবার সেই গাধার কথা শুনতে হবে!’

এই কথা শুনে পানশালার রক্ষী রীতিমতো চটে গেলেন। বুশকে গাধার সঙ্গে তুলনা! দিলেন বেদম মার। মার খেয়ে ওই বুড়ো কাঁদো কাঁদো গলায় রক্ষীর কাছে জানতে চাইলেন, ‘ভাই, তুমি বুঝি বুশের খুব ভক্ত।’ নির্লিপ্ত কণ্ঠের জবাব এল, ‘না, আমি গাধার ভক্ত।’

 

৪#

বুশের তৃতীয় স্তরের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ইন্টারনেটে অজস্র কৌতুক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সত্যি বলতে কি, এর গোটাকয় কৌতুক বুশ নিজেও পড়েছেন। বলা বাহুল্য, বুশের মন খুব খারাপ। তিনি ডেকে পাঠালেন তাঁর বিশ্বস্ত বন্ধু ডিক চেনিকে, ‘ডিক, সবাই আমার বুদ্ধি নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করে। লোকে বলে, আমিই নাকি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বোকা লোক!’

চেনি মুখে বললেন, ‘কে বলেছে তোমাকে। আসলে গড়পড়তা যুক্তরাষ্ট্রের সবাই বোকা।’ আর মনে মনে বললেন, ‘তা না হলে তোমাকে ভোট দেয়!’ চেনির কথা শুনে বুশ একটু আশ্বস্ত হলেন, ‘তাই নাকি!’ চেনি বললেন, ‘চলো তোমাকে হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিই।’

এই বলে বুশকে নিয়ে ডিক চেনি গিয়ে দাঁড়ালেন রাস্তায়। এক ট্যাক্সিচালককে বললেন, ‘ওহে, আমাকে বাসায় নিয়ে চলো তো। গিয়ে দেখি আমি বাসায় আছি কি না।’ কথামতো চালক চেনিকে পৌঁছে দিলেন বাসায়। চেনি বুশকে বললেন, ‘দেখেছো, ব্যাটা কত বড় গর্দভ। আমি বাসায় আছি কি না সেই খোঁজ নেওয়ার জন্য আমাকেই কিনা বয়ে নিয়ে এল বাড়িতে।’ বুশও বি্নিত, ‘তাই তো! কিন্তু তুমি এত কষ্ট না করে বাসায় একটা ফোন দিয়ে দেখতে পারতে।’

 

৫#

একটি খবরঃ মেয়ের সমাবর্তনে যাননি বুশ

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা: গতকাল ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাঁর মেয়ে বারবারার সমাবর্তনে যাননি। মেয়ের স্মাতক সম্পন্ন হওয়ার দিনটায় বাবাকে পাশে না পাওয়ার কারণ হিসেবে হোয়াইট হাউসের তরফে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বুশকে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভেতরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষাজীবনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ার সময় অসংখ্য টার্ম পেপার বুশ জমা দেননি। বুশের ভয়, পাছে অধ্যাপকেরা সেই টার্ম পেপারগুলো চেয়ে বসেন!

 

৬# 

: জর্জ বুশ কেন প্রতিদিন ৯: ১০- এ ঘুমাতে যান? 

: কারণ ৯:১১'র পরে ভালো কিছু ঘটে না। 

 

৭#

জর্জ ওয়াশিংটন একদিনের জন্য পৃথিবীতে আসার ইচ্ছা পোষণ করলে ঈশ্বর তার ইচ্ছা পূরণ করলেন। সমাধি থেকে বেরিয়ে এসেই তিনি সামনে সমাধিস্থানের কেয়ারটেকারকে দেখতে পেলেন। এতোদিন পর পৃথিবীতে ফিরে এসে জর্জ ওয়াশিংটন বেশ ক্ষুধা অনুভব করছিলেন। কেয়ারটেকারকে বললেন, তুমি কি আমার জন্য একটু শিক কাবাবের ব্যবস্থা করতে পারবে? কবর থেকে বেরুনো ওয়াশিংটনকে দেখে কেয়ারটেকারের তখন ভিড়মি খাওয়ার অবস্থা। এক্ষুণি ব্যবস্থা করছি স্যার, বলেই কেয়ারটেকার দে ছুট। ফোনবুথে প্রবেশ করেই সে ফোন দিল জর্জ বুশের কাছে। একটু পরে জর্জ বুশ কেয়ারটেকারকে নিয়ে ছুটে চলে আসেন সমাধিস্থানে। বুশকে দেখে ওয়াশিংটন তখন বিরক্ত কণ্ঠে কেয়ারটেকারকে বললেন, তোকে আনতে বললাম শিক কাবাব আর তুই কি না আস্ত গরুই নিয়ে এলি?

 

৮#

: ১ থেকে ২০ পর্যন্ত বিজোড় পূর্ণ সংখ্যার তালিকা করো

: ১, ৩, ৫, ৭, জর্জ বুশ, ১৩, ১৫, ১৭, ১৯

 

৯#

টলতে টলতে বুশ এসে হাজির হলেন এক পানশালায়, ‘অ্যাই, আমাকে চার পেগ হুইস্কি দাও।’ টপাটপ চার গ্লাস লাল পানীয় নেমে গেল বুশের গলা বেয়ে। ‘অ্যাই, আমাকে এবার তিন পেগ হুইস্কি দাও।’ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিন গ্লাস মদ সাবাড়। বুশের কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি ঠিকমতো বসতেই পারছেন না। জড়ানো গলায়ই অর্ডার দিলেন, ‘অ্যাই, আমাকে এবার দুই পেগ হুইস্কি দাও।’ এবার মদ হাজির হতে না হতেই চলে গেল বুশের পেটে।

বার কয়েক হেঁচকি তুলে বুশ বললেন, ‘হিক্‌, ঘটনাটা কী! যতই কম মদ খাচ্ছি, ততই বেশি মাতাল হচ্ছি। হিক্‌!’

 

১০#  

বুশ তখন ক্ষমতায়। আর ডিক চেনি আর বুশ বসে ফিসফিস করছেন। এসময় সেদিকে যাচ্ছিলেন হিলারি ক্লিন্টন। বুশকে দেখে বললেন, তোমরা কী নিয়ে আলাপ করছো? 

: আমরা ঠিক করেছি ইরাকে এক লক্ষ লোক আর একজন সাইকেল মেকানিককে হত্যা করবো। 

হিলারি অবাক হয়ে বললো, সাইকেল মেকানিক আবার কী করলো?

বুশ এক গাল হেসে ডিক চেনির দিকে তাকিয়ে বললো, দেখেছো, বলেছিলাম না, এক লক্ষ ইরাকি নিয়ে কেউ মাথাই ঘামাবে না?

২৭৬৬ পঠিত ... ১৫:০৭, জুলাই ০৬, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top