মুভিখোর বন্ধুবর

৩৪৭ পঠিত ... ১৭:৩১, আগস্ট ০৮, ২০২২

Moviekhor-bondfhu

বন্ধুদের প্রতিটি গ্রুপেই কিছু 'পাগলা' মুভি ফ্যান থাকে। দেখুন তো এরাই আপনার সেই বন্ধু কি না!

 

উড়াধুরা তামিল ফ্যান: এককথায় বলতে গেলে, তামিল ছাড়া তাদের চলেই না। উড়াধুরা মারপিট আর টুইস্টের পর টুইস্টে মোহমুগ্ধ থাকে তারা। তবে একটা সমস্যা আছে। ক্ষুধা লাগলে পেট ভরে খেলেও তারা মজা পায় না। কারণ টুইস্ট তো ছিলো না! যদি এমন হতো ভরপেট গাপুসগুপুস খাওয়ার পর আরও তীব্র ক্ষুধা লেগেছে, তাহলেই তাদের 'ফিল' আসে!

 

ভূতের বাচ্চা: ভূতের মুভি তাদের এতো পছন্দ যে মনে হয় একেকটা ভূতের বাচ্চা। কিন্তু একা দেখতে পারে না। 'দোস্ত, আয় না প্লিজ। আমার ভয় লাগে না, কিন্তু দুইজনে দেখলে বেশি হরর লাগে। এটাই বড় ব্যাপার'-এটা তাদের প্রিয় বাক্য। এরা রাতে একলা ঘুমাতে পারে না!

 

আবেগী বন্ধু: এরা বিরল প্রজাতির প্রাণী। ক্ষণে ক্ষণে আবেগী হয়ে যায়। নায়িকা পিঁয়াজ কাটছে, তাই তার চোখে পানি। এটা দেখেও এই বন্ধুকুল আবেগী কাইন্দালায়।

 

কড়া সমালোচক: এরা পত্রিকার কলাম লেখকের চেয়ে কোনো অংশে কম না। মুভি দেখে এতো ছিদ্র করে যে 'দাবাং' মুভির সালমান খানের সংলাপ মনে পড়ে যায়!

 

ঠু মাচ এডাল্ট: এই বন্ধুদেরকে নিয়ে আর কী লিখব! ইয়ে সীন না থাকলে তাদের ইয়েই হয় না!

 

মুভিতে ঢুকে যাওয়া বন্ধু: এই বন্ধুরা হরহামেশা মুভির ভেতর ঢুকে যায়। শুধু ঢুকে যায় না। নির্দেশনা দেওয়া শুরু করে। যেমন: ওররে মাম্মা! এইটাই তো পার্ফেক্ট টাইম। কিসটা কর না ভাই। ধুর হালা! ফাউল নায়ক একটা! হালায় রাইট মোমেন্টে কিসটাও করতে পারে না। মুভিতে নেয় কেন এগুলারে!

 

'স্ট্যাটাস'ওয়ালা বন্ধু: তারা মুভি দেখা শুরু করে ফেসবুকে 'watching' স্ট্যাটাস দিয়ে। আপনি কমেন্ট করবেন, কেমন হলো জানাইস বন্ধু। সাতদিন পরেও শুনবেন সে এখনো পুরো মুভি দেখে নাই!

 

'অল ওয়াচড' বন্ধু: এরা বেশি মুভি দেখে নাই। কিন্তু এমন ভান করে, পৃথিবীর সব মুভির সেন্সরপত্র তারা দিয়েছে। এরা কথায় কথায় এমন মুভি দেখার গল্প করে যে মুভি এখনও রিলিজ হয় নাই!  

 

সাজেশনখোর বন্ধু: দোস্ত, কিছু ভালো মুভি সাজেস্ট কর। সাজেস্ট করবেন। আপনি মনে রাখবেন। সে ভুলে যাবে! আবার অধীর আগ্রহে সাজেশন চাইবে। আবার ভুলে যাবে!

 

সবসময় মুভিময়: এদের অবস্থা অনেকটা এরকম: ‘কী করিস?’ ‘মুভি দেখি।‘ ‘খাবি না?’ মু’ভি দেখার পর খাবো।‘ ‘খাওয়ার পর কী করবি?’ ‘মুভি দেখবো।‘

 

ক্রাশিত পাবলিক: এরা নায়ক-নায়িকার হাসির মাঝে নিজের সাবেক/বর্তমান/ভবিষ্যৎ প্রেমিক-প্রেমিকার মিল খুঁজে পায়। ভিলেনের হাসিতে কাকে খুঁজে পায় সেটা নাই বা বললাম!

 

ভাব ধরা বন্ধু: এরা বিচিত্র প্রাণী। দেখবে এক টাইপের মুভি। বন্ধুর সাথে গল্প করবে অন্য টাইপের মুভি নিয়ে অর্থাৎ যেটা নিয়ে গল্প করলে সামাজিক মর্যাদা বেড়ে যায়। কথায় কথায় দাঁতভাঙা টাইপ পরিচালকের নাম বলবে।

 

ড্যামকেয়ার বন্ধু: এরা তেমন বেশি মুভি দেখে না। কারণ ব্যস্ত না থাকলে তারা টাইটানিকের মতো মুভির

চিত্রনাট্য সপ্তাহে দুইটা করে লিখতে পারতো বলে তাদের বিশ্বাস। যারা বেশি মুভি দেখে তাদেরকেও এরা আকাইম্মা মনে করে।

 

কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত: ইদানীং এই বন্ধু বেশি দেখা যাচ্ছে। তাদের একটাই কথা, একবার কোরিয়ান মুভি দেখা শুরু কর। জীবনে অন্য কোন দেশের মুভি দেখতে চাইবা না।

 

সিনেপ্লেক্স মুভিবাজ: এরা সাধারণ জনতার কাতারে পড়ে না। সিনেপ্লেক্সে মারভেলের মুভি এলেই  হামলে পড়বে টিকেটের লাইনে।

 

ক্লাসিক মুভিখোর: এরা ভুল করে এই জমানায় জন্মেছে বলে তাদের বিশ্বাস। তাদের চোখে এখনও রঙিন চশমা মানায় না। সাদা-কালোয় রঙিন তাদের জীবন। সুযোগ পেলেই মাইকেল কুরটিজ, হিচকক, বার্গম্যান, ঋত্বিক ঘটক নিয়ে আলাপ জুড়ে দেয়।

 

মাই সুইটহোমপ্লেক্স: তারা চেক ইন দিবে 'watching at star cineplex'। অথচ গিয়ে দেখেন ল্যাপটপ কোলের উপর নিয়ে বাসায় বসে মুভি দেখছে!

 

 

৩৪৭ পঠিত ... ১৭:৩১, আগস্ট ০৮, ২০২২

Top