বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত ৩ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৪৬ মিলিমিটার পরিমাণ রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির নানান রূপ শুধু পৃথিবীর বুকে নামলেই তো আর হয় না। নিউটনের তৃতীয় সূত্রের মানে কজনেই বা মানে? কজনই বা মর্ম বোঝে যে প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। কিন্তু এবার চট্টগ্রামের মেয়র সেটা শুধু ভাবেনই নি, করে দেখিয়েছেন। তিনি বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতা ধরে রাখতে আন্তরিকতা দেখিয়ে চট্টগ্রামকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়, অন্তত ২-৪ ফুট তো বটেই।
এদিকে এমন জলাবদ্ধতায় খুশি এলাকাবাসী। চট্টগ্রামে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধিকে ইতালি যেতে ইচ্ছুক এক শহরবাসী বলেন, বড় শখ আছিল ইতালি যামু, ভেনিস ঘুরুম। ভিসা আর পাইতাম নে। অহন দেহি, আমাগো এরিয়াই ভেনিস অইয়া গইছে!
পানিতে নেমে টিকটিক করা অবস্থায় এক তরুণী বলেন, উয়াও! আগে ভাড়া দিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যেতে হত, এখন বাসার মধ্যেই পারছি রিল বানাতে। আচ্ছা ঘরে ঢেউ বানাতে একটু হেল্প লাগবে। আপনি কি একটু পানিতে নামতে পারবেন?
থালবাসন ধুতে থাকা এক আন্টির সাথে আলাপকালে জানা যায় তিনিও খুশী। তাদের এলাকায় প্রায়ই পানি সময়সমত থাকে না। এখন ২৪ ঘণ্টা, এমনি হাত বাড়ালেই পানি। মেয়রকে তিনি করজোড়ে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আঁই ইয়ারে মেজ্জান খাওয়াইতাম চাই।
কিন্তু শোনা যাচ্ছে এ পানি শহর থেকে নাকি নেমে যাচ্ছে সুযোগ পেলেই। জলাবদ্ধতা ধরে রাখার জন্য কিছু করা যায় কিনা এ ব্যাপারে মেয়রের দারস্থ হতে পারে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা কি সত্যিই পূরণ হবে?


