বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া যেন চট্টগ্রাম শহরের অলিখিত ঐতিহ্য। রাস্তা, মোড়, অলিগলি সব মিলিয়ে শহরটা কয়েক ঘণ্টার জন্য রীতিমতো জলরাজ্যে পরিণত হয়। আর এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই নাগরিক সেবায় যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিলেন মেয়র শাহাদাত। শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করলেন ‘সাবমেরিন সার্ভিস’।
নিজের এক ফেক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি জানান, বর্ষায় মানুষের কষ্ট আর দেখতে পারি না। তাই ভাবলাম, রাস্তা শুকানোর অপেক্ষা না করে মানুষকেই পানির নিচে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিই। আশা করি সাবমেরিন সার্ভিস মানুষের জীবন সহজ করবে। আর যারা এতদিন শুধু 'ডুবে ডুবে পানি খাওয়া' প্রবাদটাই শুনেছেন, এবার সেটা বাস্তবেও উপভোগ করতে পারবেন। জানা গেছে, এই সার্ভিসে যাত্রীরা চাইলে পানির নিচ থেকেই নিজের বাসার সামনে নেমে যেতে পারবেন। অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে প্রতিটি সাবমেরিনে থাকবে লাইফ জ্যাকেট, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং রাস্তার গর্ত শনাক্ত করার বিশেষ প্রযুক্তি।
তবে পোস্টের কমেন্টে কয়েকজন নাগরিক ‘ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে সাবমেরিন কেন?’ এমন প্রশ্ন তুলতেই পরিস্থিতি জটিল হতে পারে ভেবে মেয়র দ্রুত পোস্টটি ডিলিট করে দেন। পরে অবশ্য ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পোস্ট ডিলিট হলেও সাবমেরিন প্রকল্পের স্বপ্ন এখনো পানির মতোই প্রবাহমান। এদিকে মেয়রের এমন অভিনব উদ্যোগে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার। অনেকেই বলছেন, এমন সার্ভিস থাকলে সারাবছর বৃষ্টি হলেও সমস্যা নেই। কেউ কেউ আবার দাবি তুলেছেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আন্ডারওয়াটার বাসস্ট্যান্ড, পানির নিচে ফুচকার দোকান এবং আন্ডারওয়াটার রেস্টুরেন্ট চালুর। একজন উৎসাহী নাগরিক বলেন, "যেহেতু শহর প্রতি বর্ষায় সমুদ্র হয়ে যায়, তাই পর্যটন খাতেও বিপ্লব আসবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের যানবাহনের তালিকায় বাস, সিএনজি ও রিকশার পাশাপাশি ‘লোকাল সাবমেরিন’ও যুক্ত হবে। আর আবহাওয়া অফিসে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হলেই নাগরিকদের উদ্দেশে ঘোষণা দেওয়া হবে, ছাতা নয়, আজ সঙ্গে সাবমেরিন নিয়ে বের হন।


