ফেসবুক জুড়ে ঘটেছে এক অদ্ভুত ঘটনা! দুনিয়ার যাবতীয় ফল ও সবজি কথা বলা শুরু করেছে। লুঙ্গিসহ নানা ধরনের উদ্ভট পোশাক পরে, তুই-তোকারির সঙ্গে গালিগালাজ করেই চলছে সবজির দল আর ফলের ফল! প্রথমদিকে জিনিসটা মজা থাকলেও এখন গিয়ে ঠেকেছে আতঙ্কে। দেশের আপামর গৃহকর্মীরা জানাচ্ছেন, এই কথা বলা ফল-সবজির কারণে তারা রান্নাবান্না করতে পারছেন না।
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে শেওড়াপাড়া ৭২ নম্বর পিলারের পাশের বাসার এক গৃহকর্মী বলেন, অবস্থা বেগতিক! সবজি হাতেই নিতে পারছি না। মনে হচ্ছে হাতে নিলেই তুই-তোকারি করা শুরু করবে! গালাগাল দেবে। সেজন্য রান্নাবান্নাও বন্ধ! কী করব, কী খাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
ঘটনার ভয়াবহতা কেবল রান্নাঘর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন ডাইনিং টেবিল, এমনকি শিশুদের টিফিন বক্স পর্যন্ত গড়িয়েছে। রাজধানীর এক সচেতন মা আক্ষেপ করে বলেন, ছেলেকে আপেল কেটে দিতে গিয়েছিলাম, ওমনি আপেলটা লুঙ্গি মালকোঁচা মেরে বলে উঠল, কীরে, আমাকে কাটছস কেন? তোর সাহস তো কম না! এই শুনে আমার ছেলে তো ভয়ে টেবিলের নিচে! এখন ফল-মূল দেখলেই সে কান্নাকাটি শুরু করে। পুষ্টির বারোটা তো বাজলই, সঙ্গে ঘরের শান্তিও হাওয়া।
এমনকি বাজারের ব্যাগ থেকেও এখন ভেসে আসছে অদ্ভুত সব গালিগালাজ আর তর্কের শব্দ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পাড়ার কাঁচাবাজারগুলোতে এখন আর আগের মতো ভিড় নেই। ব্যাগ হাতে নিলেই যদি বেগুন বলে ওঠে, 'এই ব্যাটা, ধরছ কেন?' তবে কারই বা আর বাজার করার শখ থাকে!
মনোবিদরা বলছেন, এই সবজি-আতঙ্ক কাটাতে হলে হয় সবজিদের ভদ্রতা শেখাতে হবে, না হয় ফেসবুক স্ক্রলিং কমিয়ে বাস্তবে ফিরে আসতে হবে। কারণ দিনশেষে ডাল-ভাতই আসল, ফেসবুকের ওই কথা বলা লুঙ্গি-পরা সবজিগুলো নয়।


