১১তম বারের মতো আবারও জেলে গেলেন সংগীতশিল্পী মঈনুল আহসান নোবেল। নোবেলের এতবার জেলে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে দক্ষিণ আফ্রকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে জানলে নোবেলই নিতাম না।
কণ্ঠে ক্ষোভ নিয়ে তিনি আরও বলেন, কারাগারে দুই ধরনের মানুষ যায়; যারা অপরাধ করে, আর যারা ভীষণভাবে সঠিক পথে চলে। এই ছেলেটা তো আমার জেলে যাবার, থাকবার রেকর্ড ভেঙে দেবে। তা দেয় দিক, কিন্তু কারাগারে যেতে হলে তো আগে বের হতে হয়! এই নোবেল ছেলেটা কখন জেলে যায়, আর কখন বের হয় কিছুই বুঝি না। দিন তো ছিল আমাদের সময়ে। ইন দ্যা ইয়ার ১৯৬২, সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করে মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে সেই যে আটক হলাম, টানা ২৭ বছর কারাভোগ করেছি, কত কষ্ট সহ্য করেছি। কথাগুলো বলার সময় দুঃখ ফুটে ওঠে নেলসন ম্যান্ডেলার অভিব্যক্তিতে।
স্বগোতক্তি করে ম্যান্ডেলা বলেন, আচ্ছা, ওর কি কোনো বাৎসরিক টার্গেট আছে জেলে যাবার? কোনো আলাদা অর্বছর আছে নাকি; নোবেল অর্থবছর?
এই ছেলে সব সরকারের আমলে জেলে যাচ্ছে। অং সান সুচির গৃহবন্দীর রেকর্ড এই ভাঙল বলে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, কারাগারে যাওয়াটাই যদি কারও লক্ষ্য হয় তবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে নোবেলের আলোচনা থাকা উচিত। শুনেছি ছেলেটা নাকি গান গায়? আমার ধারণা আমার মতো দীর্ঘ সময় সে এক জায়গায় থিতু হলে ক্যারিয়ারে ভালো করবে। তার জন্য উচিত নো-বেল ফরমান জারী করা। বারবার আসা-যাওয়ার ভাড়াটাও বাঁচবে, দেশের অর্থনীতি কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।
কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের অভিজ্ঞতার ঝাঁপিতে একটু নাড়া দিয়ে ম্যান্ডেলা বলেন, রবেন আইল্যান্ড, ভিক্টর ভার্স্টার আর পোলসমুর প্রিজন ঘুরে আমি বুঝেছি দীর্ঘদিন একটা জায়গায় থাকলে মায়া পড়ে যায়। নোবেলেরও হয়তো তা-ই হয়েছে। তার আল্টিমেট ঠিকানা যেহেতু জেল, তাই তাকে আলাদা আলাদা জেলে না নিয়ে একটা রুম যদি পাকাপাকিভাবে ম্যানেজ করে দেয়া যায়! ছেলেটা অকাজ করে, গ্রেফতার হয়, জামিন পায়, অকাজ করে, গ্রেফতার হয়, রিমান্ডে যায়, গান গায়, জামিন হয়, অকাজ করে, গ্রেফতার হয়….আর পারি না বাপু। এদিকে আমার আশেপাশের সবাই হাসাহাসি করে। বলে, নোবেল তো তুমি পাইছো। এমন করে কেউ আমায় স্মরণ করাবে বুঝলে আমি জেল থেকে আর বেরই হতাম না, নোবেলও নিতাম না।


