গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় সার্চ পার্টি পরিচালনার সময় রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ ও তার টিমের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর একটি লজিক্যাল বিতর্ক শুরু হয়। এসময় শিক্ষার্থীর শেষ প্রশ্ন ছিল, এতে কী সমীকরণ দাঁড় করাতে চাচ্ছেন? প্রশ্নটি ছিল পুরোপুরি একাডেমিক। অথচ পুলিশ উত্তরটি দিয়েছে ব্যবহারিক। প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে না পেরে পুলিশ যেটা করেছে সেটা অনেকটা পাড়া মহল্লায় খেলা না পারলে অপরপক্ষকে লাঠিপেটা করার মতো অবস্থা।

ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথমেটিকসের জন্য বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটির বেশ কিছু প্রফেসরের চোখে এসেছে বিষয়টা। রমনা জোনের ডিসি একটি সাধারণ সমীকরণ মেলাতে পারেননি, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এমআইটির শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। একাধিক অধ্যাপক নাকি সারারাত ঘুমাতে পারেননি, কারণ একটি অমীমাংসিত সমীকরণ সভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কোনো উপায়ন্তর না দেখে রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদকে ইকুয়েশন শেখানোর প্রস্তাব দিয়েছে এমআইটির স্কুল অফ ম্যাথমেটিকস। পর্যায়ক্রমে তার পুরো টিমকে ইকুয়েশন শেখাতে চান তারা।
স্কুল অফ ম্যাথম্যাটিক্সের ডিন eআরকিকে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদালয় এরিয়ায় পুলিশিং করা তো চাট্টিখানি কথা না। দেশের ফার্স্ট ক্লাস নাগরিকদের রাস্তায় আটকালে তারা প্রশ্ন করবে, এটাই স্বাভাবিক। এখন পুলিশ যদি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে তাদের মারতে শুরু করে তাহলে বুঝতে হবে পুলিশ বাহিনীর পড়াশোনায় অনেক ঘাটতি আছে। আমরা এই ঘাটতি মেটানোর জন্য ডিসি মাসুদকে ৬ মাসের র্যাপিড কোর্স করাতে চাই। যদি উন্নতি না ঘটে তাহলে ৪ বছরের বিএসসি পড়ানোর কথা ভাবব।
এদিকে এমআইটি এক আভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি শুধু যে ইকুয়েশন শেখানো হবে তা নয়। পুলিশের প্রফেশনালিজম বাড়ানোর জন্য আরও বিভিন্ন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে তারা। পুলিশকে পালটা কোনো প্রশ্ন করলেই যে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে যায় না, কোন কথার উত্তরে কী বলতে হবে, নাগরিকদের আপনি করে বলার মত কমনসেন্স, অভিযান পরিচালনার সময় তারা ঠিক কী কী করতে পারেন, কী কী করলে নাগরিকের অধিকার লংঘিত হয় এমন নানা বিষয়ে কোর্স থাকবে বলে জানতে পেরেছি।
কাল রাত থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশ বাহিনী যে নতুন পোশাকে পুরাতন পুলিশ (আপার আমলের) পুলিশ হয়ে ফিরে আসতে চাচ্ছে সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঢাবির এক শিক্ষার্থী কমেন্ট করেছেন, পুলিশের ড্রেস পাল্টাইলেই তো আর মন পাল্টাবে না। পুরো পুলিশ বাহিনীকে জাপান কিংবা আমেরিকায় শিশুশ্রেণীতে ভর্তি করানো উচিৎ, এতে করে তাদের ম্যানারে যদি কোনো পরিবর্তন আসে।
ইকুয়েশন না মিললে যদি লাঠিই হয় উত্তর, তাহলে বুঝতে হবে পাঠ্যসূচিতে বেশ বড় একটা ঘাটতি আছে। সংবিধানে প্রশ্ন নিষিদ্ধ নয়, তবে মাঠে মনে হচ্ছে প্রশ্নের আলাদা সিলেবাস আছে। সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন করলেই মাইর। দেশবাসী আশা করবে উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করে ডিসি মাসুদরা সাধারণ জনগণের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। নাহলে ভবিষ্যতে নাগরিকরা প্রশ্ন করার আগে হেলমেট পরে বের হবে, আর সমীকরণগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাবে।

