সেহরি পর্যন্ত জাগিয়ে রাখার পুরস্কার হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় ফেসবুক রিলস

২১ পঠিত ... ১৬:২৫, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

ভোররাত ৪টা বাজে। ডাইনিং টেবিলে সেহরির খাবার সাজানো। পরিবারের ছোট থেকে বড়—সবার চোখ প্লেটের বদলে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। কেউ দেখছে চিজ মাখানো বার্গারের ভিডিও, কেউ দেখছে ‘৫ মিনিটে গায়ের রঙ ফর্সা করার তরিক’, আবার কেউ দেখছে অচেনা কোনো বিড়ালের ডিগবাজি। সবার চোখ লাল, কিন্তু ঘুম নেই। আর এই অসাধ্য সাধনের কৃতিত্ব দাবি করছে ফেসবুক রিলস।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিলস জানায়, মানুষ আগে সেহরি খাওয়ার জন্য অ্যালার্ম দিয়ে রাখত। এখন অ্যালার্মের দরকার হয় না। আমরা একবার স্ক্রল শুরু করালে মানুষ ভুলেই যায় যে তার ঘুম বলে কিছু আছে। সেহরি পর্যন্ত এই যে একটা জাতিকে আমরা বিনোদনের আফিম খাইয়ে জাগিয়ে রাখলাম, এটা কি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির যোগ্য নয়?এই সময়ে ফেসবুক রিলস থেকে এক গাজর বের হয়ে এসে বলেন, এই রিলস না থাকলে পুরো জাতি ঘুমিয়ে যেতো! এরপরও রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতির জন্য আমাদেরকে দাবি জানাতে হয়!
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়ির দাদু থেকে শুরু করে ছোট্ট নাতি—সবার আঙুল এখন একই ছন্দে ওপর-নিচ নড়ছে। অনেকে বলছেন, আগে সেহরির সময় পাড়ার কাসিদা বা ডাক-ঢোলের শব্দে ঘুম ভাঙত। এখন সেই জায়গা দখল করেছে রিলসের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এক তরুণ জানান, আমি শুধু একটা বাইকের ভিডিও দেখতে ঢুকেছিলাম, এখন দেখছি রাত ৩টা বেজে গেছে এবং আমি বর্তমানে নাইজেরিয়ার এক রান্নার রেসিপি দেখছি। রিলস ছাড়া এই সময় কাটানো অসম্ভব। একটু পরই সেহরি খেয়ে নেবো।
ফেসবুক রিলস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অন্তত সেহরি সুরক্ষা পদক উপাধিতে ভূষিত করা হোক।
এদিকে সাধারণ জনগণের একাংশ বলছে, রিলসকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে ইউটিউব শর্টস এবং টিকটকও আন্দোলনের ডাক দিতে পারে। কারণ, মানুষকে পথভ্রষ্ট করে জাগিয়ে রাখায় তাদের অবদানও নেহাত কম নয়।

২১ পঠিত ... ১৬:২৫, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

Top