বিগত দিনগুলোতে নির্বাচনী সিজন মানেই পোস্টার-ফেস্টুন, মাইকিং আর প্রচারণার ট্রাকে রিয়াজ ও ফেরদৌসের উদ্দাম নাচ। একজন না থাকলে আরেকজন এই ব্যাকআপ ব্যবস্থার মাধ্যমেই এতদিন গণতন্ত্র নির্বিঘ্নে চলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর অন্য সব তেলবাজদের মতো এরাও জার জার ওবস্তান থেকে পালিয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাকে তাদের নাচ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। আর এতেই হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন প্রার্থী সমাজ।
প্রার্থীদের একজন নিজের পরিচয় লুকিয়ে বলেন, লাগলে ৫০ টাকা বাড়িয়ে দিবো কিন্তু রিয়াজ ভাইকে এনে দেন। উনার মতো তেলবাজকে যদি নিজের প্রচারণার ট্রাকে নাচাতে পারি, না জিতলেও কষ্ট থাকবে না। এদিকে রিয়াজ ও ফেরদৌসের অনুপস্থিতিতে বিকল্প খুঁজতে গিয়ে প্রার্থীরা পড়েছেন চরম সংকটে। স্থানীয় নৃত্যশিল্পী, টিকটকার এমনকি ডিজে পার্টি দিয়েও সেই ‘নির্বাচনী ভাইব’ আসছে না বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ তেলবিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই দুইজনের অনুপস্থিতি শুধু নাচের সংকট নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক শূন্যতা। কারণ ভোটের আগে যে কোমর দোলানো আশ্বাস দেওয়া হতো, তা এখন বক্তৃতায় পূরণ হচ্ছে না। প্রার্থী সমাজের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে রিয়াজ ও ফেরদৌসকে ‘নির্বাচনী ট্রাক সংস্কৃতি সংরক্ষণ আইন’-এর আওতায় ফিরিয়ে আনা হোক।


