নির্বাচন এলেই দেশে উন্নয়ন, সংস্কার আর স্বপ্নের ফুলঝুরি। এই পুরোনো ট্র্যাডিশনের বাইরে এবার একেবারে ভিন্ন ধারার প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হয়েছে নিখিল বাংলা ভিক্টিম দল। দলটি ঘোষণা দিয়েছে, নির্বাচনে জিততে পারলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিনামূল্যে একটি করে ভিক্টিম কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে এই কার্ড খেলে জীবন হয় আরো সহজ।
দলের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এতদিন ভিক্টিম কার্ড খেলতে গেলে মানুষকে নিজস্ব প্রতিভার ওপর নির্ভর করতে হতো। আমরা সেই বৈষম্য দূর করতে চাই। এখন থেকে ভিক্টিম হওয়া হবে মৌলিক নাগরিক অধিকার। এই ভিক্টিম কার্ড দিয়ে কী করা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দৈনন্দিন জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে। অফিসে দেরি হলে বসের সামনে এই কার্ড দেখালেই হবে। পরীক্ষায় খারাপ করলে সিস্টেম, সমাজ আর আবহাওয়াকে দায়ী করা যাবে একসাথে। এমনকি কলিগকে ফাঁসানো, এক্সের উপর ব্রেকাপের সব দোষ চাপানো বা নিজের ভুলকে ‘ষড়যন্ত্র’ প্রমাণ করার ক্ষেত্রেও কার্ডটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করেন তারা।
দল সূত্রে জানা গেছে, কার্ডটির থাকবে একাধিক ক্যাটাগরি যেমন পারিবারিক ভিক্টিম কার্ড, আত্মীয়দের সামনে ব্যবহারযোগ্য। অফিস ভিক্টিম কার্ড, বিশেষ করে নিজের বাঙ্গি কলিগদের কাছে পাস করতে বিশেষ কাজে লাগবে এই কার্ড, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ভিক্টিম কার্ড, যেটি মূলত সোস্যাল মিডিয়াতে নিজের আকাম-কুকামের সাফাই গাইতে ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে “অস্বাভাবিক রকমের সামঞ্জস্যপূর্ণ।” এক বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই সবাই নিজেকে ভিক্টিম মনে করে। নিখিল বাংলা ভিক্টিম দল শুধু সেটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে এমন ঘোষণায় জনমনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেই বলছেন, উন্নয়ন নয় আগে দরকার ভিক্টিম কার্ড কারণ এই দেশে টিকে থাকতে গেলে যুক্তি নয়, ভিক্টিম হওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল।


