বাংলাদেশের আদলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ হওয়া এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং অনেকটা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অপশন হয়ে উঠেছে। একসময় এই উদ্ভাবনী কৌশলটি ছিলো বাংলাদেশের একক গর্ব হলেও, বর্তমানে পাকিস্তান, নেপাল হয়ে সম্প্রতি ইরান পর্যন্ত এই ‘ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন’ ব্যবহার করায় বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ‘নিজে নিজে ইন্টারনেট বন্ধ’ তত্ত্বের জনক পলক।
বিশ্বব্যাপী এই অনাকাঙ্ক্ষিত জনপ্রিয়তা দেখে নাকি পলক বলেন, এই আইডিয়াটা তো আমার মাথা থেকেই বের হয়েছিল! এখন সবাই গণহারে এভাবে ব্যবহার করলে হবে নাকি? তাই আন্তর্জাতিক বাজারে কম্পিটিশন বেড়ে যাওয়ায় তিনি ইন্টারনেট বন্ধের পেটেন্ট নিজের নামে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পলকের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টিকে গর্ব হিসেবেই দেখছিলেন। বিভিন্ন দেশের সরকার আন্দোলন শুরু হলেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দিচ্ছে এতে বাংলাদেশের ডিজিটাল কৌশল যে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে, সেটাই নাকি প্রমাণ হচ্ছিল। কিন্তু যখন দেখা গেল, কেউ আর বাংলাদেশকে কৃতিত্ব না দিয়েই ইন্টারনেট বন্ধ করছে, তখনই পলকের মাথায় পেটেন্টের ভাবনা আসে।
এ বিষয়ে জেলে বসে এক ঘরোয়া বৈঠকে পলক বলেন, আমরা দিনের পর দিন প্র্যাকটিস করে এই দক্ষতা অর্জন করেছি। ফেসবুক বন্ধ, মোবাইল ডাটা অফ, ব্রডব্যান্ড স্লো সবকিছুর আলাদা আলাদা আর্ট আছে। এখন অন্যরা হুট করে নাম কুড়াবে, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। পেটেন্ট আবেদন অনুযায়ী, এখন থেকে ইন্টারনেট বন্ধ করার নৈতিক ও কারিগরি মালিকানা পলকের হাতেই থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইন্টারনেট বন্ধ করতে চাইলে আগে ‘পলক লাইসেন্স’ নিতে হবে, নতুবা কপিরাইট আইনে মামলা খাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হতেই বিভিন্ন দেশের সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এক ইউরোপীয় দেশের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা তো ভাবছিলাম এটা ফ্রি ফিচার। এখন যদি সাবস্ক্রিপশন লাগে, তাহলে আন্দোলন দমন বাজেট বাড়াতে হবে। তবে পলক বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা শুধুই হতাশ হবেন না, ইন্টারনেট বন্ধ শুধু একটা সিদ্ধান্ত না, এটা একটা দর্শন। আর দর্শনের কপিরাইট তো থাকবেই। আর আপনারা তো জানেনই জিনিস যেটা ভালো দাম তার একটু বেশি।


