চারদিকে পানি, রাস্তাঘাট ডুবে গেছে, মানুষ নৌকা খুঁজছে, এমন অবস্থায়ও এইচএসসি পরীক্ষা যথারীতি নেওয়ার সিদ্ধান্তে যখন মানবসমাজের একাংশ ক্ষোভে ফুঁসছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে এগিয়ে এসেছে মাছ সমাজ। এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, অবশেষে এমন একজন মানুষ পাওয়া গেল, যিনি শিক্ষাকে শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি।
তুরাগ নদীর এক পাঙ্গাশ মাছ বলেন, লোকটাকে সবাই ভুল বোঝে। আমরা তো বছরের পর বছর পানিতেই থাকি। পরীক্ষা যদি পানির কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের শিক্ষাজীবন শুরুই হবে না। শিক্ষামন্ত্রী bro, big fan। মাছ সমাজের দাবি, এতদিন শুধু মানুষই এইচএসসি দিত, অথচ নদী-খাল-বিলের মেধাবী মাছগুলোকে কেউ সুযোগ দিত না। এবার যেহেতু পরীক্ষা বন্যার মধ্যেও হচ্ছে, তাই তারাও সমান সুযোগ চায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি কাতলা, বোয়াল ও শিং মাছ মিলে ‘ফিশ এইচএসসি পরীক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ’ গঠন করেছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক এক রুই মাছ বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। সাঁতার তো পারিই, এখন শুধু রোল নম্বরটা পেলেই হলে ঢুকে যাব। তবে উত্তরপত্র যেন জলরোধী হয়, এইটুকু দাবি। এদিকে কয়েকজন চিংড়ি অভিযোগ করেছেন, পরীক্ষার হলে বড় মাছদের পাশে বসালে নকল করার ঝুঁকি থাকবে। কারণ বড় মাছ একবার লেজ নেড়েই পুরো বেঞ্চ কাঁপিয়ে দিতে পারে। নদীর এক প্রবীণ কচ্ছপ অবশ্য বিষয়টিকে শিক্ষাব্যবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আগে শুনতাম শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। এখন দেখছি সেটা নদী, খাল, বিল, ডোবা সব জায়গায় পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে এক হতাশ কই মাছ আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ তো কোচিং করেছে, আমরা সারাজীবন শুধু স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছি। পরীক্ষায় যদি ‘বাংলাদেশের নদী’ রচনাটা আসে, তাহলে অবশ্য ফুল মার্কস পাব। এ বিষয়ে জলজ প্রাণী অধিদপ্তরের এক অনানুষ্ঠানিক সূত্র জানায়, আগামী বছর থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে অক্সিজেন সিলিন্ডারের পাশাপাশি অ্যাকুয়ারিয়াম রাখার চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে জলজ পরীক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ পায়। সবশেষে মাছ সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি একটি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেহেতু আমাদেরও পরীক্ষার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তাই ফল প্রকাশের দিন যেন ‘মাছের বাজারদর’ দেখে জিপিএ নির্ধারণ না করা হয়।


