২০২৬ বিশ্বকাপের মাঠে নরওয়ের অভাবনীয় সাফল্য এবং স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের একের পর এক গোল উদযাপনে যখন বিশ্ব ফুটবল বুঁদ, তখন বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও ক্রীড়া বিতর্ক। মাঠের ভেতর নরওয়ে দলের বিখ্যাত 'ভাইকিং রো' (Viking Row) উদযাপনকে কেন্দ্র করে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল এবং স্বয়ং হালান্ডকে 'ফ্যাসিবাদের দোসর' ও 'আন্ডারগ্রাউন্ড লীগার' বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশের এক কট্টর ব্রাজিল সমর্থক।
সম্প্রতি রাজধানীর এক চায়ের দোকানে বসে ফুটবল ও ভূরাজনীতি বিশ্লেষণ করার সময় মিরপুরের বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের সেলেসাও ভক্ত মো. মজনু মিয়া এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তার মতে, নরওয়ে দলের খেলোয়াড়রা গোল করার পর যেভাবে মাটিতে বসে সারিবদ্ধভাবে দুই হাত সামনে-পেছনে নিয়ে নৌকা বাইচ বা দাঁড় টানার ভঙ্গি করছেন, তা কোনো সাধারণ ক্রীড়া শৈলী নয়। এটি মূলত বাংলাদেশের ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দলের প্রতীক নৌকার একটি আন্তর্জাতিক ও গোপন প্রচারণা।
মজনু মিয়া অত্যন্ত গম্ভীর মুখে বলেন, গোটা দুনিয়ায় এত রকমের উদযাপন থাকতে হালান্ড কেন মাঠের মধ্যে বসে দলবল নিয়ে নৌকা চালানো শুরু করল? এটা কি কাকতালীয়? মার্টিন ওডেগার্ড যেভাবে ড্রাম বাজাচ্ছে, সেটা আসলে ওই দলের নির্বাচনী চ্যান্টের আধুনিক রিমেক। আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারছি, তারা ফ্যাসিবাদের এজেন্ডা বিশ্বব্যাপী টিকিয়ে রাখার জন্য ইউরোপ থেকে সুদূর আমেরিকার বিশ্বকাপে এসে এই দোসরগিরি করছে। হালান্ড আসলে দেখতে সাইবর্গ হলেও ভেতরে ভেতরে সে একজন কট্টর লীগার।
নরওয়ে ফুটবল এসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকরা অবশ্য একে প্রাচীন ভাইকিং ঐতিহ্যের (লংশিপ চালানো) আধুনিক সংস্করণ এবং ওলে ফ্রয়স্টাড নামের এক সাধারণ সমর্থকের তৈরি করা চ্যান্ট বলে দাবি করেছেন। তবে মজনুর মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন ফুটবল ভক্তরা এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ভাইকিং ইতিহাস আসলে একটা আইওয়াশ। মূলত পতিত সরকারের লবিস্টরা আর্লিং হালান্ডকে দিয়ে মাঠের ভেতর এই 'নৌকা বাইচ' করাচ্ছে, যাতে গ্যালারির দর্শকরা অবচেতন মনে ওই নিষিদ্ধ প্রতীকের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। এমনকি আইভরি কোস্ট আর সেনেগালের মতো দেশের সহজ-সরল মানুষগুলোকেও তারা এই নৌকায় তুলে ফেলেছে!
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আর্জেন্টিনা সমর্থকরা অবশ্য এই দাবিকে 'ব্রাজিলিয়ানদের চরম ঈর্ষা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এক আর্জেন্টিনা ভক্ত পাল্টা দাবি করে বলেন, ব্রাজিল তো এবার মাঠে সুবিধা করতে পারছে না, তাই তারা হালান্ডের গতি আর ভাইকিং রো দেখে হিংসেয় এসব আবোলতাবোল লজিক দাঁড় করাচ্ছে। কাল হয়তো বলবে মেসির পায়ের ড্রিবলিংও কোনো বিশেষ দলের রাজনৈতিক চাল!
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজনু মিয়ার এই ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা অনেকেই বলছেন, ফিফার উচিত অতি দ্রুত হালান্ডের এই 'লীগার অ্যাক্টিভিটি' খতিয়ে দেখা এবং নরওয়ে দলে কোনো রাজনৈতিক ক্যাডার বা দোসর ঢুকে পড়েছে কি না, তা তদন্ত করা। আন্তর্জাতিক ফুটবল মাঠে এই 'নৌকা' বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি পর্যন্ত গড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


