একজন নারীর কোড করা প্রোগ্রাম দিয়েই তোলা হয়েছে ব্ল্যাকহোলের ঐতিহাসিক ছবি

১৩২৫ পঠিত ... ২১:৪২, এপ্রিল ১২, ২০১৯

মহাকাশ বা জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে সামান্য জানাশোনা আছে এমন যে কারো কাছেই পরম আগ্রহের বিষয় হচ্ছে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর। এতদিন ধরে ব্ল্যাক হোলের কৃত্রিম ছবিই দেখে এসেছে সবাই। তবে গত ১০ এপ্রিল (বুধবার) মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হলো ব্ল্যাক হোলের সত্যিকারের ছবি। আর এই ছবির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন একজন নারী। ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) কম্পিউটার বিজ্ঞানী কেটি বোম্যান ও তার দলের কোড করা প্রোগ্রাম দিয়েই তোলা হয়েছে এই ঐতিহাসিক ছবি।

কেটি বোম্যান ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সাইন্সে এমআইটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। বছর তিনেক আগে তিনি একদল গবেষক নিয়ে এমন একটি অ্যালগরিদম লেখার কাজ শুরু করেন, যেটির সাহায্য নিয়ে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলা হবে।

পরে ২০১৭ সালের এপ্রিলে পৃথিবীতে স্থাপন করা ৮টি সিনক্রোনাইজড রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা মেসিয়ার-৮৭ গ্যালাক্সির মাঝখানে ভার্গো গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের মাঝ থেকে এই দৈত্যাকৃতির ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলেন। এই ব্ল্যাক হোলের আকার প্রায় ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার, পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৩০ লক্ষ গুণ বড়। এমআইটির হেস্ট্যাক অবজারভেটরি থেকে এই ব্ল্যাক হোলের দূরত্ব ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ।

কেটি বোম্যানের অ্যালগরিদমের কাজ ছিল এই আলাদা আলাদা ৮টি টেলিস্কোপের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলোকে একত্র করে সেখান থেকে ব্ল্যাক হোলের সত্যিকারের ছবি উদ্ধার করা। ২০১৬ সালে একটি টেড টকে কেটি বোম্যান বলেছিলেন ‘এই ব্ল্যাক হোলটি আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে। চাঁদের গায়ে একটা কমলা পড়ে থাকলে সেটিকে যত ছোট দেখাবে এই ব্ল্যাক হোলের রিংটাও আমাদের কাছে এমন আকারে দেখা দিবে। ফলে এর ছবি তোলার কাজটা আমাদের জন্য খুবই কঠিন হবে।’

তবে খুব কঠিন কাজটাও করে ফেলেছেন কেটি বোম্যান এবং তার দল। একটা কালো স্থানের চারপাশে যে উজ্জ্বল অগ্নিগোলকের ছবি আমরা দেখেছি সেটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। এই প্রজেক্টে কাজ করা বিজ্ঞানী ভিনসেন্ট ফিশ বলেছেন, ‘আমরা গত এক যুগ ধরে কাজ করছি এই একটা ছবির জন্য। আমি আনন্দিত, অবশেষে এই কাজটি করা সম্ভব হয়েছে।’

কেটি বোম্যানের এই সাফল্যের পর অনেকেই স্মরণ করেছেন প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে মানব সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় ভূমিকা রাখা অন্য এক নারীর। ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো মানুষ পৌঁছায় চন্দ্রপৃষ্ঠে। আর সেই বিখ্যাত অ্যাপোলো-১১ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় কোড করেছিলেন এমআইটিরই এক নারী গবেষক মার্গারেট হ্যামিল্টন। পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে মহাকাশ গবেষণায় আরেক নারীর অবদানের সময়ে তাই বারবার আসছে মার্গারেট হ্যামিল্টনের নামও।

১৩২৫ পঠিত ... ২১:৪২, এপ্রিল ১২, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top