আপনার জন্মদিন সত্যিই জানুয়ারির ১ তারিখ হলে যা করবেন

১৯৯১ পঠিত ... ২০:৪৭, জানুয়ারি ০১, ২০১৯

আপনার সত্যিকার জন্মদিন কি জানুয়ারি মাসের এক তারিখে? তাহলে বিশ্বাস করেন, এই মুহুর্তে আপনার চাইতে দুঃখী কেউ নেই! বিএনপির সাংসদরাও না। এমনকি গোপালগঞ্জ তিন আসনের এস এম জিলানীও না। তার কষ্টটা সাময়িক। আজ কাল বা দুই বছর বাদে ঠিকই ভুলে যাবে। কিন্তু আপনার এই দূর্ভাগ্য বয়ে বেড়ানো লাগবে আজীবন।

সেই মার্চ এপ্রিলের রোমান্টিক বৃষ্টির রাতে যদি গল্পটা অন্যরকম হতো, তাহলে হয়তো আজ আপনার শতভাগ রিয়েল আইডিটা জনসমাজে ফেক আইডি বলে বিবেচিত হতো না। মানুষজন বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েরা ফেক ভেবে আপনাকে আনফ্রেন্ড করে দিত না আজ। তবে যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। সুতরাং চলুন ভেবে দেখি, এখন এই বিপদ থেকে কীভাবে রক্ষা পেতে পারেন!

১. ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যেই সার্টিফিকেটে জানুয়ারি ১ বাদে নকল কোনো জন্মদিন দিয়ে দেন। এরপর অন্যদেরকে বলবেন, আমার সার্টিফিকেটে বার্থডে অন্য, বাট আমি জাস্ট জানুয়ারির ১ তারিখ এইটা সেলিব্রেট করি!

২. সার্টিফিকেট যদি একান্তই না বদলাতে চান, তাহলে ফেসবুকেই বার্থডে বদলে অন্য যেকোনো তারিখে দিয়ে দিন। এমনকি ফেব্রুয়ারির ২৯ তারিখও দিতে পারেন! ফেসবুকের বার্থডেকেই এই যুগে আসল বার্থডে হিসেবে ধরা হয়। সার্টিফিকেটে বার্থডে জানুয়ারির ১ তারিখ অথচ ফেসবুকে দেয়া ১৪ এপ্রিল, দেখবেন পাবলিক ফেসবুকেরটাই বিশ্বাস করছে আর সার্টিফিকেট নকল ভাবছে!

৩. বন্ধুবান্ধব যদি জিজ্ঞেস করে সার্টিফিকেট আর ফেসবুকে জন্ম তারিখ কেন আলাদা, তাদেরকে বলুন আসলে সার্টিফিকেটের ওটা প্রাইমারির স্যার নিজে মাতব্বরি করে দিয়ে দিছে। ফেসবুকেরটাই রিয়েল।

৪. নিজের মনকে বোঝান যে আপনার জন্ম জানুয়ারির এক তারিখে হয়নি। এটা ভুল। তাহলে দেখবেন একদিন আপনিও বিশ্বাস করা শুরু করবেন যে আপনার জন্মদিন আসলেই পহেলা জানুয়ারি না, অন্য কোনো দিন।

৫. নিজেই লিগ্যাল ডিসিশন নিন। কেন ফেক আইডিগুলো জন্মদিন পহেলা জানুয়ারি বাদে অন্য কোনো তারিখ দেবে না, এই মর্মে হাইকোর্টে একটি রিট করতে পারেন। অথবা আপনার মান সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ফেক আইডিগুলোর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করুন যারা জন্মদিন মিথ্যা মিথ্যা পহেলা জানুয়ারি লিখে রাখে।

৬. আপনি নিজের অবস্থা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করুন। সিদ্ধান্ত নিন, নিজে আর কোনোভাবেই এই ভুল করবেন না। আপনার সাথে যা হওয়ার হয়েছে, আপনার সন্তানের জন্ম যেন কখনোই পহেলা জানুয়ারি না হয়। দরকার হলে মার্চ এপ্রিল মাসে বউকে রেখে একা একা অন্য এলাকায় গিয়ে থাকুন। আশেপাশের সবাইকে বুঝান, মার্চ-এপ্রিল মাসের একটা ভুলই আপনার সন্তানকে দিতে পারে ফেক আইডির খেতাব।

পরিশেষে ইউনেস্কো পহেলা জানুয়ারিকে বাঙালির আবেগের প্রতি সম্মান দিয়ে আন্তর্জাতিক জন্ম দিবস ঘোষণা করে দেয়ার আগেই রুখে দাঁড়ান। নিজের ইজ্জত নিজেই বাঁচাতে এমন কিছু করুন, যাতে এই দিনে সরকারী জন্মদিবসকে ট্রল করে দেয়া স্ট্যাটাসে হাহা দিতে পারেন, এংরি না।

বাই দ্যা ওয়ে, আপনার জন্মদিন যদি সত্যিই ১ জানুয়ারি হয়ে থাকে, তাহলে হ্যাপি বার্থডে!

১৯৯১ পঠিত ... ২০:৪৭, জানুয়ারি ০১, ২০১৯

Top