কথায় বলে, এক ঋতুর আরাম, অন্য ঋতুর হারাম! হ্যাঁ, গোসলের কথাই বলা হচ্ছে। গরমকালে যেই গোসল আপনাকে দেয় স্বর্গীয় এক অনুভূতি, শীতে সেই গোসলই আতঙ্কের আরেক নাম! এজন্যই কবি বলেছিলেন, 'শীতকালে হায়, কেই বা গোসল করিতে চায়'! যদি না চান, গোসল করবেন না, সমস্যা কী! এই শীতে গোসলের ১০টি বিকল্প উপায় ভেবেছেন eআরকির শীতে কাতর আইডিয়াবাজদলের সদস্য সোহাইল রহমান ও তৌকির আহমেদ। সুতরাং নিচের পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করুন, গোসল না করেই কাটিয়ে দিন এবারের শীত!

১. শীতকাল উপলক্ষ্যে নিজেদের লেপ-কম্বল ড্রাই ক্লিনিং করানোর সাথে নিজেকেও ড্রাই ক্লিনিং করিয়ে নিতে পারেন। হিমশীতল বারিধারা স্পর্শ না করেই আপনি পেতে পারেন পরিচ্ছন্নতার সতেজতা।

২. আপনার সাথে কারো দেখা হওয়া মাত্র একটি সার্জিকাল মাস্ক ধরিয়ে দিন। বায়ুদূষণ থেকে তাদের সুরক্ষিত করতে তো পারবেনই, বোনাস হিসেবে আপনি গোসল করেছেন নাকি করেন নি, তা সহজে কেউ টের পাবে না।

৩. নিজেকে পানি অপচয় প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারম্যান ঘোষণা করতে পারেন। পৃথিবীর নানা দেশে পানির অভাবে থাকা অসংখ্য মানুষের সাথে সংহতি জানিয়ে গোসলকে বয়কট করতে পারেন। সেইসাথে অন্য কেউ গোসল করলে তাকে তিরস্কার করার অধিকারও পেয়ে যাবেন!

৪. কথিত আছে, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভিধানে ‘অসম্ভব’ বলে কোন শব্দ নেই। তার আদর্শ মেনে আপনি নিজের ডিকশনারি থেকে ‘গোসল’ শব্দটি মুছে ফেলতে পারেন। কেউ গোসলের প্রসঙ্গ তুললেই আপনি ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বলতে পারবেন, ‘আমার অভিধানে ‘গোসল’ বলে কোন শব্দ নেই!’

৫. শীতকাল উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রায় সব ঘরেই পিঠা পুলি বানানো হয়। আপনার বাসায় যদি ভাপা পিঠা বানানোর আয়োজন করা হয়, সেখানে দাঁড়িয়ে ভাপ তথা স্টিম বাথ নিয়ে ফেলতে পারেন। কেউ যদি আপনার গোসল সম্পর্কে তথ্য জানতে চায়, তখন ‘আমি আসলে স্টিম বাথ নিয়েছি’ বলে আভিজাত্যের পরিচয় দিতে পারেন।

৬. আপনি গোসল করার স্বপ্ন দেখতে পারেন। স্বপ্ন দেখাকেই অনেক সময় বাস্তবায়নের সমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৭. আপনি ‘শুকনা বাবা’ নাম গ্রহণ করে নিজেকে সন্ন্যাসী দাবি করতে পারেন। সাধু সন্ন্যাসীরা সারাদিন ধ্যানে ব্যস্ত থাকেন, গোসল জাতীয় ইহলৌকিক ক্রিয়া তাদের কাছে বাহূল্যের মতো। তাই আপনি নির্বিঘ্নে গোসল ছাড়াও থাকতে পারবেন, সাথে বেশ কিছু শিষ্যও পেয়ে যেতে পারেন। আপনার আস্তানায় ধূপ, আগরবাতি ইত্যাদি জ্বালিয়ে রেখে আপনার গোসল না করার বাইপ্রোডাক্ট গন্ধকেও ধামাচাপা দিয়ে দিতে পারবেন।

৮. একজন দরিদ্র লোককে টাকা দিয়ে ভাড়া করুন। যে আপনার হয়ে এই শীতে প্রতিদিন দুইবেলা গোসল করে দেবে। এটাকে বলে ব্লুটূথ বা শেয়ার ইট গোসল।

৯. গোসল করতে গেলে যে পানি দিয়েই করতে হবে, তেমন কোন নিয়ম কোথাও বলা নেই। এই শীতের আরামদায়ক রোদে তাই সূর্যস্নান করতে পারেন। পানি না ছুঁয়ে উদোম গায়ে রোদের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকুন। এখন আর গোসল নিয়ে কাউকে মিথ্যাও বলতে হবে না!

১০. শীতের কাপড়ের উপরে রেইন কোট পরুন। তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড়ান। এটাকে বলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। গোসলও হলো আবার শরীরও ভিজল না।

