আজ ১৪টি ছবি দিলেন জনাব ওবায়দুল কাদের

৫২৮ পঠিত ... ১৬:৫৩, অক্টোবর ১৬, ২০২১

Obaidul-Qader

আজ ১৪টি স্থিরচিত্র প্রকাশ করেছেন জনাব ওবায়দুল কাদের। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে এক উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই স্থিরচিত্রগুলো প্রকাশ করেন।

ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকে তার ভক্ত, অনুরাগী, শুভানুধ্যায়ী এবং সমর্থকদের মধ্যে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে ৩০ হাজার প্রতিক্রিয়া পড়েছে। যার মাঝে ভালোবাসার প্রতিক্রিয়া ৫ হাজার।

শুধু ভক্ত বা সমর্থক গোষ্ঠী নয়, সমালোচকদের কাছেও ব্যাপক সমাদৃত হচ্ছে ছবিগুলো।

 

১#

1

প্রথম ছবিটিতে দেখা যায়, ছবির পাত্র মুখের কোনায় আধো মলিন, আধো উচ্ছ্বাস নিয়ে অসীমের পানে তাকিয়ে আছেন। ফুলের বাগানে তোলা এই ছবিটি যেন কোনো এক বিমূর্ত রহস্যকে ইঙ্গিত করছে। অনেকেই মুগ্ধ হয়ে প্রশ্ন করছেন- পরষ্পর বিপরীত দুই আবেগকে কীভাবে ঠোঁটে ধরলেন ওবায়েদুল কাদের স্যার?

 

২#

2

এই প্রশ্ন আরো গাঢ় হয়ে ওঠে দ্বিতীয় ছবিটিতে। এ ছবিতে পাত্র তার ডান হাত রেখেছেন পাশে ফুটে থাকা ফুলের গায়ে। 'ফুলের গায়ে টোকা' দিয়ে তিনি কী বার্তা দিতে চাইলেন? তিনি কি বুঝাতে চাইলেন নরম-কোমল-নিরীহ মানেই সে অচ্ছুৎ নয়? তাকে ছুঁয়ে দাও, ধরে দেখো! জগত সংসারের অমোঘ সৌন্দর্য তো এখানেই!

 

৩#

3

প্রথম দুই ছবিতে প্রকৃতির গাঢ় রহস্য ফুটে উঠলেও তৃতীয় ছবিটি একদম ব্যতিক্রমধর্মী। প্রকৃতি থেকে ছবির পাত্র ফিরে গেছেন নাগরিক কোলাহলে।

সামনে এক টুকরো সাদা কাগজ এবং একটি মাইক রেখে সম্মুখপানে যে দৃষ্টি তিনি ছুঁড়ে দিয়েছেন, সেই দৃষ্টিতেই যেন রয়েছে প্রথম দুই রহস্যের সমাধান। তিনি যেন বলতে চাইলেন- না, প্রকৃতিতে প্রশ্ন থাকলে এই নগরে রয়েছে তার উত্তর। আসো, খুঁজে নাও রহস্যের উত্তর!

 

৪#

4

রবীন্দ্রনাথের ডাকে সাড়া দিয়ে ওবায়দুল কাদের চতুর্থ ছবিতে আবার ফিরে গেছেন প্রকৃতির কাছে, অরণ্যের কাছে। ছবির পরতে পরতে ভেসে ভেড়াচ্ছে কবিগুরুর বানী- দাও ফিরিয়ে সে অরণ্য, লও এ নগর!

 

৫#

5

৬#

6

পঞ্চম এবং ষষ্ঠ ছবিকে আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে একই। কিন্তু শিল্পবোদ্ধারা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, মর্ত্যের পৃথিবী থেকে দেখলে আকাশের সব তারাকে একই মনে হয়। তাই বলে কি সেগুলো এক? এক নয়, এই ছবিগুলোও সমান নয়।

পঞ্চম ছবিতে দেখা যাচ্ছে ছবির পাত্র নিজের পোশাক টেনে ধরেছেন, কিন্তু ষষ্ঠ ছবিতে এই অংশ দেখাই যাচ্ছে না।

তাহলে কি পোশাক ঠিক হয়ে গেছে? নাকি সে আগের মতোই কুঁচকানো অবস্থায় রয়ে গেছে?

একইরকম ছবিও যে কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে দিতে পারে, এটাই তার প্রমাণ। 

 

৮#

8

অষ্টম ছবিতে ছবির পাত্র পাশ ফিরে তাকিয়ে আছেন। জীবনকে সোজাসুজি দেখলে হবে না, পাশ থেকেও দেখতে হবে- এই বাণীই যেন ছড়িয়ে দেয়া হলো ছবির মাধ্যমে!

 

৯#

9

১৪#

14

নবম এবং চতুর্দশ ছবিতে দেখা যায়, ছবির পাত্র সটান দাঁড়িয়ে আছেন, যেটি আবার অষ্টম ছবির বার্তাকে অস্বীকার করে! শিল্পবোদ্ধারা বলছেন, 'জীবনে কোনো কিছুই ধ্রুব নয়- এ বার্তাই ফুটে উঠেছে পরষ্পরবিরোধী এইসব ছবিতে।'

 

১২#

12

১৩#

13

অত্যন্ত ব্যতিক্রমী দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ ছবিতে দেখা যায় পাত্রের পেছনে এসি। ওবায়েদুল কাদের যেন বলতে চাইলেন, এই দাবদাহের দিনে এসির ভেতরেই থাকতে হবে, এমন তো কথা নেই! মনে সৌন্দর্য থাকলে বাইরে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

এদিকে কবিতাপ্রেমী অনেকে বলছেন, অনেক সময় ছবিও হয়ে উঠতে পারে কবিতা। ১৪টি ছবি দিয়ে ওবায়দুল কাদের আসলে একটি চতুর্দশপদী কবিতাই লিখলেন।

উল্লেখ্য, ছবিগুলো পোস্ট করে তিনি শিরোনাম দিয়েছেন, 'নিজের চিন্তার যত্ন নাও, যখন তুমি একা।'

দেশে তরুণ সমাজ যাতে একা থাকা অবস্থায় কোনো দুষ্টুমি চিন্তা না করে, এ ব্যাপারে তিনি যেন তাদেরকে সাবধান করে দিলেন!

ছবিগুলোতে দেখা যায়, তিনি একটি সানগ্লাস, বাম হাতে একটি ঘড়ি এবং একটি খাকি রঙের কোটি পরে আছেন। তবে কোটির নিচে শার্ট না পাঞ্জাবি, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অনেকে বলছেন, দরকার নেই নিশ্চিত হওয়ার। কারণ অনিশ্চয়তাই যে জগতের একমাত্র নিশ্চিত সত্য!

৫২৮ পঠিত ... ১৬:৫৩, অক্টোবর ১৬, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top