শেষ তব ঈদ আনন্দ, মুখে এখন লেবু চিপে ডাল দিয়ে মাছ-ভাতই লাগে ভালো

২৫৫ পঠিত ... ১৩:৩২, মে ২৮, ২০২০

অলংকরণ: তাইসির 

কী? ঈদ শেষ? পোলাও-কোর্মা খাবার থালা-বাটি গুছিয়ে পাঞ্জাবী-শেরওয়ানী পালটে লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরে বাঙালির চিরন্তন মাছ-ভাত নিয়ে টেবিলে বসেছেন? আহা স্বীকার করতে লজ্জা কী? খোঁজ নিয়ে দেখুন এই খাবার নিয়েই যার যার থাল পেতে বসেছেন কুলি-মজুর, আপনার বাসার পাশের পান-দোকানদার, আপনার অফিসের জাঁদরেল বস এমনকি দেশের বড় বড় হর্তাকর্তারাও! না খেয়ে কোথায় যাবে, এ জিনিসই তো আপনার-আমার দেশের জাতীয় খাবার!

কিন্তু আর দেশের লোকেরা কী দিয়ে তাঁদের ডিনার সাঁটাচ্ছেন? মানে আপনার মত দেশাত্ববোধ ধরে রেখে তাঁরাও যদি জাতীয় খাবার দিয়েই ডিনার সারেন?

এ ব্যাপারে আমাদের দেশের বাচ্চাকাচ্চার স্বপ্নের দেশ হতে পারে আমেরিকা। যে স্বপ্নের খাবার বাদ দিয়ে আমাদের বাবা-মা’রা তাদের মাছ-ভাত খেতে জোর করেন, সেই হ্যাম্বারগারই হলো আমেরিকার জাতীয় খাবার! সঙ্গে গলা ভেজানোর জন্য থাকবে মিষ্টি দুধ, মুচমুচে অ্যাপল পাই। সাথে ঘরে বানানো এক টুকরো কেক হলে সোনায় সোহাগা!

নাক উঁচু বৃটিশরা আবার টেবিলে নিয়ে বসবেন রোস্টেড বিফ, সাথে ইয়র্কশায়ার পুডিং। আপনি সেখানে উপস্থিত থাকলে অবাক হয়ে দেখবেন, কাঁটাচামচে এক টুকরো মাংস তাঁরা মুখে পুরে দিচ্ছেন, সাথে সাথেই চালান করে দিচ্ছেন ঘন থকথকে পুডিং! ঝাল ও মিষ্টের এ এক অপূর্ব সহাবস্থান! টেবিলে থাকে লোভনীয় আলুর রোস্ট, সবজি সেদ্ধ, নানা জাতের হারবাল সস!

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেলে এদেশীয় মুরুব্বীদের অনেকে ভুরু কুঁচকে বলেন- কী আউ-ফাউ জিনিস খাচ্ছিস! ফ্রান্সের জাতীয় খাবারের নামটাও কিন্তু আউ-ফাউ টাইপেরই! পট–এউ-ফেউ! শীতকাল এলে ফ্রান্সের ছেলে-বুড়ো আয়োজন করে এই জিনিস খায়। খাবার অবশ্য খুব বেশি কিছু নয়। পটের মাঝে ভাপে সিদ্ধ করা হয় নানা পদের সবজি, চাকতি চাকতি সসেজ, হরেক পদের পনির, সাথে থাকে মসলার নির্যাস। তারপর আর কি… খাও কবজি ডুবিয়ে…

জার্মানরা অবশ্য গরু-মুরগির ধার ধারেন না। তাঁদের রুচি ঘোড়ার মাংসে! আর রাঁধতে তাঁরা সময় নেন দশদিন! এই দশদিন ঘোড়ার মাংসকে ওয়াইন, ভিনেগার, মশলা, ওষধি পাতা দিয়ে সিজনিং করে রাখা হয়। তারপর মাখামাখা করে রোস্ট। খাওয়া হয় সিদ্ধ আলু আর লাল বাঁধাকপির সাথে।

চীনারা কী খায়? থাই স্যুপ নিশ্চয়ই? অবাক লাগে না ভাবতে? চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গিয়ে অবলীলায় আমরা থাই স্যুপ খেয়ে ভাবি চাইনিজ খাচ্ছি!

আচ্ছা খেলাম না হয়। আসলে চীনারা কী খান?

এখানকার জাতীয় খাবার পিকিং ডাক। রাজহাঁসের রোস্ট। হাঁস খেয়েই তারা বুদ্ধির প্যাঁচে দুনিয়া কবজা করছেন! সেই হাঁস আপনার মুখে দিলে মুচমুচ করে উঠবে এর কড়া করে ভাজা, ভিজভিজে পাতলা চামড়ার জন্য!

আর যা-ই করুন, কানাডা গিয়ে ওদের জাতীয় খাবার খেতে চাইবেন না! আপনার সামনে এনে দেবে বাহারী নামের ক্রাফট। মুখে দিয়ে দেখবেন, ও আল্লা… এ তো আমাদের চেনা ম্যাকরনি! লবণ পানিতে সেদ্ধ করে আপনার সামনে হাজির করেছে! দু-চামচ মুখে দিয়ে হয়তো ভদ্রতার কাষ্ঠহাসি টেনে বলবেন- অসাধারণ খাবার!!! আপনাকে টুপিখোলা ধন্যবাদ।

তবে আর কি পাঠক? বিশ্বভ্রমণ চুলোয় উঠুক। আপনার মাছভাত জুড়োচ্ছে এদিকে। লেবু চিপে ডাল দিয়ে আপনি লেগে পড়ুন পেট পুজোয়। ঈদের ডামাডোলে ওগুলো অনেকদিন হলো আপনার সঙ্গসুখ থেকে কিন্তু বঞ্চিত হয়ে রয়েছে। 

২৫৫ পঠিত ... ১৩:৩২, মে ২৮, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top