ধনে-ধানে পুষ্পভরা: একটি শ্বাসরুদ্ধকর ধান কাটার অভিযান

২২৪৬ পঠিত ... ১৯:২১, এপ্রিল ২৮, ২০২০

অলংকরণ: মুবতাসিম আলভী

১.
সকাল থেকে ক্ষেতে কাজ করে শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যথা। চোখটা মাত্র লেগে এসেছিলো, ছেলেটা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছে। জরিনা পাশের বাড়িতে তারামন আকতারের সাথে নিশ্চয়ই আলাপে ব্যস্ত। তার কন্ঠ শোনা যাচ্ছে। রহমতুল্লাহ নিজের কপালে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলেন শরীর গরম কিনা। বোধয় গরম। মানুষ নিজের প্রতিভা আর জ্বর নিজে বুঝতে পারে না। তার উপর বয়স কম হয়নি। জরিনাকে দুইবার ডাকে। সে জবাব দিলো না।
এরমধ্যে বাড়ির বাইরে থেকে ডাক পড়ে, “বাড়িত কেউ আছেন?”
রহমতুল্লাহ ধীরে সুস্থে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু দ্বিতীয় ডাকটা আরো কর্কশ কন্ঠের, “কী কেউ নাই? জবাব দ্যান না ক্যান? কথা কানে যায় না?”
ঘুমের মধ্যে লুঙ্গি ব্যাপারটা খুব ঝামেলার মধ্যে থাকে। হয় খুলে যায়, নয় গিট্টু হালকা হয়ে যায়। সমস্যাটা ঘুমের নাকি লুঙ্গির রহমতুল্লাহ বুঝতে পারে না। সে তড়িগড়ি করে গিট্টু হালকা হওয়া লুঙ্গি সামলে বাড়ির বাইরে যায়। চারজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। প্রত্যেককে দেখলেই মনে হয় একটু আগে মারামারি করে এসেছে। এরমধ্যে যার চেহারা সবচেয়ে জঘন্য সে আরো জঘন্য কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো, আপনি কৃষক?”
রহমতুল্লাহ তড়িঘড়ি করে জবাব দিলো, হ স্যার।
-আপনের জমি কই? লন। জমিতে লইয়া চলেন।
-কী করবেন?
-আমাদের স্যার আসছেন, ধান কাটবেন তিনি।
-কিন্তু স্যার আমি তো ধান কাইটা ফেলছি।
রহমতুল্লাহর উত্তর শুনে উপস্থিত চারজন রীতিমত ভীত হয়ে আঁতকে ওঠে একে অপরের দিকে তাকায়। খুব অসহায় কন্ঠে উপস্থিতিতেদের মধ্যে নেতা ধরনের লোকটা জিজ্ঞেস করলো, “একটু ধানও নাই?”
-জ্বে না স্যার।
-একটুও নাই?
-না স্যার?
পেছনে থাকা কালো মতন লোকটার বোধহয় রহমতুল্লাহর উত্তর পছন্দ হয়নি। সে এগিয়ে এসে ধমক দেয়, ‘সব ধান একলাই কাইটা ফালাইছো। তোমার কমন সেন্স নাই? তুমি অশিক্ষিত?”
রহমতুল্লাহ বুঝতে পারে না কী হচ্ছে। তার কাছে দুঃস্বপ্ন মনে হচ্ছে। কোনো উত্তর দিতে পারে না। এদিকে ছেলে কেঁদেই যাচ্ছে। চারজনের মধ্যে যে নেতা গোছের সে কাকে যেন ফোন দিয়েছে, “জ্বি স্যার, কৃষক পাওয়া গেছে স্যার। আমরা এখন জমি পরিদর্শনে যাচ্ছি স্যার।সেখানকার অবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি দেখবো আমরা। আপনি ধৈর্য ধরে আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। জ্বি স্যার বলেছে ক্ষেত বড়, হ্যাঁ স্যার আপনার হৃদয়ের মতো বড়। আপনি টেনশন কইরেন না, আরাম করেন। জামিলকে বলে আরেক লিটার কোক পাঠিয়ে দিচ্ছি স্যার। জ্বি স্যার, স্লামালাইকুম স্যার”
ফোন রেখেই সে রহমতুল্লাহর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “নাম কী?”
-রহমতুল্লাহ।
-ওকে। তোমাকে রহমত ডাকবো। শোনো রহমত, আমাদের একটা ধানওয়ালা জমি লাগবে। অনেক ধান। কোটি কোটি ধান। গ্রামে যার জমিতে ধান আছে তার কাছে নিয়ে চলো।


২.
রহমতুল্লাহ কার বাড়িতে নিয়ে যাবে ভেবে পাচ্ছে না। প্রথমে নুরছাপার কথা মনে পড়েছে। ছোটবেলার বন্ধু। কিন্তু নুরছাপার জমি আছে কিনা মনে পড়ছে না। তবে সে যেতে চায়, এক কাজে দুই কাজ। অনেকদিন বন্ধুর সাথে দেখা হয় না।

নুরছাপা ছোটবেলার বন্ধুকে দেখে আনন্দে আটখানা। উঠানেই পিড়ি পেতে দিয়েছে। বাড়ির মহিলারা লুকিয়ে চুরিয়ে উঁকি দিয়ে ঘটনা ধরার চেষ্টা করছে। প্রাথমিক আলাপ শেষে নেতা ভদ্রলোক মুখ খুললেন, “এতো মায়ার বাঁধনের দরকার নাই। কাজের কথায় আসি, আপনি কৃষক?”
নুরছাপা হাসি হাসি মুখে উত্তর দিলো, “জ্বে। আপনে?”
প্রশ্ন শুনে নেতা সাহেব বিব্রত হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললেন, “আমি কী জানার দরকার নাই। চলো তোমার জমিতে। ধান কাটবো”।
-কিন্তু স্যার, আমার জমিতে তো ধান নাই। আমি তো পটল আর আলু চাষ করি।
“পটল-আলু?” সবাই সবার দিকে তাকালো। চারজন মিলে একবার রহমতুল্লাহর দিকেও তাকালো। তড়িত রহমতুল্লাহর মাথায় বুদ্ধি চলে আসলো। সে নেতার উদ্দেশ্যে বললো”, স্যার চলেন সবাই আলু-পটল তুলি। এইগুলাও তো খারাপ না। পটল কুচিকুচি কইরা ভাজলে . .”।
“চুপ করো” ধমক দিয়ে ওঠেন নেতা সাহেব, “ফাজলামো করো? ধান ক্ষেত কার আছে বলো।”
রহমতুল্লাহ বা নুরছাপা কেউই ঘটনা ধরতে পারছে না। তবে নুরছাপা উশখুশ করছে কিছু একটা জিজ্ঞেস করার জন্য। কিন্তু সাহসের অভাবে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। ততক্ষণে নেতার ফোন বেজে ওঠে। সে রিসিভ করে, “স্যার, হ্যাঁ স্যার। সামান্য একটা আলুর দোষ হয়েছে স্যার। স্যরি স্যার, হ্যাঁ স্যার আলুর দোষ না, স্যরি, ওটাতো মানুষের হয় স্যার। এখানে ক্ষেতে একটা সমস্যা হয়েছে স্যার। আমাদের কৃষক ভুল করে ধানের বদলে ক্ষেতে স্যার পটল-আলু এসব ফলিয়ে ফেলেছে। বোকা কৃষক স্যার, স্যারি স্যার, কৃষকের পক্ষ থেকে স্যরি, না স্যার পটল তুলবো না, ধান স্যার, হ্যাঁ স্যার ধান, স্যার তো আপনি স্যার। আমরা ব্যাপারটা দেখছি স্যার। আপনি কিচ্ছু ভাববেন না স্যার। আমি জামিলকে বলে দিচ্ছি আরেক লিটার কোক দিয়ে যেতে। কী স্যার? কোক লাগবে না? শুধু চিপস হলেই হবে? ওকে স্যার”

ফোন রেখে নেতা সাহেব রহমতুল্লাহ এবং নুরছাপাকে নির্দেশ দিলেন, “ধানের জমি আছে এমন কৃষকের কাছে নিয়ে চলো। আলু পটলে হবে না। স্যার ধান কাটবেন। এবার যদি না পাই তোমাদের দুইজনের আলু-পটল দুইটাই তুলে ফেলা হবে”।
ধমক শুনে রহমতুল্লাহ ভয়ে পেয়ে লুঙ্গিটা টাইট করে বাঁধলো। এদিকে নুরছাপার বিস্ময় এখনো যায়নি। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। অতি নিচু স্বরে রহমতুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলো, পটল বলতে কী বুঝাইছে তুমি বুঝছো?
রহমতুল্লাহ কোনো জবাব না দিয়ে লুঙ্গিটা আরেকটু টাইট করে বাঁধে।

৩.
-আপনার নাম কী?
-আমার নাম ছালেক, আবু ছালেক।
-আপনার জমির ধান কাটা হবে। আমরা ঢাকা থেকে এসেছি। চলেন জমি দেখে আসি।
-কিন্তু আমরা তো ধান কাটার লোক তো নিয়া নিছি। বেয়ানবেলা আইলে অইতো।
কথা শুনে নেতা সাহেব রেগে গেলেন, “ফাজলামো মারেন? আমাদের দেখে মনে হয় আমরা ধান কাটি?”
-তাইলে আফনেরা কী কাটেন?
-আমরা ঢাকা থেকে আসছি। আপনাদের ধান কেটে দিতে, আপনাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। কারণ এই সুযলা সফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশের প্রাণ আমাদের কৃষকরাই। কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। আপনাদেরকে বাঁচাতেই আমাদের আসা।
পুরো কথা শুনে আবু ছালেকেরে বয়স্ক মুখ শক্ত হয়ে গেছে। সেরকম শক্ত কন্ঠেই বললেন, ‘’ঢাকায় গিয়া অন্য কিছু কাটেন গা। ঢং মাইরেন না”।
বলেই আবু ছালেক তার বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো। চারজন অসহায় হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। বাকি দুইজন মানে রহমত এবং নুরছাপাও অসহায়, তবে তারা কেউ কারো দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না।
এরমধ্যে নতুন পরিকল্পনা হয়। যেহেতু বাড়ি বাড়ি যাওয়া ঝামেলা এবং পুরো গ্রাম খুঁজে খুঁজে ধান ক্ষেত বের করা আরো ঝামেলা সেহেতু সিদ্ধান্ত হয়েছে নেতাসহ বাকি তিনজন পুকুর পাড়ে বিশ্রাম নিবে। এই ফাঁকে রহমত এবং নুরছাপা গ্রামের দশজন কৃষককে এখানে নিয়ে আসবে। পুকুর পাড়ে পাটি বিছানো হয়েছে। বিকালের শেষ দিকে। সাহেব সাহেব কাকে যেন ফোন দিচ্ছেন। কিন্তু ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ করেনি। সে তার তিন সহকর্মীকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “স্যার তো ফোন ধরে না। খারাপ কিছু হলো নাতো? এক কাজ কর। জামিলরে ফোন দে”।
সহকর্মীদের মধ্যে যার চেহারা সবচেয়ে ভদ্র সে ফোন দিলো জামিলকে, “হ্যালো জামিল। স্যার কই? ফোন ধরে না ক্যান? আচ্ছা। আচ্ছা। ওহ আচ্ছা। হা হা হা হা। আচ্ছা। আরে বুঝছি মামা। হ। ঠিক আছে”।
সবার আগ্রহ তার দিকে। সে ফোন রেখে হাসি লুকিয়ে বললো, “স্যার ঘুমাইতেছে”।
নেতা জিজ্ঞেস করলেন, “কতোক্ষণ ধরে?”
-কতোক্ষণ সেইটা জামিল জানে না। তবে বমি করার পর থেইকা।
-জামিলকে জানাতে বলো স্যার কতোক্ষণ ঘুমিয়েছে।
-সে জানাতে পারবে না।
-কেনো?
-সেও এখন বমি করতে যাবে।

৪.
দশজন কৃষক পাওয়া যায়নি। ছয়জনকে পাওয়া গেছে। আপাতত তাদেরকে পুকুরপাড়ে নেতাদের সামনে বসানো হয়েছে। এক একজন করে ইন্টারভিউ নেয়া হচ্ছে।
-নাম কী?
-কলা মিয়া
-বয়স কতো? আর এই নাম ক্যান?
-বয়স ৬ পঞ্চাইস তো অইবোই।
-নাম এমন কেনো?
-আগে কলা চাষ করতাম। এলাকার পোলাপাইন তাই নাম ফুটায়ে দিছে। পোলাপাইন স্যার খুব খারাপ। সাবধানে থাইকেন।
-বেশি কথা বলো। তোমার কয় বিগা জমি?
-আমার কোনো জমি নাই। আমি বর্গা চাষ করি।
কৃষকের উত্তর শুনে নেতার লম্বা সহযোগী ক্ষেপে যায়, “তুমি ধান চাষ না করে বর্গা চাষ করো? তুমি জানো না, ধান আমাদের প্রধান ফসল, তুমি জানো না আমরা ভাত খেয়ে বেঁচে থাকি। তোমরা কী? এতো অশিক্ষিত হইলে দুনিয়া চলে। যাও তুমি বিদায় হও।“

কলা মিয়া বিদায় নিয়েছে। পরেরজন একটু সামনে এসে বসেছে।
-তোমার নাম কী?
-আসগর আলী
-তোমার জমি কই?
-আছে।
-কই আছে?
-এই যে সামনে। দুইটা বাড়ি পার হইলেই। ধান কাটবেন? আমার জমিতে ম্যালা ধান।

শুনে সবার চোখ ছলছল করে উঠলো। সবাই মিলে রওনা দিলো জমি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে।

৫.
নেতাকে সবার আগে বাঁধা হয়েছে। তিন সাগরেদের দু’জনকে বাঁধা হয়েছে অন্য গাছে। লম্বা মতোন যে সাগরেদ সে এখন কৃষকদের দলে যোগ দিয়ে এক কৃষকের লুঙ্গির কাছা ঠিক করে দিচ্ছে। পুরো বিষয়টা নেতৃত্ব দিচ্ছে মোখলেস মিয়া। পুরো গ্রামে খবর ছড়িয়ে গেছে। সবাই যে যার কাজ ফেলে দেখতে এসেছে। পুরো গ্রামে যেন একটা উৎসব। এমন অনেকদিন এই গ্রামে হয়নি। তাই সবার মধ্যে উত্তেজনা বেশি।

মোখলেস মিয়া নেতার সামনে গিয়ে বললো, “হুনেন, আমরা আপনাগো লাইগা কাম ঠিক করছি। কৃষকের পাশে দাড়াইবেন, ঘুমাইবেন, শুইবেন, হাগবেন মুতবেন সব করবেন। আফনের ভাগে পড়ছে গরুর দুধ দুইবেন। এলাকা টোটাল ৭৬টা গরু আছে। কয়েকটা খুব বদমেজাজী।"
এই বলে তিনি পাশের গাছে বাঁধা বাকি দুই সাগরেদের কাছে গেলেন, “তোমগো কাম আরো সোজা। তোমরা দুইজন গরুর কাম করবা। ধান ছাড়াইতে গিয়া এলাকার বেশিরভাগ গরু ব্যারামে পড়ছে। আইজকা রাত্রে তোমরা সার্ভিস দিবা। ওগোরে খাওন দে। ম্যালা কাম”।

অসহায় নেতা কথা বলার চেষ্টা করে। বিনয়ের সাথে বলে, “মোখলেস ভাই একটা কথা। আমি একটু আমার স্যারকে ফোন দিতে চাই”।
-দেও। তারেও আসতে কও। আমগো লোক দরকার। তারে দিয়া নিড়ানী দিমু।
-তিনি আসবেন না। আমি খালি ফোনটা দিবো।

নেতা ফোন দেয়। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ রিসিভ করে না। ফ্যাসফ্যাসে গলায় গাছে বাঁধা দুই সাগরেদকে বলে, “স্যার তো ফোন ধরে না জামিলকে ফোন দাও।“
কয়েক’শ লোক উপস্থিত। সবাই বেশ উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে ঘটনা দেখছে। নানাজন আবার নানা মন্তব্য করছে। এরমধ্যে চিকন সাগরেদকে পাঠানো হয়েছিলো গরুটা আনতে, সে একাই ফিরে এসেছে। মোখলেস জিজ্ঞেস করলো, “কী মিয়া গরু কই?”
-স্যার গরু তো বেয়াদব। পথের মধ্যে আমাদের টাইনা হিচড়া একা একা কই জানি চলে গেলো। আমি অনেক খুজলাম পাইলাম না।
“এই ওরেও বাঁধো” কথা শুনে মোখলেস নির্দেশ দিলো। কথা মতো তাকেও বাঁধা হলো নেতা গাছের সাথে। এদিকে জামিলকে ফোনে পাওয়া গেছে। খাটো সাগরেদ ফোনে কথা বলছে, “জ্বি হ্যাঁ, ও আচ্ছা। তুমি কী করো? ও হ্যাঁ। আচ্ছা। সাবধানে”।
কথা শেষ করার সাথে সাথে নেতা প্রশ্ন করে, “কার সাথে কথা বললা? জামিল?”
-না কেয়ারটেকার।
-স্যার কী ঘুম থেকে উঠেছেন?
-একবার উঠেছেন, হালকা বমি করে আমার ঘুমিয়ে পড়েছেন।
-জামিল কী করে?
-সেও বমি করে এখন ঘুমাইতেছে।
-দারোয়ান হারামজাদা কী করে?
এবার সে ভয়ে ভয়ে বললো, “স্যার ওর কথাও সুবিধার ঠেকে নাই। হারামজাদাও মনে হয় একটু পর বমি করবো”।
কথা শেষ করার আগে তিন-চারজন লোক আসলো বিশালদেহী একটা গরু নিয়ে। গরু কিছুতেই আসতে চাচ্ছে না। পালোয়ান কিসিমের লোকগুলা তাকে অমানবিকভাবে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসছে। এই গরু থেকে দুধ দোহাতে হবে। মোখলেস নেতার দিকে তাকিয়ে হুংকার দিয়ে উঠলো, “রেডি হও। গরু রেডি”।
নেতা গরুর দিকে তাকিয়ে ভকভক করে বমি করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো। মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে। তার ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে তিন সাগরেদ অসহায় হয়ে তাকিয়ে আছে। তারাও মনে মনে একটু বমির জন্য অসহায় হয়ে প্রর্থনা করছে। একবার বমি হলে বাকিটা পরে দেখা যাবে।

২২৪৬ পঠিত ... ১৯:২১, এপ্রিল ২৮, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top