ফিকশন যেভাবে সত্যিকে হারিয়ে দেয়

৫৫১ পঠিত ... ১৯:০১, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

ইয়্যুভাল নোয়াহ হারারি একজন ইজরাইলী ইতিহাসবেত্তা ও দার্শনিক। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক। তার রচিত ‘স্যাপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ হিউম্যানকাইন্ড’ একুশ শতকের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া নন ফিকশন বই। হারারির অপর দুটি বেস্টসেলার বই ‘হোমো ডিউস: এ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টুমরো’ এবং ‘টুয়েন্টি ওয়ান লেসনস ফর দ্য টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’।  

বর্তমানে লেখাটি নিউইয়র্ক টাইমস-এর ‘দ্য বিগ আইডিয়াজ: হোয়াট ইজ পাওয়ার?’ সিরিজের এই লেখাটি ২৪ মে ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত হয়।

অনেকেই বিশ্বাস করেন, ‘সত্য’ ক্ষমতাশালী। নেতা, ধর্ম, মতাদর্শগুলো বাস্তবতাকে যদি ভুলভাবে তুলে ধরে, তারা অধিক দৃষ্টিসম্পন্ন প্রতিপক্ষের কাছে হেরে যাবে। ফলে ক্ষমতালাভে সত্যের সঙ্গে থাকাই সবচেয়ে ভালো কৌশল।  

দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এটা নিতান্ত স্বস্তিদায়ক একটা ‘মিথ’ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে, ক্ষমতা ও সত্যের সম্পর্ক আরও অনেক বেশি জটিল, কারণ মানবসমাজে ক্ষমতা বলতে বোঝায় সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়কে। 

একদিকে, ক্ষমতার অর্থ, অবজেক্টিভ রিয়েলিটিকে প্রভাবিত করতে পারার যোগ্যতা: পশু শিকার করা, সেতু নির্মাণ বা রোগ-ব্যাধী নির্মূল করা কিংবা আণবিক বোমা বানানো; এই ধরনের ক্ষমতা সত্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। পদার্থবিদ্যার কোনো ভুল তত্ত্ব বিশ্বাস করলে আপনি আণবিক বোমা বা রকেট বানাতে পারবেন না। 

অন্যদিকে ক্ষমতা বলতে মানুষের বিশ্বাসকে প্রভাবিত ক’রে, বিশাল সংখ্যক লোককে দিয়ে সহজে কিছু করিয়ে নেয়ার যোগ্যতাকেও বোঝায়।   

এই যেমন, আণবিক বোমা বানাতে শুধু পদার্থবিদ্যা ভালোভাবে জানলেই শুধু চলে না, সাথে দরকার পড়ে লাখো মানুষের সমন্বিত শ্রমও। পৃথিবী গ্রহটা হোমো স্যাপিয়েন্সদের দ্বারা বিজিত হয়েছে, শিম্পাজিদের দ্বারা নয়। কারণ স্যাপিয়েন্সই একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী যারা বিশাল সংখ্যায় নিজেদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে। আর বড় আকারের সহযোগিতামূলক যেকোনো ব্যবস্থাই নির্ভর করে কমন কোনো গল্পের উপর। এই গল্পগুলো সত্যি হতে হবে এমন নয়। ঈশ্বর, জাতি বা অর্থনীতি বিষয়ে কোনো বানোয়াট গল্প মানুষকে বিশ্বাস করিয়ে আপনি মিলিয়ন মিলিয়ন লোককে একত্র করতে পারেন।    

সত্যি আর ক্ষমতার অদ্ভুত এই দ্বৈত স্বভাবের কারণ হলো আমরা, মানুষেরা, অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে বেশি সত্যি জানি, একই সাথে আরও প্রচুর গাঁজাখুরি গল্পেও বিশ্বাস স্থাপন করি। আমরা একই সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান আর বোকা অধিবাসী। খরগোশ E=MC² জানে না, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বয়স যে ১৩.৪ বিলিয়ন বছর কিংবা ডিএনএ যে সাইটোসিন, গুয়ানিন, এডেনিন আর  থাইমিনের সমস্বয়ে গঠিত সেসব নিয়েও খরগোশের কোন ধারণা নেই। 

অন্যদিকে খরগোশেরা পুরাণের ফ্যান্টাসি, মতাদর্শিক এবসার্ডিটিতেও বিশ্বাস করে না যা অগণিত মানুষকে হাজার হাজার বছর ধরে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। কোনো খরগোশ পরকালে ৭২টি  হুর পাওয়ার লোভে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান ঢুকিয়ে ধ্বসিয়ে দিতে রাজি হবে না।  

 

কোনো একটা কমন গল্পকে ঘিরে অসংখ্য লোককে এক করার ক্ষেত্রে, কল্পকাহিনী বরং সত্যের চাইতে অন্তত তিনটি বেশি সুবিধা পায়। 

প্র‍থমত, সত্যি যেখানে সার্বজনীন, কল্পকাহিনী সেখানে স্থানীয়। 

এ কারণে একটি গোত্রকে বহিরাগতদের থেকে আলাদা করতে একটা কল্পকাহিনী সত্যির চেয়ে ভালো কাজ করবে। মনে করা যাক, আমাদের গোত্রের সদস্যরা বিশ্বাস করে ‘সূর্য পূর্বে ওঠে আর পশ্চিমে অস্ত যায়’। খুবই মামুলি একটা মিথ। এখন জঙ্গলে আমার এমন কারো সাথে দেখা হলো, যেও সূর্যের ব্যাপারটি এভাবেই বিশ্বাস করে। এতে করে সে যে আমাদের গোত্রের একজন বিশ্বস্ত সদস্য তা নির্দেশ করে। পাশাপাশি এটিও বোঝায় যে, সে একজন বুদ্ধিমান বহিরাগত যে কি না আমাদের গোত্রের বাইরের কেউ হয়েও সূর্যোদয়ের ব্যাপারে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। ফলে আমাদের গোত্রের সবাইকে এটি শেখানো ভালো যে, ‘সূর্য হচ্ছে বিশাল এক ব্যাঙের চোখ যা প্রতিদিন আকাশজুড়ে লাফিয়ে বেড়ায়।’ কারণ যত বুদ্ধিমানই কেউ হোক, আমাদের কারো সাহায্য ছাড়া বাইরের কারো পক্ষে এই একই রকম ধারণা করা কঠিন। ফলে এই ধারণায় বিশ্বাস করে আমরা বাকিদের থেকে স্বতন্ত্র হতে পারি।

 

সত্যের উপরে কল্পনাকাহিনীর দ্বিতীয় সুবিধা হলো, সত্য হ্যান্ডিক্যাপ নীতিকে মেনে চলে। এই নীতির মূল কথা হলো,  বিশ্বস্ত সিগনাল, সিগনালদাতাদের জন্যে খরুচে ব্যাপার। অন্যথায়, প্রতারকেরা এই সিগন্যাল নকল করতে পারে। 

যেমন, স্ত্রী ময়ূরকে পুরুষ ময়ূর তার বিশাল বর্ণিল লেজ প্রসারিত করে তার ফিটনেসের সিগনাল দেয়। ফিটনেসের বিশ্বাসযোগ্য ইশারা। কারণ  ভারী, বিশাল লেজ শিকারী প্রাণীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই হ্যান্ডিক্যাপের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে শুধু স্বাস্থ্যবান ময়ূর। গল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।  

যদি কোন সত্যি গল্পে বিশ্বাস রেখে রাজনৈতিক বিশ্বস্ততার সংকেত দেয়া হয় তাহলে যে কেউ বিশ্বাসের ভান করতে পারে। কিন্তু হাস্যকর, উদ্ভট গল্প বিশ্বাস করা কঠিন এবং এসব গল্পে বিশ্বাস করা তাই বিশ্বস্ততার শক্ত সংকেত দেয়া। 

আপনার নেতা কেবল সত্যি বললেই যদি আপনি বিশ্বাস করেন, তা কীই বা এমন প্রমাণ করে? অন্যদিকে, নেতা আকাশ-কুসুম গল্প বানালেও যদি আপনি তাকে বিশ্বাস করেন, সেটাই হয় প্রকৃত বিশ্বস্ততা। ধূর্ত নেতারা মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করেই আবোলতাবোল বকে তার বিশ্বস্ত অনুসারীদেরকে সুসময়ের সমর্থকদের থেকে চিহ্নিত করতে পারে। 

 

তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  হলো, বেশিরভাগ সময় সত্যি খুব অস্বস্তির, বেদনাদায়ক। ফলে আপনি যদি শুধু বাস্তব সত্যকে নিয়ে থাকেন,  খুব কম লোকই আপনাকে অনুসরণ করবে। কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আমেরিকানদের যদি আসলেই আমেরিকার ইতিহাসের ব্যাপারে পুরো সত্যি কথা বলেন, নির্বাচনে তার পরাজয়ের নিশ্চয়তা শতভাগ।    

একই কথা অন্য দেশগুলোর নির্বাচনি প্রার্থীদের জন্যও প্রযোজ্য। কতজন ইজরাইলী, ইতালীয় কিংবা,ভারতীয় তাদের জাতির ব্যাপারে নির্ভেজাল সত্যি হজম করতে পারবে? সত্যের প্রতি অবিচল আনুগত্য, প্রশংসাযোগ্য আধ্যাত্মিক চর্চা হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে খুবই দূর্বল।  

কেউ কেউ অবশ্য বলতে পারেন, বানোয়াট গল্পে বিশ্বাসের দীর্ঘমেয়াদী ব্যয় স্বল্পমেয়াদের সামাজিক ঐক্যের চেয়ে অনেক বেশি। বানোয়াট কাহিনী আর মিথ্যায় বিশ্বাসের অভ্যাস একবার হয়ে গেলে, এই অভ্যাস আরও নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়বে, তারা ভূল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, ফলপ্রসু সামরিক কৌশল অবলম্বন করতে পারবে না, আর কার্যকর প্রযুক্তি নির্মাণেও সমর্থ হবে না। 

মাঝেমধ্যে যদিও এমন ঘটে থাকে, এটা সার্বজনীন নিয়মের বাইরে জিনিস। এমনকি এক্সট্রিমিস্ট জিলট বা উন্মাদরাও তাদের অযুক্তিকে আলাদা করে রাখতে পারে যাতে তারা অনেক গাঁজাখুরি জিনিস বিশ্বাস করলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে খুবই স্বাভাবিক থাকতে পারে। 

 

নাৎসিদের কথাই একবার ভাবুন। বর্ণবাদী নাৎসি তত্ত্ব ছিলো ভুয়া, অপবিজ্ঞান। এই তত্ত্বকে সত্য হিসেবে দেখাতে নানা 'বৈজ্ঞানিক প্রমাণ' হাজিরের চেষ্টা করলেও, লাখ লাখ মানুষকে হত্যার মতো শক্তিশালী বিশ্বাস লালন করার জন্যে তাদের ভেতরকার যুক্তিবাদী অংশকে চুপ করিয়ে রাখতে হয়েছে। অথচ গ্যাস চেম্বারের নকশা প্রণয়ন কিংবা অসউইটস ট্রেনের টাইমটেবিল ঠিক রাখার সময় কিন্তু তাদের যুক্তিবোধ ঠিকই বেরিয়ে আসতো। 

নাৎসিদের ব্যাপারে যা সত্যি ইতিহাসের আরও অনেকে উন্মাদদলের জন্যেও সেটা সত্যি। মনে রাখলে ভালো, বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের শুরু হয়েছিল সবচেয়ে ধর্মোন্মাদ একটা সংস্কৃতিতেই। 

কলম্বাস, কোপার্নিকাস আর নিউটনের সময়ের ইউরোপ ছিলো ইতিহাসের সবচেয়ে ধর্মীয় জঙ্গিপনার সময়। সহিষ্ণুতা ছিলো ইতিহাসের যেকোনো যুগের চেয়ে কম। নিউটন নিজে বাইবেলের গুপ্তবার্তার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র খোঁজার পেছনে যত সময় ব্যয় করছেন, অন্য কাজে ততটা করেন নাই। বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের এই আলোকিতরা এমন এক সময়ে বাস করেছেন যে সমাজ ইহুদি আর মুসলিমদের সমাজচ্যুত করতো, হেরেটিকদের পাইকারী হারে পুড়িয়ে মারতো, বেড়াল পোষা যেকনো বৃদ্ধার মধ্যে ডাকিনী খুঁজে পেতো আর প্রত্যেক পূর্নিমায় নতুন নতুন ধর্মযুদ্ধ শুরু করতো৷   

এখন থেকে ৪০০ বছর আগের কায়রো বা ইস্তানবুল ভ্রমণ করলে আপনি বরং একটা বহুসংস্কৃতি ও সহিষ্ণুতার মহানগরী দেখতে পেতেন যেখানে সুন্নি, শিয়া, অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ান, ক্যাথলিক, আর্মেনীয়, কপ্টিক, ইহুদি এমনকি কখনও বা হিন্দুও শান্তিমূলক সহাবস্থান করেছে। 

হ্যা, মাঝেমধ্যে তাদের মধ্যে মতানৈক্য বা দাঙ্গা হতো না এমন নয়, - এবং অটোমান সাম্রাজ্য প্রায়শই ধর্মীয় বিবেচনায় অনেকের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করতো- তবে পশ্চিমের ইউরোপের সঙ্গে তুলনা করলে তা ছিলো উদারতার স্বর্গ। তখনকার লন্ডন বা প্যারিসে গেলে আপনি দেখতেন, শহর ছেয়ে গেছে ধর্মীয় গোড়ামিতে, যেখানে প্রভাবশালী ধর্ম বিশ্বাসের লোকেরাই কেবল বাঁচতে পারতো। লন্ডনে হত্যা করা হয়েছে ক্যাথলিকদের, প্যারিসে প্রোটেস্ট্যান্টদের; ইহুদিদের বহু আগেই বিতাড়িত করা হয়েছে, আর মুসলিমদের বাস করার কথা তো কল্পনা করাও অসম্ভব। অথচ সায়েন্টিফিক  রেভোল্যুশন শুরু হলো কায়রো বা ইস্তানবুলে নয়, লন্ডন আর প্যারিসে।  

 

যুক্তিবোধকে এইভাবে আলাদা আলাদা প্রকোষ্ঠে রাখার ক্ষমতার মূলে আছে আমাদের মস্তিষ্কের কাঠামো। মস্তিষ্কের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন পদ্ধতির চিন্তার জন্যে দায়ী। সংশয়ী চিন্তার জন্য মস্তিষ্কের দরকারী অংশটুকুকে মানুষ অবচেতনভাবে নিষ্ক্রিয় বা সক্রিয় করতে পারে। এডলফ আইখমান তাই  হিটলারের জ্বালাময়ী ভাষণ শোনার সময় তার প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করতে রাখতে পারতো। আবার অসউইটস ট্রেনের শিডিউল তদারকের সময় ঠিকই সেটিকে সক্রিয় করে নিতে পারতো।   

যুক্তিবোধকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে গিয়ে আমাদের কিছু ক্ষতি হলেও, বিবর্ধিত সামাজিক ঐক্যের সুবিধা প্রায়শ এতো বেশি যে, মানব ইতিহাসে কল্পকাহিনী নিয়মিতই সত্যের উপরে জয় লাভ করে। হাজার বছর ধরে পণ্ডিতেরা এটা জানতো। পন্ডিতদের এ কারণে প্রায়ই দোটানায় পড়তে হতো যে, তারা কি সত্যের পক্ষ নেবে নাকি সামাজিক ঐক্যের। একই গল্প সবাইকে বিশ্বাস করিয়ে জনগণকে এক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত নাকি লোকজনকে সত্যিটা জানতে দেয়া উচিত? এমনকি তারা সমাজে বিশৃঙখলা সৃষ্টি করতে পারে জেনেও! 

সক্রেটিস সত্যকে বেছে নিয়েছেন এবং মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। ইতিহাসে পান্ডিত্যের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো - হোক তা ক্রিশ্চান যাজক, কনফুসীয় মান্দারিন কিংবা কমিউনিস্ট আইডিওলগেরা- সত্যের চেয়ে সামাজিক ঐক্যে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে এগুলো এতো শক্তিশালী।

৫৫১ পঠিত ... ১৯:০১, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৯

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top