এই শীতে শহুরে ফ্যান তার বন্ধু গেঁয়ো ফ্যানকে যেমন চিঠি লিখলো

১২৮৪ পঠিত ... ১৭:২২, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

কী করে যেন এক শহুরে ফ্যানের সঙ্গে এক গেঁয়ো ফ্যানের ভীষণ বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। ওদের তো আর ফেসবুক নেই, এখনো চিঠি লিখেই যোগাযোগ করতে হয়। কী করে যেন এই শীতকালে (গ্রামে, শহরে আবার কিসের শীত?) একে অপরকে লেখা তাদের দুটো চিঠি আমাদের হাতে চলেও এসেছে। দেখুন, কী নিয়ে আলাপ করছে তারা!

 

শহুরে ফ্যানের কাছে গেঁয়ো ফ্যানের চিঠি

প্রিয়তমেষু,
কেমন আছো? এখনো কি ঘুরাঘুরিই করছো? আমার শীতের ছুটি হয়েছে তাও এক মাস হয়ে গেলো। শুধু দুপুরবেলা মাঝেমধ্যে দুয়েক ঘন্টা ডিউটি দিলেই হয়। সারা বছর ঘুরতে ঘুরতে খুব ক্লান্ত হয়েছিলাম ঠিকই, কাজ না থাকায় কয়েকদিন ভালোও লাগছিল। তবে এখন বেশ অলস সময় কাটাচ্ছি। ঘুরাঘুরি বন্ধ হওয়াতে বদমাইশ টিকটিকি ও তেলাপোকাগুলো খুব জ্বলাচ্ছে। যখন তখন গায়ের উপর এসে পড়ে। নিজেরা তো আসেই, মাঝে মাঝে তাদের বন্ধুদের নিয়ে এসে আড্ডা মারে, নেশাপানি করে। কাল সঙ্গিনীকে নিয়ে এসে আমার পাখার উপর বসে রোমান্স করেছে। রোমান্স করে যাওয়ার সময় ইয়ে করে দিয়েও চলে গিয়েছে। মনে হচ্ছে আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই আমাকে পর্দা করিয়ে ফেলতে পারে, আবার আমার ডানাপালা খুলে বাক্সবন্দিও করে ফেলতে পারে। প্রতিবারের মতোই তোমার চিঠি না পেয়ে বুঝেছি, তোমার এখনো ছুটি হয়নি। ছুটির আগে চিঠি পেয়ে গেলে ভোররাতের অবসরে উত্তর দিও।

 


শহুরে ফ্যান গেঁয়ো ফ্যানের চিঠির যেমন উত্তর দিলো

 

প্রিয় বেস্টি,
ভালো খারাপ নিয়ে ভাবি না আর। ঘুরে যাওয়াকেই আজকাল জীবন মনে হয়। এই ব্যস্ত শহুরে জীবনে ছুটিকে আজকাল মরীচিকা লাগে। এই শহরে প্রেম নেই, অবসর নেই... শীতকাল থাকলেও শীত নেই। আরো ১৫ দিন আগে ছুটি হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ২৪ ঘন্টাই ডিউটি দিচ্ছি। ঘুরছি তো ঘুরছিই, ঘুরছি তো ঘুরছিই। খুব বেশি হলে মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কিছুটা অবসর জোটে। যা অবস্থা দেখছি, হয়তো ১৫-২০ দিনের মতো ছুটি পাবো। আজ রাতে হালকা একটু শীত পড়ছিল, কম্বল বেটাকেও দিয়ে দিছিলো ওয়াশে, তাই অল্প একটু অবসর পেয়েছি। সেই অবসরেই লিখছি। তোমাদের সুখের কথা শুনলে মাঝে মাঝে গ্রামে চলে যেতে ইচ্ছে করে।

জানো, এই পুঁজিবাদি সমাজ দুর্বলের উপরই সবচেয়ে বেশি প্রহসন চালায়, দুর্বলের গা থেকে প্রতিফুঁ বাতাস ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বের করে আনে। শহরে আজকাল বিদ্যুতও তেমন যায় না। আর গেলেই কি, আমাদের অবসর নেই। জেনারেটর, আইপিএস দিয়ে আমাদের উপর অমানবিকতা চালাতেই থাকে। একা একাই কাজ করতে হয় আজকাল। কাজ করতে করতে বিরক্ত হলে এসি আর ছোট ফ্যানটার সাথে গল্প করার সুযোগও নাই। ওদের ছুটি হয়ে গেছে। ওরা আজকাল ২৪ ঘন্টাই ঘুমায়।

শহরে কমরেড শীতের ক্ষমতার প্রতাপ হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের সুখভাগ্যটাও হারিয়ে গেছে। দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে যাচ্ছি। আর অপেক্ষা করছি সুখের দিনের। কমরেড শীত একদিন আসবে। একদিন আবারো মুহুর্মুহু কুয়াশা আক্রমণে শহরে শীতের ক্ষমতার জোয়ার আসবে। সেদিন, সেদিনই আবার প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্যবাদ। আমরাও পাবো পুরো শীতজুড়ে অখন্ড অবসর। এ জন্যই হয়তো কবি বলেছিলেন, দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর...

কবে একটু ঘুরাঘুরি বন্ধ করাৎ মতো শীত পড়বে জানি না, একটু অবসর পেলেই আবার লিখব। অপেক্ষায় থেকো...

১২৮৪ পঠিত ... ১৭:২২, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

Top