প্রচন্ড শীত পড়েছে। পানি ভীষণ ঠান্ডা। তোমার একদমই ইচ্ছা করছে না গোসল করতে। অথচ বাসা থেকে গোসলের জন্য চাপ দিচ্ছে? প্রেমিকা হুমকি দিয়েছে গোসল না করলে ব্রেকাপ করে ফেলবে? এলাকার লোক তোমাকে দেখলেই নাক চেপে ধরে সরে যাচ্ছে? সবাই ছি ছি করছে? তাহলে এই লেখাটা শুধুমাত্র তোমার জন্য।

সবার আগে মনে রাখবে, গোসল না করা কোনো অপরাধ নয়। গোসল করতেই হবে, এমন কোনো আইন নেই, নীতিমালা নেই। তুমি গোসল করবে কি করবে না, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই তোমার নিজের। তোমার ফ্যামিলি, প্রেমিকা বা সমাজের কোনো অধিকার নেই তোমার ওপর জোর করে এই শীতে গোসলকে চাপিয়ে দেয়ার। একবার ভেবে দেখো, মাত্র একুশ দিন গোসল না করায় যে মেয়ে তোমাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে, সে আসলে কখনো তোমাকে ভালোই বাসেনি। ভালোবাসা মানে সব ভালোর সাথে সাথে তোমার ভালো লাগা মন্দ লাগাকেও মেনে নেয়া। যে তোমার ভালো লাগা মানে গোসল না করাকেও মেনে নেয় না, তার ভালো লাগার কথা কেন ভাববে? ভালোবাসা মানে তোমার গায়ের দুর্গন্ধটাকেও ভালোবাসা।

যে সমাজ তুমি গোসল না করে থাকায় আজ ছি ছি করছে, কাল তুমি না খেয়ে থাকলে কেউ একপ্লেট আলুসহ কাচ্চি তোমার সামনে এনে রাখবে না। তাই মানুষ কী ভাববে, এটা যেন তোমার ভাবনার বিষয় না হয়।
পৃথিবীতে গোসল করা বাদেও আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। সফল হওয়ার জন্য গোসল করাই মূল কথা নয়। যুগে যুগে বহু বিখ্যাত মানুষ প্রতিদিন গোসল না করেও সফল হয়েছেন। ভেবে দেখো, আইনস্টাইন যখন আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে ভাবছেন কিংবা নিউটন যখন আপেল গাছতলায় বসে ছিলেন, তখন কি কেউ প্রশ্ন করেছিল তারা গোসল করেছেন কিনা? বব মার্লের কথা ভাবো, তিনি কি নিয়মিত গোসল করতেন? এক আর্কিমিডিস গোসল করতে করতে 'ইউরেকা' পেয়েছিলেন বলেই যে সবাই পারবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই! এক বালতি পানি আর একটা মগ কখনো ঠিক করে দিতে পারেনা তুমি জীবনে কি করতে পারবে আর কি পারবে না।

মনে রাখবে, তুমি কারো কোনো ক্ষতি করোনি। তুমি কারো টাকা আত্মসাৎ করোনি। তোমার প্রতি একটাই অভিযোগ, তুমি গত দেড়মাস গোসল করো না। হয়তো মানুষ সেজন্য তোমাকে নিয়ে হাসে, তোমাকে নোংরা বলে। তুমিও নিজেকে অপরাধী ভাবো, লোকালয় থেকে দূরে থাকতে চাও। কিন্তু আর না। জেনে রাখো, তুমি খবিশ হতে পারো, কিন্তু খুনি না। তুমি পিচাশ হতে পারো, কিন্তু পাপি না। তুমি কোন সাবজেক্টে পড়বে, তুমি কোন মার্কায় ভোট দেবে, তুমি বড় হয়ে কি হবে, কাকে বিয়ে করবে, এগুলোর মতো তুমি গোসল করবে কি করবে না, সেই সিদ্ধান্তও আজ থেকে হোক শুধুমাত্র তোমার একার। গোসল না করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে যুগে যুগে অপরাধী সেই মুনী, ঋষি ও সাধুরা যারা দিনের পর দিন গোসল না করে জঙ্গলে বসে বসে ধ্যান করেছিলেন। একদিন গোসল না করায় তুমিও কিন্তু সাধু হওয়ার পথে এগিয়ে গেলে এক ধাপ।

এই যে, আমাকেই দেখো। গোসল করি এই নিয়ে দশ দিন হলো। এতে কি আমার সিক্স ডিজিটের স্যালারি কমে ফাউভ ডিজিট হয়ে গেছে? হয়নি। ক্লায়েন্ট মিটিংএ সবাই রুমাল দিয়ে নাক চেপে রাখলেও ঠিকই হাসিমুখে প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। এটা আমি পেরেছি। কারণ, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। আমি আড়ালে আবডালে করা মানুষের নিন্দাকে ভয় পাইনি। কেউ খবিশ বললেও আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আমি বিশ্বাস করি, গোসল শুধুমাত্র একটা লোক দেখানো কর্পোরেট ব্রেইনওয়াশ। মানুষের আসল পরিচ্ছন্নতা তার চামড়ায় না, তার অন্তরে। তাই তুমি গোসল করো না বলে যে তুমি অন্যদের থেকে নোংরা, এই ভুল ধারনা থেকে বের হয়ে আসো। শীতকালে গোসল না করার এই ডিসিশন তুমি নিজেই নিয়েছ। নিজের নেয়া সিদ্ধান্তকে ভালোবাসতে শেখো। ঘরে লুকিয়ে না থেকে লোকালয়ে বের হও। সবার সামনে বুক ফুলিয়ে দাড়াও। হাসিমুখে চিৎকার করে বলো, 'হ্যাঁ, আমি গোসল করি না। আমি এই শীতে গোসল করবো না। হ্যাঁ, এটাই আমি!'

