আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নেতা-কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র মানসিক অস্থিরতা ও ঐতিহাসিক নস্টালজিয়া সিনড্রোম। বিশেষ করে ‘রাতের ভোট’ ও ‘ডামি নির্বাচন’ ছাড়া নির্বাচন কল্পনাই করতে পারছেন না অনেকেই। দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ভোট দেওয়ার অভ্যাস থাকায় এবার দিনের আলোয় নির্বাচন হওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নস্টালজিয়া কাটাতে ১২ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের কাছে ডামি রাতের ভোট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দলটির এক নেতা বলেন, আমাদের ভোট তো এমনিতেই রাতেই হয়। কাজেই ভারতে একটা ডামি ভোট হলে সাধারণ মানুষ বিরক্ত হবে না। বরং আমরা বসে বসে ভোটের দিনটার ফিল নিতে পারবো। বিদেশে থেকেও দেশি স্বাদ। ভারতে অবস্থানরত এক সিনিয়র নেতা বলেন, রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত যদি ম্যাক্সওয়েলের মতো ব্যালট বাক্স ভর্তি না করতে পারি, তাহলে আমাদের ঘুমই আসে না। এই ভোট আমাদের জন্য থেরাপির মতো।
এদিকে শুধু ভোট নয়, ভোট শেষে পশ্চিমবঙ্গে একটি ডামি সরকার গঠনের দাবিও তুলেছেন দলটির কিছু অতিউৎসাহী নেতা। তাদের বক্তব্য, যেহেতু ভোট ডামি, সরকারটাও ডামি হোক। দুধ না হোক অন্তত ঘোল দিয়ে আমাদের স্বাদটা মেটাতে দিন। সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এই ডামি নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ ‘নস্টালজিক ব্যালট বাক্স’, যেখানে ঢোকানো হবে অতীতের জাল ব্যালট, ফাঁকা সিল এবং ঐতিহাসিক সিলমারা কালি।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপক প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়েছে, ডামি ভোট চাই, রাতের ভোট চাই, নস্টালজিয়া বাঁচাই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন একধরনের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে হঠাৎ করে বাস্তব নির্বাচনে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আওয়ামী লীগের এই আবেগঘন আহ্বানকে ‘ডেমোক্রেটিক উইথড্রয়াল সিনড্রোম’-এর ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।


