খাদ্য বিষয়ে দার্শনিকেরা, দার্শনিকদের খাদ্যাভ্যাস

৫৮২ পঠিত ... ২১:৩৬, নভেম্বর ০২, ২০১৯

নুডলস খাইতে খাইতে একবার আমি  বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘হিস্ট্রি অফ ওয়েস্টার্ন ফিলসফি’ পড়তেছিলাম।

অত্যন্ত জ্ঞানের চাপেই কিনা কে জানে, এক পর্যায়ে মনে হইলো, আচ্ছা এই মহান দার্শনিকেরা খাইতো কী? প্রজ্ঞা খেয়ে বাচতো না নিশ্চয়ই তারা! দিনের  চব্বিশ ঘন্টা তারা অবশ্যই জ্ঞানচর্চায় কাটাইতো না।

ফলে, আমি রাসেলের ‘পশ্চিমা দর্শনের ইতিহাস’ কিছুদিনের জন্যে স্থগিত রেখে খাওয়া-দাওয়ার ইতিহাস বিষয়ক বইপত্র ঘাটাঘাটি শুরু করলাম।

অচিরেই জেনে স্বস্তি পাইলাম যে সক্রেটিস, প্লেটো এরিস্টটলের মতো প্রাচীন গ্রিসের প্রজ্ঞাবানেরাও আমাদের মতো তিনবেলা খাইতো। সকালে ঘুম থেকে উইঠা সকালের নাস্তা, কাজ কর্ম করে দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবার।      

বেশিরভাগ প্রাচীন গ্রিক, অতি ধন্যাঢ্য বাদে, একই জিনিস খাইতো সকালের নাস্তায়। ওয়াইনে ভিজায়ে রুটি। রুটি বানানো হইতো মূলত বার্লি দিয়া কারণ বার্লি অন্য যেকোনো খাদ্যশস্যের চাইতে বেশি জন্মাইতো প্রাচীন ইউরোপে। প্রাচীন গ্রিসের ধনীরা অবশ্য বার্লির পরিবর্তে রুটি বানাইতো গমের আটা দিয়া।     

তো, বইপত্র ঘাটতে গিয়া এক পর্যায়ে বেচারা রাসেলের জন্যে একটু মন খারাপ হইলো। পড়তেছিলাম দর্শন। সেখান থেকে পেটুকের মতো চলে গেলাম  খানা-খাদ্যের ইতিহাসে। এই কারণে চিন্তা করলাম, দর্শন না পড়লেও দার্শনিকদের খাওয়া-দাওয়া বিষয়ে কিছু লেখা দরকার। 

‘আপনি কী খান বলেন, আমি আপনারে বলে দেবো আপনি কে’- লিখছেন উনিশ শতকের ফরাসি প্রাবন্ধিক জ্য আনথেলমে ব্রিলা-সাভারিন। তার বিশ্বখ্যাত বই ‘দ্য ফিজিওলজি অফ টেইস্ট।’ খাবার-দাবারের বইয়ের ইতিহাসে বইটারে মনে করা হয় নাম্বার ওয়ান ক্লাসিক। বইটা আমার পড়ার ইচ্ছা ছিলো। দুইটা কারণে আপাতত পড়া গেলো না। 

প্রথমত, ক্লাসিক হইতেছে সেই বই, যারে সবাই মনে করে সবারই পড়া উচিত কিন্তু কেউ পড়ে না।
দ্বিতীয়ত, বইটা লেখা হইছে ১৮২৫ সালে ফরাসি ভাষায়, অনূদিত ইংরেজিটাও দেখলাম খুব একটা সুখপাঠ্য না এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫০৪!   

তো, বইটা না পড়লেও বিখ্যাতদের খানাখাদ্য নিয়া এবং ফুড হিস্ট্রির বেশ কিছু বইপত্র যেহেতু পড়ছি, আপাতত দার্শনিকদের খাদ্য বিষয়ক কিছু আলাপ তো দেয়াই যায়।

অলংকরণ: শফিক হীরা

   

রেনে দেকার্তের প্রিয় খাবার: ভেড়ার মাংস আর ওয়াইন 

দর্শনে গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার ব্যবহারের সুচনা করা ফরাসি রেনে দেকার্তকে বলা হয় আধুনিক দর্শনের জনক। যারা দর্শনের স্টুডেন্ট না, তাদের অন্তত স্কুলের অঙ্কের পাঠ্য বইয়ের কার্তেসীয় স্থানাঙ্কে এই ভদ্রলোকের কাজের সাথে দেখা হওয়ার কথা। 

সৌন্দর্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে দেকার্তের মতামত কম অদ্ভুত ছিলো না। যেমন, 'সামান্য ট্যারা চোখের মেয়ে’ –দের নিয়া দেকার্তের মারাত্মক লেভেলের ফেটিশ ছিলো। লিখছেন, ‘আমার সমান বয়সী একটা মেয়েকে ভালোবাসছিলাম... তার চোখ ছিলো হালকা ট্যারা; যা আমার মস্তিষ্কে এমন দাগ রেখে গেছে যে যখনই তার চঞ্চল চোখে চোখ রাখতাম, ভালোবাসার আবেগে আমি উদ্বেলিত হয়ে পড়তাম। এর ফলে বহবছর পরেও যখনই কোনো ট্যারা চোখের নারী দেখলে অন্য নারীদের চাইতে বেশি, খালি ওই ট্যারা চোখের জন্যই সেই নারীর প্রতি আকর্ষণ তীব্র বোধ করি আমি।'

খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে, দেকার্তের মতামত অবশ্য খুব অদ্ভত কিছু না। তার মতে, ‘ভেড়ার মাংস আর ওয়াইনের উপরে পৃথিবীতে কোনো খাবার নাই। এই জিনিসের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে যেকোনো দুঃখ-কষ্ট ভুলে থাকা যায়।’

তো, আধুনিক দর্শনের জনকের কাছ থেকে কী শেখা গেলো? 

দু;খ-কষ্টে পড়লেই ভেড়ার মাংস আর ওয়াইন খাবেন। দুঃখকষ্ট  মুহূর্তের মধ্যে ভ্যানিশ!   

 

খাদ্যদর্শনের খোঁজে নীৎশে 

পৃথিবীর সবচাইতে উইয়ার্ড দার্শনিকদের একজন ফ্রেডরিখ নীৎশে। আমার ধারণা ছিলো খাওয়া-দাওয়া নিয়াও তার অদ্ভুত মত থাকবে যা অন্য দার্শনিকদের চাইতে আলাদা। নীৎশের বইপত্র ঘেঁটে কিছু পাওয়া  গেলো। 

নীৎশে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন সারাজীবনে। কিন্তু একটা সমস্যা তার নিত্যসঙ্গী ছিলো। বদহজম। একে হোমো-তে লিখছেন, ‘মানবতার মোক্ষলাভ’, ধর্মতাত্ত্বিকের ডকট্রিনের চাইতে, যেখানে খাদ্যপুষ্টির উপর নির্ভর করে, সেই ব্যাপারে আমি বেশি আগ্রহী।’

তারপরে গে সায়েন্স-এ তার জিজ্ঞাসা, ‘বিভিন্ন খাদ্যের নৈতিক প্রভাবগুলির ব্যাপারে কী জানা যায়? পুষ্টির কোনো দর্শন আছে কি?’   

তো, নীৎশের ১ম অবসেশন ছিল গরুর মাংসে। তার সবচাইতে প্রিয় খাদ্য ছিলো বিফস্টেক। এর বাইরে তিনি, ‘হ্যাম এবং সসেজ থেকে অনুপ্রেরণা’ পাইতেন বলে এক চিঠিতে লিখছেন। 

২য় অবসেশন ছিলো ফল-ফলাদিতে।  দিনে সে একবার সাধারণত মাংসসহ কিছু খাইতেন। আর সারাদিন চলতেন ফলের উপরে। দৈনিক কী পরিমাণ ফল খাইতেন নীৎশে? দিনে কমপক্ষে তিন কেজি পরিমাণ ফল আহার করতেন! জ্বি আপনি ঠিক পড়ছেন, থ্রি কেজিস অফ ফ্রুটস! 

নীৎশে কিছুদিনের জন্যে নিরামিষাশীও হয়ে গেছিলেন। পরে অবশ্য মত  বদলায়ে ‘আগে আনন্দ পরে স্বাস্থ্য’ নীতিতে চলছেন। নীৎশের জীবনীকারেরা অবাক হইছেন যে,দর্শনের ইতিহাস তোলপাড় করে দেওয়া ক্রেজি বয় নীৎশের ফুড লিটারেচারের এতো আগ্রহ কেন?  খাওয়া-দাওয়া, রেসিপি, বা খাদ্যও পুষ্টি বিষয়ক যেকোনো লেখা-বইপত্র পাইলে গোগ্রাসে গিলতেন নীৎশে। 

অলংকরণ: শফিক হীরা

 

ইমানুয়েল কান্ট: খাওয়া-দাওয়া নিয়া নো বাড়াবাড়ি! 

এইরকম কোনো পান তার জীবদ্দশায় কেউ  হয়তো। কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য হইতেছে নিতান্ত উদরপূর্তির বাইরে খাওয়া দাওয়ারে খুব একটা ভালো চোখে দেখতেন না দর্শনের সবচাইতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ইমানুয়েল কান্ট। 

‘মেটাফিজিক্স অফ মোরালস’-এ কান্ট লিখছেন, ‘খাদ্য ও পানীয়ের বর্বরসুলভ বাড়াবাড়ি পুষ্টিলাভের বেঠিক উপায়। ... মাতাল লোক নিতান্ত জন্তুবিশেষ, তারে মানুষ বিবেচনাই ঠিক হবে না।’

জীবনের সবকিছুতে কঠিন নিয়মকানুন মেনে চলতেন কান্ট। উনি যে এলাকায় থাকতেন সেই এলাকার লোকেরা ঘড়ি দম দিত নির্দিষ্ট সময়ে ইমানুয়েলের হাঁটতে বাইরে হবার সাথে মিলায়ে। এমনই ‘ঘড়িধরা’ ডিসিপ্লিনড ছিলো কান্টের জীবন। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারেও তার কঠিন নিয়মকানুন ছিলো। কান্টের সবচেয়ে বড় আপত্তি ছিলো কফিতে। কফি বিনের তেলরে কান্ট ভাবতেন মানবস্বাস্থের জন্য ‘বিপর্যয়কর। লাঞ্চের পর কান্ট খাইতেন হালকা লিকারের চিনি ছাড়া চা।     

‘দ্য কনফ্লিক্টস অফ ফ্যাকাল্টি’-তে বলতেছেন, ‘দুপুর বেলা ভরপেট খেয়ে আবার সন্ধ্যায় খাওয়ার ইচ্ছা হওয়ারে মানসিক বিকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।’’

 

ডেভিড হিউমের রেসিপি

ব্রিটেনের সংশয়বাদী দার্শনিক ডেভিড হিউম, ১৭৬৯ সালে বন্ধুর কাছে এক চিঠিতে লিখছেন, ‘রান্নার ক্ষেত্রে আমার ট্যালেন্ট ব্যাপক, এই কারণে রান্নার বিজ্ঞানের নেশায় বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই। আমি এপিকিউর না, আমি আসলে পেটুক।' হয়তো খুব দেরিতেই এই নেশায় উনি আক্রান্ত হইছিলেন। আর এই ‘বিজ্ঞানে’ তার অবদানও খুব একটা সুবিধার না। যে রেসিপি উনি দিছিলেন হিউম। হিউম প্রদত্ত নাম ‘ভেড়ার মাথার ঝোল।  জিভে জল আনা ডিশ সন্দেহ নাই!

 

প্লেটোর ‘নোবল কেক’

প্লেটো ছিলেন তার সময়ের একজন চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীর। ইন ফ্যাক্ট, তার আসল নাম ছিলো এ্যারিস্টকলস। প্লেটো  একটা কোচপ্রদত্ত নাম। যে কোচের আন্ডারে কুস্তির প্রশিক্ষণ নিছেন তিনি কুস্তিনৈপুণ্যের জন্যে তারে উপাধি দেন, ‘প্লাতোন’।  প্লাতোন কথার অর্থ ‘চওড়া কান্ধওয়ালা লোক’।    

তো, আনন্দের জন্যে খাবারের ক্ষেত্রে প্লেটোর পরামর্শ আপনি ‘নোবল কেক’ খাবন। নোবল কেকটা কী দিয়া বানানো হইত?  বার্লি আর গমের আটা দিয়া বানানো রুটিতে, মধু আর জুসি জলপাই এবং নোনা চিজ দিয়া বানানো হইতো প্লেটো কথিত এই ‘নোবল কেক’।    

 

নিরামিষাশী পিথাগোরাস

পিথাগোরাস ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নিরামিষাশীদের একজন।  ল্যাক্টো-ভেজিটারিয়ান এই দার্শনিক আহ্বান জানাইছেন তার দেশের লোকরে, ‘বন্ধুগণ, পৃথিবী আপনাদেরকে অঢেল সম্পদ সরবরাহ করছে, ভোজের জন্যে দিছে ইনোসেন্ট ফুড ( নিরামিষ খাবার), এর জন্যে কোনো জবাই বা রক্তপাত দরকার নাই।‘    

প্লেটোর ম্যাগনাম ওপাস- ‘রিপাবলিক-এ আহ্বান জানানো হইছে, ‘একজন পিথাগোরিয়ানের মতো ভোজন করো।‘ পিথাগোরিয়ানের মতো খাওয়া মানে অর্থাৎ মাংসখাওয়া বাদ, কারণ মাংস উৎপাদন পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর। প্রচুর পরিমাণে বাদামজাতীয় খাবার এবং ফলমূল খাইতে পরামর্শ দিছেন প্লেটো।   

 

এরিস্টটলের পক্ষপাত ষাঁড়ের মাংসে

প্রাচীন পৃথিবীর দার্শনিকদের মধ্যে এরিস্টটল অনেক বেশি প্রাগম্যাটিক ছিলেন। যেমন, প্লেটো হাসি-ঠাট্টা জিনিসটারে খুবই মন্দ জিনিস বলে মনে করতেন। সক্রেটিস বা প্লেটোর মতো তিনি  অতি আদর্শবাদী ছিলেন না, সবকিছুর মধ্যে একটা ‘মহৎ বিন্দু’ তথা মধ্যপন্থা খুঁজতেন এরিস্টটল। যেমন, প্লেটো মনে করতেন, হাসিঠাট্টা ক্ষতিকর। তাই প্লেটো কল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রে কবিদের মতো, কমেডিয়ানদেরও জায়গা হয় নাই। এরিস্টটল মনে করতেন হাসি-তামশার দরকার আছে, তবে তা পরিমিত পরিমাণে।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও এরিস্টটলের মতামত একইরকম। গুরু প্লেটোর মতো তিনি ‘অনলি ভেজিটেবল এন্ড নাটস’-এর পক্ষে ছিলেন না। আমিষও খাওয়া উচিৎ বলে মতে দিছেন এরিস্টটল। মনে করতেন গ্রেট লোকেরা খায় ঝলসানো ষাঁড়ের মাংস। এরিস্টটলের এই উপদেশ পুরা পশ্চিমা দুনিয়ায় ‘মিট এন্ড নো ভেজ’-ডায়েট কালচার শুরু করতে হেল্প করছে।   

 

 

সক্রেটিসের প্রিয় খাবার  কী ছিলো?

সক্রেটিসের হেমলক পানের কথা তো সবাই জানে। সক্রেটিসের সবচেয়ে প্রিয় খাবার কী ছিল জানে কতজন? 

প্যানকেক টাইপের একটা জিনিস ছিলো সক্রেটিসের  পছন্দের আইটেম। নাম টেগানিটেস। টেগানিটেস বানানো হইতো আটা, অলিভ অয়েল, মধু আর দুধের সমবায়ে। বানানো হইলে টেগানিটেসের উপ্রে হালকা মধু বা চিজ দিয়া পরিবেশন করা হইতো। দুষ্টু লোকে বলে, সক্রেটিস আসলে আদিতে এরশাদ করছেন, ‘টেগানিটেসরে জানো’। পরে লোকমুখে বদলে গিয়া হয়ে গেছে ‘নিজেরে জানো।’

 

কাঁচা মাংসভোজী ফ্রয়েড! 

মনোবিশ্লেষক ও দার্শনিক সিগমুন্ড ফ্রয়েডের প্রতিদিনের খাওয়ার রুটিন মোটামুটি নির্দিষ্ট ছিলো।  ফ্রয়েডের দীর্ঘদিনের রাঁধুনি পলা ফিক্ট তার ডায়েরিতে লিখেছন, সকালের ফ্রয়েডের পছন্দের খাবার ছিলো স্টেক টার্টারে আর সফট-বয়েলড ডিম। স্টেক টার্টারে গরুর কাঁচা মাংসের কিমা দিয়ে তৈরি এক ধরনের খাবার। ফ্রয়েডের স্টেক টার্টারের মাংস শুধু কাঁচা থাকতো তা-ই না, বরং বেশিরভাগ সময় থাকতো রক্তমাখা।

অবশ্য স্টেক টার্টারে বা সফট -বয়েলড ডিম ধরণের খাবার পছন্দের ব্যাপারে ফ্রয়েডের গলার ক্যান্সারও একটা কারণ হইতে পারে। শেষদিনে গলার ক্যান্সারের কারণে তার পক্ষে চিবায়ে খাওয়া সম্ভব ছিলো না।   

 

ডায়োজেনিস দ্য ডগ

খাদ্য বিষয়ে সবচেয়ে অদ্ভুত মত ছিল সিনিক দার্শনিক ডায়োজেনিসের। তারে নিয়া আশ্চর্য সব কিংবদন্তী চালু আছে। আমার মতে, তারে রিয়েল ফিলসফার অফ প্র্যাঙ্কস বলা যায়। নিজেরে পরিচয় দিতেন ডায়োজেনিস দ্য ডগ নামে।    

একবার দার্শনিক এরিস্টিপ্পাস ডায়োজেনিসরে বললো, তুমি যদি রাজারে একটু তোষামোদ করতে শিখতা, আমাদের মতো ভালোভালো খানাখাদ্য খাইতে পারতা। শাক-পাতা খায়া দিন কাটানো লাগতো না।  

ডায়োজেনিস বললো, তুমি  যদি একটু শাক-পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতা, রাজারে সারাদিন কষ্ট কইরা তেলানো লাগতো না।  

খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে ডায়োজেনিস ছিলেন সবচাইতে র‍্যাডিকেল। তার কথা হচ্ছে মানুষ অন্য প্রাণী থেকে খুব আলাদা কিছু না। অন্য প্রানীর মতো মানুষেরও রান্না না করে খাওয়া উচিৎ। অনেক ঐতিহাসিকদের ধারণা, উনি মারা গেছেন কাঁচা অক্টোপাসের মাংস খাইতে গিয়া। 

স্কটিশ সাহিত্যিক রবার্ট লুই স্টিভেনসন লিখছেন, ‘ওয়াইন হইতেছে বোতলজাত কাব্য।‘  ডায়োজেনিস কিন্তু জীবদ্দশায় কখনও ওয়াইন খান নাই। কেন খান না?- জিজ্ঞেস করলে বলতেন, পানি অনেক বেশি সুস্বাদু আর দামেও খুব সস্তা!

৫৮২ পঠিত ... ২১:৩৬, নভেম্বর ০২, ২০১৯

আরও eআরকি

 
 

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top