মেয়র নির্বাচনে ভোট যে কারণে কম পড়েছে ও এর প্রতিকারের উপায়

২১৬৫ পঠিত ... ২০:৫৯, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২০

মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পর থেকেই ভোটার উপস্থিতি এতো কম হলো কেন? এই প্রশ্নটি মন খারাপের হাওয়ার মত দোল দেয়। ভোটের দিন এতো সুন্দর রোদ উঠেছিলো যাতে ভিটামিন ডি ছিলো; কিন্তু ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ লোক সে ভিটামিন ডি'র রোদেলা আমন্ত্রণকে পাত্তাই দিলো না।

আমাদের পার্টি'র লোকেরা নানাভাবে নিজেদের মনকে প্রবোধ দেয়। কেউ বলেন, দেশের এতো উন্নতি হয়েছে যে জনগণের আর কোন দাবি নেই। ঠিক যেন এমেরিকা এমেরিকা ভাব; শুধু ট্রাম্পের অভাব।

কেউ কেউ সমালোচনা করে, মাইকের শব্দে কান-মাথা ঝালাপালা করে দেশি স্টাইলে প্রচারণা হলো; আর ভোটার উপস্থিতি বিদেশি স্টাইলে হইলো; এ কেমন কথা!

একজন নেতা বলেন, খাদ্যে এতো স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমাদের; ভোটাররা ছুটির দিনে পোলাও কোর্মা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।

আরেকজন নেতা বলেন, আমি তো মনে করি শতবছরের সেরা নির্বাচন হয়েছে। জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইভিএম-এ ভোট দেবার অনুশীলন হয়েছে। ২৫ থেকে ২৯ শতাংশের ভোটে আমি তো দেখছি, এক তৃতীয়াংশ গ্লাস পূর্ণ। আপনারা অযথা বলছেন, গ্লাসের দুই তৃতীয়াংশ খালি। এটা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ছাড়া কিছু নয়।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইয়াং জেনারেশান ঘুম থেকে দেরিতে ওঠে; ফলে ভোট দিতে আসতে পারেনি। আর এই ফেসবুকটা বুঝলেন, মরার ফেসবুকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে তারা। নইলে 'আমাদের পার্টি'র ভোটারেরাও সবাই এলো না কেন! বুঝতে চেষ্টা করুন। গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুকিং করে 'আমাদের পার্টির' সমর্থকও কালঘুমে বুঁদ ছিলো।

ভোট কেন্দ্রের সামনে মানুষের লম্বা সারি ছিলো; পোশাক বিক্রির শো রুমে যেমন ম্যানিকিন দাঁড়িয়ে থাকে; তেমনি তারা দাঁড়িয়ে ছিলো। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আবহ সৃষ্টিতে এই মানব-ম্যানিকিন সফল হয়েছে; কিন্তু তাদের অনেকে ভোটার নয়; অনেকে বলেছে, তারা বাসায় ভোটার আইডি কার্ড রেখে এসেছে ; কেউ বলছিলো অমুক ভাইয়ের কাছে কার্ড আছে। ম্যানিকিনেরা বরাবরের মতোই 'ভালো লাগে, ঘুরতে, আনন্দে' তাই ভোটকেন্দ্রের শো'রুম আলো করে দাঁড়িয়ে ছিলো।

মিডিয়ায় দেয়া প্রতিক্রিয়ায় কিছু ভোটার অভিযোগ করেন, তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। সারাবছর যারা সাধারণ মানুষকে টেপাটেপি করে তাদের 'দেশপ্রেম' সহীহ কিনা পরীক্ষা করে; তারা এসে ইভিএম টেপাটেপি করেছে। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, প্রিজাইডিং অফিসার ভোটারের আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দিয়ে বলেছেন, আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে।

এ অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে আমাদের পার্টির মুখপাত্র বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে কাপড় ঢাকা ইভিএম বুথে উঁকি দিয়েছে কয়েকজন। এটা এমন কোন বড় ব্যাপার নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে বড় করে তুলবেন না।

একজন মন্তব্য করেন, ভোট ব্যাপারটা মনে হচ্ছে জাদুঘরে চলে গেছে। জাদুঘরে যেমন সঙ্গে গাইড থাকে তেমনি গাইড হিসেবে ছিলো এই ইভিএম বুথে গিয়ে উঁকি দেয়া কিংবা ভোটের বোতাম টিপে দেয়া ভাইয়েরা।

আধ্যাত্মিক চিন্তক একজন বলেন, ভোটার হচ্ছে কায়া; আর উঁকি দেয়া বা ইভিএম বাটন টিপে দেয়া লোকটা হচ্ছে কায়া। আর এই পুরো ব্যাপারটা হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতি মায়া।

কেন ভোটাররা ভোট দেবার আগ্রহ হারিয়ে ফেললো; এই নিয়ে গবেষণার চাপে টিভি টকশো'র আপা 'ভোটার আগ্রহ ফিরিয়ে আনা'র ১০১টি পদ্ধতি নিয়ে আমাদের পার্টির সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।

একজন টকার পরামর্শ রাখেন, চাকরির আবেদনপত্রের সঙ্গে 'ভোট দিয়েছি সার্টিফিকেট' যুক্তের বিধান করলে হয়তো তরুণেরা আগ্রহ ফিরে পাবে ভোট দিতে।

আরেকজন টকার মন্তব্য করেন, ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তা ঋণ নেবার সময় 'ভোট দিয়েছি সার্টিফিকেট' দেখাতে হবে; এ নিয়ম করা যায়।

এক তরুণ টকার বলেন, তার চেয়ে ভোট দিলেই সঙ্গে কুপন দেয়া হোক; ওটা দেখিয়ে বিরিয়ানি বা পিটযা বা বার্গার পাওয়া যাবে বিনামূল্যে। কিংবা ভোটের কুপনের লটারি হবে; তাতে থাকবে নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার; যেমন, ঢাকা-দুবাই-ঢাকা বিমান টিকেট বা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া শোবিজের নায়ক-নায়িকার সঙ্গে পাঁচ তারকা হোটেলে নৈশভোজ।

একজন ডিজিটাল সাংবাদিক বলেন, ভোট দিলেই তিনদিন ফ্রিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগের প্রণোদনা দেয়া যায়। মোটকথা হলো, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ঐ মরার ফেসবুক ব্যবহারের জন্য তাদের মোবাইল ফোনে ফ্রিতে ডেটা ভরে দিতে হবে।

টকশোর কড়াইয়ে আইডিয়া টগবগ করে ফুটতে থাকার এক পর্যায়ে টকশো আপা 'ইউরেকা' ইউরেকা' সহযোগে বলেন, বেকার ভোটারদের ভোট দিলেই কিছু টেকাটুকা বিকাশ করে দেয়ার টোপ দেয়া যায়।

একজন বিজ্ঞ টকার আলোচনার এ পর্যায়ে বলেন, এতো যে টোপ দিচ্ছেন; টোপ গিলে সত্যি সত্যি শতভাগ ভোটার এসে পড়লে কী করবেন?

আধ্যাত্মিক চিন্তক একজন বলেন, ভোটার হচ্ছে কায়া; আর উঁকি দেয়া বা ইভিএম বাটন টিপে দেয়া লোকটা হচ্ছে ছায়া।

২১৬৫ পঠিত ... ২০:৫৯, ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top