লেখা: কৃপাসিন্ধু জয়
নবম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বেতন বর্তমান পরিমাণের চেয়ে ১০৫% থেকে ১৪৫% বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ রাখা হয়েছে পে কমিশনের প্রতিবেদনে। তবে, এই প্রতিবেদনে ঘুষের পরিমাণ এখন থেকে কেমন হবে সেই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আমাদের হাতে থাকা তথ্য মোতাবেক প্রতিবেদনের কোথাও ঘুষের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো পরামর্শ না রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে একযোগে প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন দেশের প্রথম থেকে বিংশ গ্রেডের সকল সরকারি চাকুরিজীবী ও তাদের পরিবাররা। তাদের মতে এটা তাদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেলের পর থেকে আমরা যে হারে ঘুষ নিতাম এখনও সেটাই বজায় আছে। কোনো উন্নতি নাই! বউ-বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ঘুষ স্কেলের দিকে একটু নজর না দিলে কেমন যেন হয়!
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক পিএসসির এক পিয়ন eআরকির হোয়াটসঅ্যাপ কলে বলেন, অনেকদিন ধরে ঘুষের হার আমরা বাড়াচ্ছি না। আমরা যা ঘুষ নিই তা পরিমাণে খুবই অল্প। সম্মানের সাথে এই নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। এই কারণে নতুন প্রজন্ম এখন আর সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আগে যেখানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি করে কিছু টাকা পাওয়া যেত সেটা পাওয়ার দরজাও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। এখন আমরা অস্তিত্বের সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বেতনের পাশাপাশি ঘুষের পরিমাণও ১০৫% থেকে ১৪৫% হারে বাড়াতে হবে। একই সাথে উৎসব ও বৈশাখী ঘুষের ভাতাও সমান পরিমাণে বাড়াতে হবে। না হলে তারা অবরোধে নামতে পারেন বলেও ধারণা করা যাচ্ছে৷


