দীর্ঘদিন সালাম না পেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ভার্সিটির বড় ভাইয়েরা

১৪৫৪ পঠিত ... ১২:১৭, আগস্ট ২৫, ২০২১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের মেধাবী ছাত্র নিহাদ। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কিছুদিন পর থেকেই নিহাদের মাঝে কিছু পরিবর্তন দেখা দিয়েছে৷ মাঝে মাঝেই আনমনে একা একা 'ওয়ালাইকুম সালাম' বলে উঠতো। সময়ের সাথে সমস্যা বাড়তে বাড়তে নিহাদ এখন ২৪ ঘন্টাই 'ওয়ালাইকুম সালাম' বলে।

salam borobhai

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের আরেক মেধাবী ছাত্র আক্কাসের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে বিনা কারণে তার গ্রামের কিছু মুরুব্বিকে চড় থাপ্পড়ের অভিযোগ আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, সালাম না দেয়ায় আরো অনেককেই এমন চড় থাপ্পড় দিয়েছে এই শিক্ষার্থী৷ এমনকি মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে নিজের বাবাকে চড় থাপ্পড় দিয়েছে৷ তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আক্কাস মাঝে মাঝেই এমন করে। মূলত মানসিক কিছু সমস্যার কারণে এমনটা শুরু হয়েছে৷

আক্কাস কিংবা নিহাদ না৷ দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় এমন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যয়ের সিনিয়র ভাইয়েরা। সালাম না পাওয়া, র‍্যাগ দিতে না পারা, গেস্টরুম করাতে না পারার মত যন্ত্রণার তীব্র মানসিক চাপে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন এইসব মেধাবী শিক্ষার্থী। মানসিক টানাপোড়ন অনেককে শারীরিকভাবেও অসুস্থ করে ফেলছে।

আবুল নামের এক গণরুম স্পেশালিষ্ট এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে শারীরিকভাবে এতটাই ভেঙ্গে পড়েছেন যে চিকিৎসার জন্য লাইফ সাপোর্ট দরকার হয়ে পড়ে তার। তবে সেখানে কোন উন্নতি না দেখে ডাক্তার তাকে ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে শুইয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন৷ ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, 'হাসপাতালে রেখে তাদেরকে সুস্থ করার আর কোন সম্ভাবনা নেই। ওদেরকে একমাত্র জুনিয়রদের সালামই সুস্থ করে তুলতে পারে। ক্যাম্পাসে শুইয়ে দিলে কেউ যাওয়ার সময় সালাম দিবে, তাতেই ধীরে ধীরে সেরে উঠবে তারা৷ নতুবা অপেক্ষা করতে হবে ক্যাম্পাস খোলা হওয়া পর্যন্ত।'

দ্রুত ক্যাম্পাস না খোলা হলে বড়ভাইদেরকে ভলান্টিয়ার হিসেবে কিছু জুনিয়র দেয়া হোক, এমন দাবি তুলে ভাইপ্রেমী এক জুনিয়র বলেন, 'ভলান্টিয়াররা যদি ভার্সিটি খোলার আগ পর্যন্ত ভাইদের নিয়মিত সালাম দিতে থাকে, র‍্যাগ খেতে থাকে, হয়তো ভাইদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। প্লিজ, এগিয়ে আসুন, সালাম দিয়ে আপনার বিপর্যস্ত বড় ভাইটির পাশে দাঁড়ান।

১৪৫৪ পঠিত ... ১২:১৭, আগস্ট ২৫, ২০২১

Top