সুইস ব্যাংকে টাকা রাখা বাংলাদেশিদের ভাংতি দিতে চান গুলিস্তানের ভাংতি টাকার কারবারিরা

১৯৬ পঠিত ... ২০:৩৪, জুন ২৬, ২০২০

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। 

এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গুলিস্তানের ভাংতি টাকার কারবারিরা। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা অভিনন্দন জানাই ওইসব ভাইদেরকে। তারা এত দেশি টাকা বিদেশে জমা করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। তাদেরকে লাল সালাম।’ এরপর ফুটনোটে লিখেন, ‘ভাংতি লাগলে জানাবেন। রকেটের গতিতে চকচকে ভাংতি টাকা নিয়ে বান্দা হাজির হবে। 

ভাংতি টাকার কারবার মানেই রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান। ঝকঝকে তকতকে বিভিন্ন টাকার নোট। গোপন সূত্রে জানা যায়, অনেক ব্যাংকে নতুন নোট পৌঁছানোর আগে গুলিস্তানের মামাদের কাছে পৌঁছে যায়। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার খবর শুনে তাই স্বাভাবিকভাবেই সেখানে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিবৃতিটি পাওয়া মাত্র তাই খোঁজ নিতে কিছু অচল পাঁচ টাকার নোট নিয়ে আমরা চলি গুলিস্তান। 

গিয়েই দেখা যায় গুলিস্তানের মামাদের খুব ফুরফুরা ভাব। কাঠফাটা গরমে মুখের মাস্ক থুতনিতে নামিয়ে লুঙ্গি কাছা মেরে এক মামা বলেন, 'শুনলাম বাংলাদেশি পাবলিকের বহুত ট্যাকা সুইজারল্যান্ডে জমা। ওগোরে আমাদের কাছে আসতে কইবেন। হাজার টাকার নোট তো আর সবখানে ভাঙাবার পাইবো না। আমরা দিমু কচকচা নোট।'

করোনার সময় ভাংতি টাকার ব্যবসায় নামা বর্তমান ধস সুইস ব্যাংকের এইসব টাকার ভাংতি দিয়ে উসুল করা যাবে বলেও এক ব্যবসায়ী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মামাদের হাতে টাকার তোড়াগুলো দেখতে চমৎকার। মনে হয় মামাদের হাতে ফুল ফুটেছে! পান চিবোতে চিবোতে একজন বললেন, 'শোনেন, তারা আসলে শুধু টাকা জমা করতে পারছে। খরচ করতে তো শেখে নাই। টাকা খরচ করা হইলো গিয়া একটা আর্ট। ব্যাংক থেকে তুললে তো আর ভাংতি দিব না। এক হাজার টেকার নটের ভাংতি তো দুনিয়ার কোথাও পাওন যায় না। আবার চিন্তা করেন, টাকাওয়ালা পাবলিকরে আবার কতজনরে হ্যাপি রাখতে হয়। শালা, শালি, শ্বশুর, শ্বাশুরি। পুরাতন এক হাজার টাকার নোট দিবেন। খুশি হবে না। কিন্তু আমাদের এই দশ ট্যাকার নতুন নোট দিবেন। শালি এক্কেরে লাভিউ দুলাভাই কয়া চুম্মা দিব।' 

তার কথা শেষ না হতে দেখি আরেকজন হাতের ইশারায় ডাকে। কানের কাছে মুখ এনে তিনি বলেন, 'ব্যাংকে ভাঙালে বহুত ঝামেলা। সোর্স দেখান লাগে। আমরা তো জানি হ্যাগো সোর্সে ঝামেলা আছে। ভাঙাবেন যখন, নির্ভরযোগ্য জায়গায় ভাঙান। আমাদের কাছে আসেন। আমরা দিতাছি দেশের সেরা নোট। এত চকচকা নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও পাইবেন না।' 

যাওয়ার সময় এক মামা এই প্রতিবেদককে দশ টাকার নোট দিয়ে বলেন, 'লন। আপনারে বকশিস দিলাম। এই দশ টাকার নোটটা গিয়ে ওইসব লোকের নাকের কাছে ঘুরাইবেন। টাকার ঘ্রাণে তারা গুলিস্তান আইবো। আপনারে কিছু কওন লাগতো না।'

১৯৬ পঠিত ... ২০:৩৪, জুন ২৬, ২০২০

Top