সিপিইউ'র পাওয়ার বাটনের লাল আলোয় পড়ালেখা করে জিপিএ-৫ পেলো নাটোরের নান্টু

৫০৩ পঠিত ... ০০:১৯, জুন ০১, ২০২০

মানুষের সাফল্যের গল্প কখনো ছাড়িয়ে যায় সিনেমাকে। তবে নাটোরের নান্টুর গল্পটা আরো এক ধাপ এগিয়ে। তার সাফল্য ছাড়িয়ে গেছে রূপকথার গল্পকেও। গতবছর কম্পিউটারের স্ক্রিনের আলোতে পড়ালেখা করে জিপিএ ফাইভ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর কথা জানা যায়। সেই কীর্তিকে পেছনে ফেলে নাটোরের নান্টু জিপিএ ফাইভ পেয়েছে কম্পিউটারের সিপিইউ'র লাল ক্ষুদ্র পাওয়ার বাটনের অতি মৃদু আলোতে পড়ে।

নিজের কম্পিউটারে নিজের রেজাল্ট দেখার পর ডুকরে কেঁদে উঠেন নান্টু। না, এই কান্না খুশির না! এই কান্না বিস্ময়ের! কাঁদতে কাঁদতেই নান্টু আমাদের বলেন, 'মানে ভাই ক্যামনে!! এই রেজাল্ট হাতে পাওয়ার এমন শক খাইছি সারা শরীর জ্বলতেছে। সারাবছর সিপিইউ, কম্পিউটার নিয়া পইড়া থাইকা এই রেজাল্ট ক্যামনে সম্ভব।'

'এভাবে না, কিছু দৃঢ়তা, দৃষ্টান্ত, স্ট্রাগল, চেষ্টা যোগ করে বলুন' আমাদের প্রতিনিধির এমন নির্দেশনায় নান্টু বলেন, 'আমি আসলে একটা দৃষ্টান্ত রেখে যেতে চাইছিলাম। ল্যাম্পপোস্ট, কুপিবাতি এইসব সো মেইনস্ট্রিম। তার তুলনায় পাওয়ার বাটনের আলো আস্ত একটা চমক লাল, দেখতেও সুন্দর। খুবই ক্ষুদ্র একটা পাওয়ার বাটন দিয়ে যেমন আস্ত একটা কম্পিউটার দেশ-বিদেশের সব খবর নিয়ে আসে, তেমনি এই পাওয়ার বাটনের আলোও অনেক শক্তিশালী হওয়ার কথা। আমি শক্তিটাকে কাজে লাগিয়েছি এবং পৃথিবীকে দেখিয়েছি!'

নিজের সংকল্পবদ্ধ পথচলা নিয়ে নান্টু বলেন, 'ঘরের মধ্যে সিপিইউর এই পাওয়ার বাটনটাই ছিলো আমার সবচেয়ে আপন। রুমে আসার সাথে সাথে আমার প্রথম স্পর্শ হতো ওর সাথে। এমনকি প্রতিদিন ঘুম ভাঙ্গার পর চোখ না খুলেই আমি এই পাওয়ার বাটনকেই চেয়েছি। টানা ২ বছর আমি এই নিয়ম মেনে চলেছি। না, আমি অন্যদের মতো বাপ-মায়ের সাপোর্ট পাইনি। আমার এই ট্রাম্প কার্ড পাওয়ার বাটনের জন্য বাবা-মা প্রতিদিনই কথা শুনিয়েছেন। এই পাওয়ার বাটনকে ফেলেও দিতে চেয়েছে অনেকবার। বাট আমি তাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছি।'

সিপিইউ'র আলোতে পড়া এই নান্টু বড় হয়ে ইন্টারনেট জগতের মহীরূহ হওয়ার আশা ব্যাক্ত করে আমাদের বলেন, 'আমি বড় হয়ে ফেসবুক সেলিব্রেটি হতে চাই। আশা করি আমার সিপিইউ'র পাওয়ার এই লাল পাওয়ার বাটনের আলোকে আমি ছড়িয়ে দিতে চাই সারা বিশ্বে!'

৫০৩ পঠিত ... ০০:১৯, জুন ০১, ২০২০

Top