খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার সম্ভাবনা যাচাই করতে কি জাপান সফরে যাবেন শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা?

৮৩৩ পঠিত ... ১৬:২৭, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

গোখাদ্য হিসেবে গরুর ও জৈব সার হয়ে ফসলের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পর হোমো সেপিয়েন্স বা মানুষের খাদ্যভান্ডারে দারুণ এক সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে কচুরিপানা। সোমবার দুপুরে কৃষি গবেষণায় অবদান রাখা গবেষকদেরকে পুরষ্কার বিতরনী এক অনুষ্ঠানে এমনই আভাস দিলেন পরিকল্পনমন্ত্রী এম.এ মান্নান। 

অনুষ্ঠানে নিজের বক্তৃতায় এম.এ মান্নান গবেষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি অনুরোধ করবো কচুরিপানা নিয়ে কিছু করা যায় কিনা? আমি তো গ্রামের ছেলে। আমাদের এলাকায় নদীগুলো সব কচুরিপানায় ভর্তি। কচুরিপানার পাতা খাওয়া যায় না কোনও মতে? গরু খেতে পারলে আমরা কেন পারবো না?’

এমন সময় তিনি হাসতে হাসতে বলেন, আমি আসলে মজা করছিলাম।

কিন্তু পরিকল্পনামন্ত্রী একটু মজা করলেও মজা করতে নারাজ মন্ত্রণালয় ও সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা! বিদেশ সফরের জন্য এমন একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ কোনভাবেই হারাতে চান না তারা। ‘কচুরিপানায় ভ্রমণপনা’ নামক এক প্রোজেক্টের আওতায় খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার সম্ভাবনা পরখ করে দেখতে ইতোমধ্যে ১১০ সদস্যের একটি দল জাপান সফরে যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছে।

গতকাল সোমবার মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরপরই মূলত এই ১১০ জন সরকারি কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয় পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ে। 

এই সফর সম্পর্কে জানতে সফরকারী দলের এক সদস্যেকে আমরা খুঁজে বের করি। পরিকল্পনামন্ত্রী তো বললেন উনি মজা করেছেন, তাও আপনারা অভিজ্ঞতা নিতে বিদেশ যেতে চান কোন মহৎ উদ্দেশ্যে? আমাদের এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা জানান, ‘বিদেশ সফর নিয়ে মজার কিছু নাই। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে অনেক দিন ধরেই আমরা বিদেশ সফরের কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। দ্রুত বিদেশ সফরের সম্ভাব্য প্রকল্প খুঁজে বের করতে স্পেশালিস্টও নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু তারা খুঁজে পায়নি। অথচ ঘর থেকে শুধু দু-পা ফেললেই যে এমন একটা সম্ভাবনাময় জিনিস ছিলো তা আমরা বুঝতেই পারিনি। মন্ত্রী সাহেব আমাদেরকে একদম চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এজন্যই কবি বলিয়াছেন, দেখা হয় পানিতে তাকাইয়া, পুকুরের পানিতে দুই-পা ভিজাইয়া, কচুরিপানায় লাইগা আছে জাপানের বায়না!’

নিজের কাব্য প্রতিভা জাহির করতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে যান এই কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তা জাপান থেকে শিখতে চান এমন বেশ কিছু কচুরিপানার আইটেমের নামও আমাদের বলেন। তার মধ্যে কচুরিপানার ক্যুপ, কচুরিপানার কচ্চড়ি, কচুরিপানা দিয়ে কচু ও মাছের পোনার ভর্তা, কচুরিপানার সস, কচুরিপানার শাহী জর্দা, কচুরিপানার কোমল পানীয়, কচুরিপানার কাটলেট অন্যতম।

নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক (আমরা শুনতে চাইনি) অন্য এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখলে দেশের নানান ধরণের পণ্যের সংকটের সময় আমরা বিকল্প হিসেবে কচুরিপানা ব্যবহার করতে পারবো। উদাহরণস্বরূপ তিনি পেঁয়াজের সংকটকালীন সময়ের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেন। 

তবে কচুরিপানা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য ও ১১০ সরকারি কর্মকর্তা জাপান সফরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আজ সকাল থেকে দেশের সব ডোবা, নালা, পুকুর, খাল-বিল একদম পরিষ্কার দেখা গেছে, কোথাও কচুরিপানার পঁচা শিকড়েরও দেখা মিলেনি। গরুর জন্য কচুরিপানা বিক্রি করা এক ব্যবসায়ী আমাদের বলেন, দেশে নাকি গতকাল রাত থেকেই কচুরিপানার সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আমাদের প্রতিনিধির বেশ কিছুক্ষণ চাপাচাপির পর এই ব্যবসায়ী ১ কেজি কচুরিপানা দিতে রাজি হলেও দাম শুনে আমাদের প্রতিনিধি সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

[eআরকি একটি স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানে প্রকাশিত যেকোনো সঙবাদ নিজ দায়িত্বে বিশ্বাস করুন।]

৮৩৩ পঠিত ... ১৬:২৭, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

Top