শীতকালে জনসাধারণকে গোসলমুখী করতে উচ্চতর ট্রেনিং নিতে সাইবেরিয়া যাচ্ছেন ৫০ সরকারি কর্মকর্তা

২০০৫৮ পঠিত ... ১৫:৪৯, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, আমরাও বৃষ্টিবিলাসী জাতি। ছোটবেলায় বাবা-মায়েরা এদেশের ছেলে-মেয়েদেরকে জুতা পেটা করার ভয় দেখিয়েও পানি থেকে তুলতে পারে না, কাদা দেখলেই গড়াগড়ি খাওয়া এদেশের ছেলেমেয়েদের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। পানির সাথে এমন সখ্যতা থাকার পরও এই অনলাইনের যুগে কয়েক বছর ধরে শীতকাল আসলেই পড়তে হয় কঠিন এক সংকটে। ভয় দেখানো তো দূরের কথা, রীতিমত লোভ দেখিয়েও শীতকালে কাউকে পানির আশেপাশে নেয়া যায় না।

গোসল না করার এই প্রবণতাকে 'বাথফোবিয়া ডিজঅর্ডার' বলে সনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ থেকে উত্তরণের পথ অনুসন্ধান, বাথফোবিয়া থেকে জনসাধারণকে রক্ষার ইফেক্টিভ কাউন্সেলিং ও মোটিভেশন জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের গোসল জনপ্রিয়করণ ক্যাম্পেইনের আওতায় জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল এই শীত শেষ হওয়ার আগেই সাইবেরিয়া যাচ্ছেন। তীব্র শীতে সাইবেরিয়া গেলে গোসল করতে না পারার ভয়ে দলটির কিছু কর্মকর্তা রাজি না হওয়ায় এই কর্মকর্তারা ধাপে ধাপে যাবেন। গোসলের ভয়ে ভিতুরা যাবেন আগামী গ্রীষ্মে। সফরে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি শীতকালে গোসল করার জন্য তুলনামূলক কম ঠান্ডা পানির কিছু ফর্মুলার অনুসন্ধানও করবেন এই দলটি।

আগেও শীতে কিছু মানুষ গোসল করতো না। কিন্তু কয়েক বছরে এই সংখ্যাটি আর 'কিছু'তে আটকে নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গোসল বিরোধী প্রচারণা নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। অনেকদিন ধরে প্রচুর মানুষ গোসল না করার ফলে সিটি কর্পোরেশনে ময়লা পরিষ্কার কর্মীদের উপর বিশাল চাপ পড়ার শঙ্কা থেকে চিন্তিত সিটি কর্পোরেশনগুলোও।

গোসল জনপ্রিয়করণ সমিতির সাইবেরিয়া সফরকারী দলকে অভিবাদন ও সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে এক উদ্বিগ্ন অভিভাবক বলেন, 'এমন একটা সফরের দরকার ছিলো। আমার মেয়েটাও বাথফোবিয়ায় আক্রান্ত। ৭ দিন গোসল করে না। গোসলের জন্য চাপ দেয়ার বলতেছে ওর ফ্রেন্ডও নাকি ১৫ দিন ধরে গোসল করে না। ওদের কথাই বা কী বলবো, আমি নিজেও ইদানিং ৩ দিনে একবার গোসল করি। এই বাথফোবিয়া এভাবে ছড়িয়ে পড়লে এক সময় দেশের বায়ু দূষণ খুবই বাজে পর্যায়ে চলে যাবে। বিভিন্ন মন্ত্রনালয় থেকে অনেকে অনেক ধরণের ট্রেনিং-এর জন্য বিদেশ সফরে যায়। সেগুলো নিয়ে সমালোচনা হয়। আশা করছি এমন একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্য সরকার সারাদেশের মানুষের কাছ থেকে সাধুবাদ পাবে।'

তবে এমন সফরের কঠিন সমালোচনা করেছে দেশের বডি স্প্রে উৎপাদক ও বাজারজাতকরণ কোম্পানিগুলো। এমন একটি অপ্রয়োজনীয় সফর দেশের অর্থনীতির জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হবে বলে জানান তারা।

এদিকে এই খবর প্রকাশের পরে দেশের যুবসমাজ সফরকারী দলটির ফিরে আসা আসা পর্যন্ত গোসল করবে না বলে গো ধরেছে। ফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের অনেকেই অতি দ্রুত এই দলটিকে সাইবেরিয়া পাঠানোর জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

[eআরকি একটি স্যাটায়ার ওয়েবসাইট। এখানে প্রকাশিত খবর বিশ্বাস করার চেয়ে শীতের দিনে বরফ শীতল ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা ভালো।]

২০০৫৮ পঠিত ... ১৫:৪৯, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

Top