ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার নিষেধ ছিল বলে মোবাইলে ক্লাস করতে চায় না কিছু শিক্ষার্থী

১০৮ পঠিত ... ১৮:২৫, জুন ২৮, ২০২০

আগামী ১লা জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শত বছর পূরণ করবে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃখের খবর, এই ঐতিহাসিক দিন থেকেই ঢাবিতে শুরু হচ্ছে অনলাইন ক্লাস। সম্ভবত অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পর্যায়ক্রমে অনলাইন ক্লাস শুরু হতে যাচ্ছে। সেই অনলাইন ক্লাস নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এর আগে বিভিন্ন ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা নানান কারণে অনলাইন ক্লাস চালুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে এবার পাওয়া গেল একেবারেই ব্যতিক্রম কিছু অনলাইন ক্লাসবিরোধীকে। জানা গেছে, সারাজীবন ক্লাসে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ থাকায় এখন অনলাইন ক্লাস মোবাইলে করতে চান না কিছু শিক্ষার্থী।

অনলাইনে মানে ভিডিও কলেই এমনটা জানালেন জাবি শিক্ষার্থী সাঈদ, ‘স্কুল-কলেজে ক্লাসে মোবাইল নিতাম বলে অর্ধেক শিক্ষাজীবন ক্লাসের বাইরে কাটাইলাম। মোবাইল জমা নিয়ে স্যাররা গার্ডিয়ান ডাকাইতো। এরপর মা-বাপ স্যারের কাছ থেকে সেই মোবাইল উদ্ধার কইরা বাসায় গিয়া আবার নিজেরাই মোবাইল নিয়ে নিত। এখন যদি সেই মোবাইলেই ক্লাস করি, তাইলে নিজের অতীতের সাথে বেঈমানি করা হয় ভাই!’

শুধু স্কুল-কলেজে না, ভার্সিটিতেও এক শিক্ষার্থী মোবাইল আনায় ক্লাসের বাইরে দিন কাটিয়েছেন, এমনটা জানিয়ে বলেন, 'সেই স্যারই সেদিন ফেসবুক গ্রুপে অনলাইন ক্লাস করার শিডিউল দিলো। অথচ আমি তো সেইদিন মোবাইল দিয়ে স্যারের লেকচার ভিডিওই করছিলাম!’

একজন ঢাবি ছাত্রীও জানালেন এমন অভিজ্ঞতা, 'প্রেজেন্টশন দিতে ডায়াসে উঠব। চুল বাঁধা ঠিক আছে কি না দেখার জন্য মোবাইলটা বের করলাম। ও মা! স্যার ঐদিন আর আমার প্রেজেন্টেশনই নেয় নাই। এখন সেই মোবাইলেই প্রেজেন্টেশন কেন দেবো, বলেন?’

শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার করছে কি না যাচাই করার জন্য শিক্ষকরা অনেক টেকনিকও কাজে লাগাতেন। ক্রিকেট পাগল কেরামত বললেন, 'বাংলাদেশের হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। সেই সময় স্যার দিল এক্সট্রা ক্লাস। ক্লাসের মধ্যে স্যার পড়াইতে পড়াইতে জিজ্ঞেস করল, বাংলাদেশের স্কোর কত? আমি ফট করে বলে দিলাম। সাথে সাথে স্যারের ধমক শুরু। এই ছেলে, তার মানে তুমি মোবাইল টিপতে ছিলা। বের হও আমার ক্লাস থেকে। গেট আউট। আর কারো কাছে আছে মোবাইল? তারাও বের হয়ে যাও…’

ব্যক্তিগত কিছু বাজে অভিজ্ঞতাকে তীব্রভাবে স্মরণ করলেন আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা একজন ব্যাকবেঞ্চার, 'পেছনে বসতামই মোবাইল টিপতে। ফেসবুক আর ইন্সটার হোমপেজ ঘুরে আসতে আসতেই দুই পিরিয়ড কাইটা যাইত। কাউকে ডিস্টার্ব করতাম না, চুপচাপ মোবাইলই তো টিপতাম। কিন্তু তাও মোবাইল কেড়ে নিতো। এখন যদি সেই মোবাইলেই ক্লাস করা লাগে, দিস ইজ টু মাচ!’

তবে এরই মধ্যে জানা গেছে, অনলাইন ক্লাসেও মোবাইল আনতে নিষেধ করার কথা ভাবছেন কিছু শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (আমরা অনিচ্ছুক) এক স্যার আমাদের ধমকে সুরে বলেন, ‘স্টুডেন্টদের বলবা ল্যাপটপে ক্লাস করতে, পিসির ওয়েবক্যাম যেন সবার ঠিক থাকে, আমি সবার চেহারা দেখতে চাই। মোবাইল ইউজ করাই যাবে না, মোবাইলে আবার কিসের ক্লাস!’

১০৮ পঠিত ... ১৮:২৫, জুন ২৮, ২০২০

Top