বিজিবি সদস্যরা ইয়াবা দিয়ে মানচিত্র বা ভাস্কর্য না বানানোয় ক্ষুদ্ধ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা

৯৭৫ পঠিত ... ১৬:২২, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গত ৪-ঠা ফেব্রুয়ারি বিজিবি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে বিজিবির জব্দকৃত মাদক দ্রব্য বিভিন্ন ধরনের আকৃতিতে সাজিয়ে প্রদর্শনী করা হয়। প্রদর্শনীর পর জব্দকৃত সব মাদকদ্রব্যগুলো ধ্বংস করে দেয় তারা। তবে প্রদর্শনীতে জব্দকৃত সব ফেন্সিডিলের বোতল দিয়ে তৈরি করা হয় বাংলাদেশের মানচিত্রের আকৃতি। এই বিষয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও বিজিবি জানান, সারা দেশে মাদকদ্রব্যের অবাধ বিস্তার বোঝাতেই তারা ফেন্সিডিলের বোতল দিয়ে প্রতীকী এই মানচিত্র তৈরি করেন তারা। খবর: বিবিসি বাংলা।

তবে ফেন্সিডিল দিয়ে মানচিত্র তৈরি করার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইয়াবা দিয়ে মানচিত্র না বানানোর জন্য নিজেদের হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন 'নিখিল বাংলা ইয়াবা বাবা' সোসাইটি (নিবাই)। ফেন্সিডিলের প্রতি এই ধরণের পক্ষপাতমূলক আচরণ ইয়াবার প্রতি প্রহসন ও অবিচার বলেও দাবি করেন নিবাইবার বড়বাবা বাবা টেকনাফি।

ইয়াবার হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার শীর্ষক এক বিক্ষোভ সভায় বাবা টেকনাফি বলেন, 'দেশের আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে মানুষের লুঙ্গির চিপায়ও আমরা ইয়াবা পৌঁছে দিয়েছি! কোন মাদকদ্রব্য দিয়ে মানচিত্র বানাতে হলে বাংলাদেশের সে মাদকদ্রব্য হওয়ার অধিকার ও যোগ্যতা কেবল ও কেবলমাত্র ইয়াবার।'

বিজিবির এমন কাজের সমালোচনা করে অতিদ্রুতই ইয়াবার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে বিজিবির প্রতি আহবান করেন বাবা টেকনাফি। প্রয়োজনের নিজেদের পক্ষ থেকে সামান্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন এই ইয়াবা বাবা। তিনি বিজিবির উদ্দেশে বলেন, 'মানচিত্র বানানোর মতো পর্যাপ্ত ইয়াবা আপনাদের কাছে না থাকলে বলেন, আমরাই আপনাদেরকে ইয়াবা দিবো! এত ইয়াবা দিবো যে যা দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্রের পাশাপাশি বিশ্ব মানচিত্রও বানাতে পারবেন। আমাদের ছেলেরা কয়েক রাত জেগে নিজেরাই সেগুলো বানিয়ে দেবে, রাত জাগতে আমাদের কোনো ক্লান্তি নাই। তবুও কারোর অবদানকে এভাবে ছোট করে দেখবেন না।'

কালার কম্বিনেশনের কারণে ফেন্সিডিলের বোতল দিয়ে বানানো মানচিত্র ভালো হয় নাই বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, 'ইয়াবা একটা কালারফুল জিনিস। এই ইয়াবাই আমাদের জীবন পালটে দিয়েছে। জীবনে রঙ ও খুশি নিয়ে আসছে। ইয়াবা দিয়ে মানচিত্র বানালে সে মানচিত্রও বেশ কালারফুল হবে। দেশ ভরে যাবে রঙে রঙে। দেখতেও সুন্দর দেখাবে।'

সভার এই পর্যায়ে উপস্থিত জনতা নিজেদের মজুরির জন্য জম্বি আচরণ শুরু করলে সবাইকে একটি করে ইয়াবা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন নিবাইবা সোসাইটি। সভা স্থলে দলেবলে (বাবা টেকনাফিসহ) ইয়াবা সেবন করে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

৯৭৫ পঠিত ... ১৬:২২, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

Top