সাংবাদিক কেনাবেচার হাটে

১১৯ পঠিত ... ১৭:০৩, জুন ২৯, ২০২৪

36 (7)

হিম্মতি বেগম গুচ্চির একটা ব্যাগ হাতে ঝুলিয়ে সাংবাদিক কেনাবেচার হাটে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীর দুর্নীতির খবর চাউর হয়েছে। সাহস করে দু'একটা মিডিয়াও নেহাত ভিউয়ের নেশায় সে খবর প্রকাশ করেছে। কিন্তু দমে যাবার পাত্রী হিম্মতি বেগম নয়। মাইজদীর কুসুমকলি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে সে আমলার স্ত্রী হয়েছে; দুই শতাংশ ভোট পেয়ে এলাকার চেয়ারম্যান হয়েছে; মেয়ে তার সেকেন্ড হোমে স্পোর্টস কারে চড়ে। রেগে গেলে মাইজদীর ভাষায় একটু গালাগাল করে কইন্যা; কিন্তু ইংরেজি বললে আর ধরা যায় না সে কোন কাননের ফুল।

হিম্মতি বেগম একটা টেবিলে বসে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা এক সাংবাদিকের দিকে এগিয়ে যেতেই; তার সঙ্গে থাকা ব্রোকারটি বলে, উচ্চ জাতের সাংবাদিক; ‘প্রশ্ন নয় প্রশংসা করতে এসেছি’ অনুষ্ঠানে দাওয়াত পায়, সাড়ে চুয়াত্তর টিভির জাস্টিফিকেশন গিল্ডেও তার নিয়মিত যাতায়াত।

হিম্মতি বেগম হাত তুলে বলে, থামো দেইখা লইতে দেও। এরপর সে সাংবাদিককে প্রশ্ন করে, কত দিলে আপনি এই কেসটা পুরা ফিনিশ কইরা দিতে পারেন!

সাংবাদিক তার শার্টের হাতার কাফলিং নেড়েচেড়ে বলে, খরচাপাতির ব্যাপার আছে; দুদক-সচিবালয় ম্যানেজ করে; কিছু ইনফ্লুয়েন্সারকে দিয়ে ‘সততা ও সমাজকর্মে’র মানপত্র লেখাতে হবে। এখন তো খালি সংবাদপত্রে লিখে হয় না; ফেসবুকেও লেখাতে হয়।

আরেক ব্রোকার এসে উচ্চস্বরে বলে, পাশের টেবিলে দেইখা নেন, রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ফেরা; ক্ষমতাখোদার গুডবুকে থাকা তারকা সাংবাদিক নেতা।

হিম্মতি বেগম দ্রুত পাশের টেবিলে গেলে তারকা সাংবাদিক হাত দিয়ে কপালের একপাশ থেকে চুল টেনে টাকের ওপর আড়াআড়ি করে রেখে বলে, কেসটা জটিল হয়ে গেছে; খরচা বাইড়া গেছে; অনেক কাক পিছে লাইগা গেছে তাই সর্বত্র ভাত ছড়াইতে হবে। এডভান্স কিছু ছাড়েন, তাইলে কথা বলি!

এমন সময় এক হোমড়া চোমড়া সাংবাদিককে নিয়ে ঢোকে তিন চারটে ব্রোকার, এই মাত্র উনি ক্ষমতা খোদার দপ্তর থিকা ফিরলেন, এই দেখেন ছবি তার ক্ষমতা খোদার সাথে। বুকিং লইতে এডভান্স করুন। ফাইভ স্টার ফাইভ স্টার সাংবাদিক।

হিম্মতি বেগমের মাথাটা ঘুরতে থাকে। ব্রোকার বলে, অক্ষুণি ডিসিশান নেন ম্যাডাম! অনেকগুলি আমলার দুর্নীতির কেস ভাসতেছে; আবার মন্ত্রীদের দুর্নীতির কেস আইসা পড়লে রেট কিন্তু বাইড়া যাইবো সাংবাদিকগো!

হিম্মতি বেগম দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফাইভ স্টার সাংবাদিককে বায়না করে ফেলে। ফাইভ স্টার সাংবাদিক বলে, আমারে বিরক্ত করবেন না ম্যাডাম। এই দুইটা বাছুর সাংবাদিক দিতেছি; এরা আপনার সঙ্গে লিয়াজোঁ মেইনটেইন করবে। ফাস্টক্লাস রিপোর্ট করে আপনার স্বামীকে নির্দোষ প্রমাণ করে ছাড়বে।

ফাইভ স্টার সাংবাদিক হন হন করে হেঁটে বেরিয়ে গেলে, জুনিয়র দুই সাংবাদিক ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে বলে, চিন্তা কইরেন না ম্যাডাম; সব আমরাই করি; স্যার খালি ফোন কইরা এইখানে ঐখানে কইয়া দেন; পকেটে তিন চাইরটা মন্ত্রী নিয়ে ঘুরেন তিনি! হিম্মত হারাইয়েন না।

হিম্মতি বেগম ব্রোকারকে বলে, অ মিয়া কিনতে আইলাম গরু, আর তুমি গরুর দামে দুইডা বাছুর ধরাইয়া দিলা হাতে!

১১৯ পঠিত ... ১৭:০৩, জুন ২৯, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top