প্রশ্নফাঁস নিয়ে আমার সোজা বক্তব্য

১২৪ পঠিত ... ১৮:২৬, জুলাই ০৯, ২০২৪

35

ড. আরিফুজ্জামান রাজীব

আজ সারাদিন দেখলাম, বিপিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ির চালক সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে হইচই। সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আবেদ আলী গত একযুগ ধরে পিএসসির আন্ডারে যত পরীক্ষা হয়েছে সকল পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস করে আসছে। এই যে আবেদ আলী গং গত এক যুগ ধরে প্রশ্নফাঁস করে আসছে, তার জন্য প্রকৃত দায়ী কে? আপনারা কি মনে করেন, আবেদ আলীর বিচার হলেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ হয়ে যাবে? সাংবাদিক ইমরান ভাই কিন্তু স্পষ্ট বলেছে, এই চক্রের আরেক হোতা অফিস সহায়ক খলিলুর রহমানকে ২০১৩-১৪ সালের দিকে প্রশ্নসহ হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। কিন্তু খলিলুর কি দমে গিয়েছিল? উত্তর না। খলিল ছাড়া পেয়ে তার প্রাণের বিপিএসসিতে আরও দোর্দোন্ড প্রতাপের সাথে প্রশ্নফাঁস করে গেছে। খলিলের যে বস বা ততকালীন বিপিএসসির যে চেয়ারম্যান তার নামও ধরেন সামনে এলো। তাতেই কি প্রশ্নফাঁস বন্ধ হয়ে যাবে? আমার মনে হয় না। আমার তীর রাষ্ট্রের দিকে, রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে। একটু ব্যাখ্যা করে নেওয়া যাক।  

আমরা যখন খুব ছোটো প্রাইমারিতে পড়ি, তখন দেশ জুড়ে ছিল নকলের হাওয়া। পরীক্ষা মানেই নকল, কেন্দ্র দখল করে নকল। যারা নব্বইর দশক দেখেছেন, তাদের থেকে জেনে নিতে পারেন। এরপর ২০০০ সালের পরে রাষ্ট্রযন্ত্র সিদ্ধান্ত নিল এই দেশে আর নকল হবে না। এরপর ২০০২-২০০৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোনো পর্যায়ের পরীক্ষায় নকল হয়েছে? আমার উত্তর হলো, না। আমি নিজে ২০০৭ সালে মাধ্যমিক, ২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি হলফ করে বলতে, পারি নকল তো দূর কি বাত কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরের আশেপাশে কেউ আসেনি। এই প্রসঙ্গে একটা সত্য গল্প বলি। ২০০৩ সালের কথা। তখন আমাদের পাশের আবুল হোসেন কলেজ নকলের জন্য খুব বিখ্যাত। উদাম নকল করা যায় বিধায় শরিয়তপুর মাদারীপুরের অনেক শিক্ষার্থী ঐ কলেজে ভর্তি হতো। হঠাৎ ঐ ২০০৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের কেন্দ্র শাফল করে দেয়ে হলো। নাজিম উদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে আবুল হোসেন কলেজে আর আবুল হোসেন কলেজের পরীক্ষার্থীরা যাবে নাজিম উদ্দীনে। কোনো নকলের সুযোগ নাই। কেন্দ্র ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী। আমার গ্রাম থেকে যারা ঐ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল, তারা প্রায় সবাই এক দুইটা পরীক্ষা দিয়ে বাড়ির দিকে। একদিন বাবা আমার সামনে পাশের বাড়ির একজনকে জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার, পরীক্ষা না দিয়ে চলে আসলি যে। আমার ঐ প্রতিবেশীর কথা এখনও কানে বাজে, কাকা আর বইলেন না। খুব করা গার্ড। নকল-সকল করার কোনোই সুযোগ নাই। ১০ মিনিট পরপর খাডো ম্যাজিস্ট্রেট আহে। নকলের উপর আর ভরসা করা যাইব না। ঠিক করছি এক বছর পইড়া আগামী বছর পরীক্ষা দিম।

ঐ বছরের পরীক্ষা পাশের হার ছিল ত্রিশের কম আর মহামূল্যবান জিপিএ-৫ ছিল ৫০ এর একটু বেশি। এর পরের বছর থেকে সবার ধান্দা শেষ, সবাই পড়াশোনায় মননিবেশ করল। এরপর থেকে প্রায় ২০১২ সাল পর্যন্ত কোনো নকল নাই। হঠাৎ ২০১৩ সাল থেকে নকলের পরিবর্তে শুরু হলো প্রশ্নফাঁস। রাষ্ট্রের তখন দেখানো দরকার ছিল এত_____ হওয়া সত্ত্বেও পাশের হার ভালো। সেই ভালো দেখাতে গিয়ে এমন ভালোই হলো, পাশের হার ৯০ প্লাস আর জিপিএ ছাড়ালো দেড় লক্ষ। এই যে রাষ্ট্র একবার ভুল বা অন্যায় করে বসল, আর নিস্তার নাই। এরপর পুরো ব্যবস্থায় শুরু হলো প্রশ্নফাঁস নামক ব্যধি।  আর সেই ব্যধির নতুন সংস্করণ হলো বিপিএসসির প্রশ্নফাঁস।

ভাই চিল্লাইয়া কোনো লাভ নাই, চিল্লাইলে হয়তো ড্রাইভার বা পিয়ন টাইপ অথবা সহকারী পরিচালক, উপ পরিচালক ১০-১২ জনের বিচার হবে। কিন্তু সিস্টেম কি ভেঙে যাবে! মনে হয় না। যদি এই সিস্টেম ভাঙতে পারে, তবে সে হলো রাষ্ট্রযন্ত্র। যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান জাতির উদ্দেশ্যের ভাষণে গিয়ে বলে, এনাফ ইজ এনাফ। আর প্রশ্নফাঁস হবে না। যদি আমার বলার পরও প্রশ্নফাঁস হয়, তবে এর দায়িত্ব আমার। আমাদের রাষ্ট্র প্রধান কি এই হুংকার দিতে পারবে? যদি পারে তবেই এই রাষ্ট্র টিকবে, নইলে অচিরেই তাসের ঘরের মতো সব ভেঙে যাবে।

 

১২৪ পঠিত ... ১৮:২৬, জুলাই ০৯, ২০২৪

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top