কয়েকজন শুদ্ধাচার পিতার পুত্র-কন্যার বাণী

৫০৪ পঠিত ... ১৭:৫৪, জুন ২৪, ২০২৪

39

সম্প্রতি বাবা দিবসে সেকেন্ড হোমে বসে শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত পিতার পুত্র-কন্যারা ফেসবুকে যে বাণী দেয়; তা আমাদের অশ্রুসজল করে; চশমার কাঁচে বাষ্পবিধুর হয় আবেগ। মনে পড়ে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অমোঘ বাণী, পৃথিবীতে একটিও খারাপ বাবা নেই।

ভার্জিনিয়াতে কফি শপে বসে পদ্য অথৈ জামান লিখতে থাকে, যে যাই বলুক বাবা আমি তো জানি; তুমি কত কর্তব্যনিষ্ঠ মানুষ। ভোটের রাতে সারারাত জেগে ডিউটি করেছো তুমি, গণতন্ত্রের জন্য এতো কষ্ট কে আর করেছে! মনে পড়ে একদিন তুমি মালি'কে দেখিয়ে দিচ্ছিলে কি করে বাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। সহমত সমাজের বাগানকে ভিন্নমতের  আগাছামুক্ত করতে মাঝরাতেও ডিউটি করতে তুমি; অকৃতজ্ঞ জাতি তোমার সে ত্যাগের মূল্যায়ন না করলেও তুমি রাষ্ট্রখোদার কাছ থেকে শুদ্ধাচার পুরস্কার নিয়েছো। আজ সেই গৌরবের ছবিটা দেখছি আর কাঁদছি বাবা।

অটোয়াতে বিশাল ভিলার ব্যালকনিতে বসে লাবণ্য আহমেদ ঐশী ফেসবুকে লেখে, বাবা তুমি আজ কাছে নাই; তোমার ফোন সুইচড অফ। যুগে যুগে দেশপ্রেমিকদের এমন কলংক মাথায় নিয়ে ঘুরতে হয়েছে। বাবা তুমি ঘাবড়ে যেওনা, আমরা ঠিকই প্রমাণ করে ছাড়বো, নানু ছিলেন বৃটিশ আমলের জমিদার আর দাদু ছিলেন পালযুগের জমিদার। সুতরাং তুমি কেন দুর্নীতি করে জমি কিনতে যাবে! ওসব জমি আমাদের বংশীয় জমি। তোমার রিসোর্টের পাশে গো-খামারের গরুগুলোও বংশীয়। তোমার দেশপ্রেম ও সততার ওপর দেয়া লেকচারগুলোর ভিডিও ইউটিউবে বুস্ট করে দিয়েছি। তুমি কী ধন তা ঠিকই একদিন বুঝবে অনিচ্ছুক জাতি। কান্নার সময় টিস্যু এগিয়ে দেবার জন্য আজ তুমি সামনে নেই বাবা। ভালো থেকো।

কুয়ালালামপুরে ইউনিভার্সিটির ক্লাস ব্রেকে বসে আশিক আই চৌধুরী ফেসবুকে লেখে, তোমার দেয়া স্পোর্টস কারটা আমি গ্যারেজে ঢুকিয়ে রেখেছি বাবা। এখন বাই সাইকেলে চড়ি। প্রতিজ্ঞা করেছি, আমার বাবা যেদিন উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে ফুলের মালা গলায় দিয়ে সততার বাতিঘর হিসেবে নন্দিত হবে; সেদিন আবার স্পোর্টস কারে চড়বো। মনে পড়ে বাবা তুমি যেদিন মসজিদুল নব্বীতে অশ্রুসিক্ত হয়ে মুনাজাত করেছিলে, সেদিন ফেসবুকে সেই ছবির নীচে স্যার ডাক ভেসে গিয়েছিলো তোমার ফ্যান ফলোয়ারের অশ্রুতে; অথচ আজ তোমার বিপদের দিনে সবাই নীরব! এরা সব টক্সিক লোক। তোমার দুর্নীতির রিপোর্টের লিংকে হাহা ইমো দিয়ে উদযাপন করে তোমার দুঃসময়! যে যাই বলুক; আমি তো জানি; সেই মৌর্য যুগের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া গুপ্তধন খুঁজে বের করে; সেই টাকা দিয়ে কুয়ালামপুরের বাড়িটা কিনেছো।

তুরস্কের আনাতালিয়ায় সমুদ্রের ধারে এক মনোরম এপার্টমেন্টে বসে অনিন্দ্য কে খান লেখে, কবি জালালুদ্দিন রুমীর সঙ্গে তোমার মিল খুঁজে পাই বাবা। মিনিস্টার আংকেলের সঙ্গে তোমার বন্ধুত্বটা শামস তাবরেজ-এর সঙ্গে রুমীর সম্পর্কের মতো। তাবরেজকে গুরু মেনে রুমী যেমন লোকসমাজে নিজের মান সম্মান বিসর্জন দিয়েছিলো; তুমিও ঠিক তাই করেছো বাবা। লোকে ঐ ভক্তিটাকেই তেলাঞ্জলি বলে হাসাহাসি করে। কিন্তু দেখে নিও বাবা, তোমার গুরুই তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতাবলে তোমাকে দুর্নীতির অভিযোগ মুক্ত করে নেবে। তুমি মানসিক শক্তি হারিও না বাবা। অবসরে গেছো তো তাতে কী হয়েছে, ইউনিফর্ম তো তোমার চামড়ার মতো। মাঝে মাঝে পরে বসে থাকবে; দেখবে নিজেকে কেমন বাহুবলী মনে হয়! সবচেয়ে ভালো হয়, যদি মন কাঁদে, আনাতালিয়ায় চলে এসো।

ভারতের দিল্লিতে সেকেন্ড হোমে বসে অনির্বাণ হালদার ফেসবুকে লেখে, আমাদের সম্পন্ন মাছ ধরার পেশাটাই ভালো ছিলো বাবা। কেন যে মাছ থুয়ে ইনশিওরেন্স কোম্পানি বানিয়ে মানুষ ধরতে গেলে। আজ তুমি বন্দী কারাগারে। ঐ যে তুমি রোজ গান শুনতে, মানুষ ধরো মানুষ ভজো! আমি তখন বুঝিনি বাবা, তুমি ইনশিওরেন্স কোম্পানির ক্লায়েন্ট ধরার কথা ভাবছিলে। আমি তো ভেবেছিলাম, তুমি ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান মুভির হিরোর মতো ধরাছোয়ার বাইরে থাকবে; কিন্তু তুমি প্রবাসে কিছু লোককে বিশ্বাস করে ঠকেছো। আসলে তো তুমি সরল লোক। আমি এখন মানুষ ধরো মানুষ ভজো গানটা শুনছি বাবা। আমার অশ্রু বৃথা যাবে না; একদিন ঠিকই তুমি সাধু পুরুষের মর্যাদা নিয়ে বেরিয়ে আসবে।

৫০৪ পঠিত ... ১৭:৫৪, জুন ২৪, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top