চাঁদে চন্দ্রমুখীর দেখা পেলো চন্দ্রযান থ্রি

২৪৩ পঠিত ... ১৭:৪৮, আগস্ট ২৪, ২০২৩

Chandramukhi

বাজপেয়ীজী কবি ছিলেন। তার কবিতার উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো চাঁদ। শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবদাস’ উপন্যাস পড়ে তিনি চন্দ্রমুখীর দেখা পান। প্রথম দেখাতেই প্রেম।

এক পূর্ণিমা রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে পেরিস্কোপে খুঁজতে থাকেন চন্দ্রমুখীকে। মনে হয় যেন, চন্দ্রমুখী চাঁদের বুকে আদুরে পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে কোমল লাস্যে বলে উঠলো, ‘ইস।‘

পরদিন অফিসে এসেই বাজপেয়ীজী ‘ইসরো’-কে চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার । আকাশে পূর্ণ চন্দ্র দেখা দিলেই কবি সেখানে যান। চন্দ্রমুখীকে খুঁজতে থাকেন তিনি। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের অবশ্য এসব কিছুই বলেন না। পেন্সিল দিয়ে খসখস করে লিখে ফেলেন প্রেমের পয়ার,

ওগো জোতস্নাদায়িনী

একী অপরুপ চন্দ্রসজ্জায়

একী রুপালী জরির আংরাখায়

মন তেরা জো রোগ হ্যায়

মোহে সামাঝ না আয়ে

পাস হো জো সব ছোড়কে

দূরকো পাস বুলায়ে।

জিয়া লাগেনা, তুম বিন মোরা।

এরপর ক্ষমতা চলে গেলেও তিনি ড মনমোহন সিং-কে ফোন করে অনুরোধ করেন, একটা চন্দ্রযান পাঠান না ড সিং। যদি চন্দ্রমুখীর দেখা পাওয়া যায়। ড সিং কবির আকুলতায় সাড়া দেন। চন্দ্রযান-ওয়ান পাঠাতে বিনীত অনুরোধ করেন ইসরোকে।

এসময় কার্টুনিস্ট বাল থ্যাকারে রসিকতা করেন, খাওয়ার পয়সা নেই, চন্দ্রাভিযানের বাহাদুরী। বুড়ো সিং-এর ভিমরতী!

বাজপেয়ীজী বালথ্যাকারেকে ফোন করে বলেন, এই ভিমরতী ক্লাবে আমিও যে আছি হে!

এরপর বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহাভারত গবেষক বিজ্ঞানীরা বলেন, সেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পারমানবিক বোমা ব্যবহৃত হয়েছিলো। যুদ্ধ বিমান ব্যবহৃত হয়েছিলো। জেমস বন্ডের উড়তে পারা গাড়ি তো ফিল্মী কল্পনা। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের রথ বৈজ্ঞানিকভাবেই উড়তে পারতো।

আধার কার্ড পেয়ে বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠা এক গরু মন্তব্য করে, ‘শুধু গোবরেই যে তেজস্কৃয়তা আছে; তা ইউরেনিয়ামেও নেই।‘

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মনগড়া ইতিহাস আর বিজ্ঞান নিয়ে বিজেপির বুদ্ধিজীবীর বাড়াবাড়ির কারণে কার্টুন প্রকাশিত হয়, দুটো গরুর দড়ি হাতে ইন্ডিয়া স্পেস ক্লাবের মেম্বরশিপ চাইছে।

মোদীজী জানতেন বাজপেয়ীর চন্দ্রমুখী কথা। তাই বিজেপি বুদ্ধিজীবীদের গরু নিয়ে বাড়াবাড়ি একটু থামাতে অনুরোধ করলেন। মহাকাশ বিজ্ঞানী সোমনাথকে ডেকে বলেন, আপনি জানেন, ইতিহাসে সোমনাথের মন্দির ভাঙ্গা হয়েছিলো। যদি চন্দ্রযান চন্দ্রবিজয় করতে পারে, তবে সেখানেই সোমনাথের মন্দির বানানো হবে। সুতরাং চন্দ্রযান-টু পাঠান।

বিজ্ঞানী সোমনাথ বলেন, আমি বাজপেয়ীজীর চন্দ্রমুখী বিষয়ক কবিতা পড়েছি; আমি বরং চন্দ্রমুখীকে খুঁজতে পাঠাই চন্দ্রযান। পরে আপনি সেখানে মন্দির করবেন, নাকি হীরক রাজার বিশাল মূর্তি বানাবেন, সেটা আপনার ব্যাপার।

চন্দ্রযান-টু চাঁদে অবতরণে ব্যর্থ হলে ফিরে এসে স্পারসোর অনুরোধে লাইলাতুল ইলেকশানে ভোট দেয়। সেই ইলেকশনের চন্দ্রবিজয় হলে চাঁদে অবতরণ না করতে পারার দুঃখ কিছুটা লাঘব হয়।

এরপর করোনার কারণে চন্দ্রযান-থ্রি পাঠাতে দেরি হয়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ বিরতিতে খানিক হতোদ্যম। বিজেপি তখন আওয়ামী লীগকে অনুরোধ জানায় দিল্লীতে এসে কিছু পরামর্শ রাখতে। বিএনপি বিজ্ঞানী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রেই চন্দ্রযান-টু ব্যর্থ হয়েছে।‘ এনজিও বিজ্ঞানী এরোমা দত্ত বলেন,’ জামায়াতের সাঈদি সেই ২০১৩ সালেই চাঁদে গিয়ে জঙ্গীবাদ শুরু করেছে। নিজের একটা ক্লোন শরীর রেখে গেছে আমাদের ধোঁকা দিতে।‘

বিজেপির নেতারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। কৃষি মহাকাশ বিজ্ঞানী ড রাজ্জাককে জিজ্ঞেস করে কী করা যায়!

ড রাজ্জাক শান্ত মেজাজের মানুষ। উনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাফল্যের সঙ্গে বিএনপি নির্মূল করেছে। জামায়াত এখন আওয়ামী লীগের বশে। আমাদের ডেপুটি স্পিকার জামায়াত নেতার বাসার উঠোনে মানবতার চারা রোপণ করেছেন।‘

বিজেপির নেতা বলেন, ‘জামায়াত তো ইউপিতে আমাদের বন্ধু। নির্বাচনী প্রচারণা করে মিলেঝুলে। আপনারা শুধু বিএনপিকে আটকান। আমরা চন্দ্রযান থ্রি পাঠাচ্ছি।‘

তারা একযোগে চন্দ্র অভিযানের পেছনে বিজেপি আওয়ামী লীগ একসঙ্গে কাজ করবে বলার সঙ্গে সঙ্গে ইসরোর বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাস খুঁজে পান।

বিজেপি শুরু করে চন্দ্রাভিযানের সাফল্যের জন্য পূজা-অর্চনা, আওয়ামী লীগ শুরু করে তাহাজ্জুদের নামাজ।

অবশেষে সফলভাবে চন্দ্রযান -থ্রি চাঁদে অবতরণ করে। বিক্রম নামের ল্যান্ডারটি সফট ল্যান্ডিং করতেই দেখে সেখানে সাঈদি এলিয়েনদের নিয়ে মেহেফিল করছে। সুন্দরী এলিয়েন মেয়েদের বলছে, ‘কলিজুরা তোমরা এখন পর্দা পুসিদা করো।‘

একটু দূরে এলিয়েনদের আরেকটি গ্রুপকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষা দিচ্ছে রজনীশ। সে স্পিরিচুয়াল মানুষ। স্মিত হেসে বলছে, ‘সাঈদি তো মুখে মারে চাঁদ। আমি করে দেখাবো চাঁদসূত্র।‘

একপাশে ঝিঙ্গে চাষ করছে এলিয়েনরা। সাইন বোর্ডে লেখা স্পারসোর সৌজন্যে ঝিঙ্গে চাষ। ব্র্যাকেটে লেখা, বেগুণে সীসা ও লেড পাওয়া গেছে; তাতে ক্যানসারের ঝুঁকি।

মুন রোভার ‘প্রজ্ঞান’ আঁতিপাতি করে খোঁজে চন্দ্রমুখীকে। দেবদাস সেখানে এলিয়েন নারীর সঙ্গে বসে খুশিজল পান করছে। প্রজ্ঞানকে দেখে বলে, এতো দেরীতে এলে! সাঈদি আর রজনীশের যন্ত্রণায় এলিয়েন মেয়েগুলো সব কেমন যেন হয়ে গেলো! চাঁদে যে একটু সুখে বসবাস করবো সে উপায় নেই!

প্রজ্ঞান আরো একটু এগিয়ে দেখে চন্দ্রমুখী, রুপালী বসনের জরির আংরাখায়, ঠিক সেই বাজপেয়ীর কল্পনার রঙ্গে রাঙ্গানো আহা সেই জ্যোতস্নাদায়িনী চন্দ্রমুখী। প্রজ্ঞান বার্তা পাঠায়, হেরিনু নয়নো ভরি, তবু ভরিলো না চিত্ত।

ভিডিও ফিডে চন্দ্রমুখীর দেখা পেতেই, ইসরোর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা একসঙ্গে বলে ওঠে, ‘ইস’!

২৪৩ পঠিত ... ১৭:৪৮, আগস্ট ২৪, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top