আমরা কি এমন ক্রিকেট দর্শক চেয়েছিলাম?

৩০৪ পঠিত ... ১৭:০৯, মে ২৩, ২০২৪

8 (8)

ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা; প্রবীণ ধারাভাষ্যকাররা তাই একে এনিবডিজ গেম বলেন। সেই অনিশ্চিত খেলার প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল এমেরিকার টিমের কাছে হেরে যাওয়ায় যতনা মন খারাপ লেগেছে; তার চেয়ে বেশি মন খারাপ হয়েছে স্বদেশের দর্শকদের উল্লাস দেখে। তাদের আনন্দ দেখে বোঝার উপায় নাই; তারা কোন দেশের লোক!

সরকার তার জমিদার বাপের টাকায় জনগণকে খাওয়াচ্ছে, পরাচ্ছে, মেট্রোরেলে চড়াচ্ছে; আর এরা কি না এমেরিকার ক্রিকেট টিমের বিজয়ে উল্লসিত!

এমনিতেই মঙ্গলবার দিনটা নানারকম অমঙ্গল বয়ে এনেছে। দেশপ্রেমিক এক সাবেক সেনা প্রধান যার ভাইয়েরা অসীম বীরত্বে রাজপথে বিএনপি নির্মূল করেছে; যে সেনাপতি ২০১৮-র নির্বাচনে উন্নয়নের সরকারের পাশে ছিলেন নেপোলিয়ানের মতো; তাকে দুর্নীতির অভিযোগে ভিসা স্যাংশন দিয়েছে এমেরিকা। ভারতের ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা পারলিনা বাঁচাতে’। ধ্রুপদী সরকারকে বিব্রত করেছে ওয়াশিংটন। সারাদিন উন্নয়নের শত্রুরা এ নিয়ে নানা লাস্যে হেসেছিল।

দুপুরে আসে আরেক দুঃসংবাদ। বিশ্ব মতপ্রকাশ সূচকের পরীক্ষায় অনিন্দিতা সরকার ১০০তে মাত্র ১২ পেয়ে শোচনীয়ভাবে ফেল করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মতপ্রকাশে নিকৃষ্ট তিনটি দেশ; ‘পতি পত্নী অর ও’; ভারত-বাংলাদেশ আর আফঘানিস্তান।

মঙ্গলবার সারাদিন জাস্টিফিকেশন কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই ও টাইম মেশিন হাসাও ভাই হাসাও নানাভাবে বোঝাতে চেষ্টা করেন; আজিজ ভাইয়ের ভিসা স্যাংশন; প্রচলিত ভিসা স্যাংশন নয়; এতে ভিসা স্যাংশনে আরক্ত সরকার বিব্রত হবার কারণ নেই। দেশ যাত্রার বিবেক ওকাদা বোঝালেন, ও কিছু নয়; ডোনাল্ড লুর ফুচকাটাই আসল; স্যাংশনটা বিচ্ছিন্ন ভ্রান্তি।

সবশেষে মায়ের দোয়া ক্রিকেট টিম এমেরিকার বাইডেনদা ক্রিকেট টিমের সঙ্গে হেরে যায়। লু ঢাকায় এসে নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রীতি টেনিস ক্রিকেট শিখে গিয়ে নিজের দলের ক্রিকেটারদের বলে দিয়েছেন, সহজেই ব্যাঘ্র বধের কৌশল। খেলায় হারজিত থাকেই। কিন্তু মায়ের দোয়া টিম হেরে যাবার সঙ্গে সঙ্গে ট্রল করে ভূত ছুটিয়ে দেয় অনিচ্ছুক এই জাতি; যাকে স্বাধীনতা এনে দেয়াই ভুল হয়েছে বলে আক্ষেপ করেছেন হিস্ট্রি ফ্যান্টাসি গবেষক।

আসলে আমরাই ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, জাত্যাভিমান, জিতবে এবার নৌকা , মামণির দোয়া, বাইশ গজ থেকে সংসদের চেয়ার, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির বীররসলীলা মিশিয়ে দফার রফা ফিশরোল করেছি। ‘জিতলেও বাংলাদেশ হারলেও বাংলাদেশ’ বলে ক্রিকেট গ্যালারিতে রবার্ট মুগাবে লীগ দেশপ্রেমের ইমান শিক্ষা দিয়েছে; জাতীয়তাবাদের ‘খতিব’ হিসেবে তওবা পড়িয়েছে কিশোর দর্শকদের। সে কি ক্রিকেট পীড়ন, ফেসবুকে চোটপাট আলফাডাঙ্গার ক্রিকেট পুরোহিত ও মওলানা সাহেবদের!

তাই তো এমেরিকার কাছে হেরে ভূত হলে, জেন যি আর সব্বোনেশে নব্বুই দশকের সত্যান্বেষী প্রজন্ম হেসে উঠলো। সত্যজিত রায় দেখেই কী এরা শিখেছে যে, হীরক রাজাকে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপে জর্জরিত করো।

আমি পুরোনো অভ্যাসে একটা ক্রিকেট ভিক্টরি স্পিচ লিখেছিলাম, যে স্পিচে এমেরিকায় আমাদের বিজয় পতাকা উড়িয়ে ‘যন্ত্র ঐ একটাই ষড়যন্ত্র’ করা উন্নয়নের শত্রু ডনাল্ড লু'র মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিলাম। লিখেছিলাম,সাকিবের মুখ আমি দেখিয়াছি; তাইতো গোরা ক্রিকেটারের মুখ দেখিতে চাহি না আর। বর্ণমালার একটা ফতুয়া পরে একটি তুলার বাঘ কোলে নিয়ে ছবি তুলে রেখেছিলাম; বিজয়ের পর প্রোপিক চেঞ্জ করে ‘চমকে দেয়া কর্মসূচি’ পালন করতে।

মনটা খারাপ হয়ে গেলো যখন দেখলাম এমেরিকান ক্রিকেটার হারমিত আমাদের ক্রিকেট বাঘদের ‘পেপার টাইগার’ বলেছে! ক্রিকেট ভাবিরা কেন এখনো স্পিকটি নট তা বুঝতে পারছি না!

ম্যান প্রোপোজেস গড ডিসপোজেস। এ কী করলে তুমি নটি এমেরিকা! ভিক্টরি স্পিচ অনলি মি করে রেখেছি; এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পারলেই পাবলিক করে দেবো। তবে এইসব পরাজয়ে উল্লাস করা তরুণ দর্শকের নিষ্ঠুরতা সারারাত ঘুমাতে দেয়নি আমায়। কিছুক্ষণ পরপর তারা যেন কানের কাছে এসে বলে, ‘সহমত ভাই আমি ক্রিকেট দস্তখত শেখাতে  চাই।’

আমার এখনো কেন যেন মনে হয়, সাত সমুদ্র তেরো নদীর কারণে মায়ের দোয়া এমেরিকার মাঠে ঠিক মতো পৌঁছাতে পারেনি। নইলে এভাবে পচা শামুকে পা কাটবে কেন! এখন ভয় হয়, মায়ের দোয়া টিমটিকে গোরা সাহেবেরা চিরস্থায়ী জিম্বাবুয়ে বানিয়ে না ফেলে; মাঝে মাঝে নিয়ে গিয়ে হয়তো বীররসলীলা করবে; টু মেইক এমেরিকা গ্রেট এগেইন!

৩০৪ পঠিত ... ১৭:০৯, মে ২৩, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top