কবি ফায়েজ আহমেদ পাবনা পাগলাগারদ প্রতিষ্ঠায় বাধা দিয়েছিলেন

১০০ পঠিত ... ১৮:২৪, মে ১৫, ২০২৪

35 (4)

পাকিস্তানের খ্যাতিমান কবি ফায়েজ আহমেদ ফায়েজ পাবনায় একটি মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় বাধা দিয়েছিলেন; এমন তথ্য বেরিয়ে আসছে নানা গবেষণায়। জানা যায় ১৯৫৬ সালে ঢাকায় বেড়াতে এসে কবিদের আড্ডায় তিনি বলেন, পূর্ব বঙ্গের মানুষের আবার মন কী; তারা মানসিক রোগের কী বোঝে! পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব আর রাওয়ালপিন্ডিতে আছে বদ্ধ উন্মাদ জমিদার ও সেনানায়ক। পাগলা গারদ চাই লাহোরে।

কবি শামসুর রাহমান তাকে বলেন, পূর্ব বঙ্গের কৃষকের উৎপাদিত পাট রপ্তানী করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়; তা লুট করে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানের বুর্জোয়ারা। সুতরাং বৈষম্যে লীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তো শোকে পাগল হতেই পারে।

ফায়েজ যুক্তি দেন, পাগলা রোগ হয় বুর্জোয়াদের। পূর্ব পাকিস্তানে আগে বুর্জোয়া তৈরি হতে দেন; তারপর পাগলা গারদ।

ফায়েজ ফিরে যান। লাহোরে হীরামাণ্ডিতে প্রেমে পাগল নতুন সব লুন্ঠক জমিদারদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাবনায় পাগলা গারদ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে এক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সবাই। সেখানে হঠাত উপস্থিত কবি জন এলিয়া বলেন, লাহোরে পাগলা গারদ হলে, আমি সেখানে প্রথম রোগী হতে চাই। কারণ "ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়"। কবি হাবিব জালিব সভায় ঢুকে দুঃখ করেন, বেচারা মান্টো একটু শান্তির খোঁজে ভারত থেকে পাকিস্তানে এসেছিলেন। তার গল্পে "অবসিনিটি'-র অভিযোগ এনে বিচার বিভাগ তাকে অত্যাচার করে করে পাগল বানালো। একটা ভালো পাগলা গারদ থাকলে হয়তো শেষ রক্ষা হতো।

জন এলিয়া বলেন, রাওয়ালপিন্ডির আর্মি হেড কোয়ার্টারটাকে "পাগলা গারদ" বলে ঘোষণা করা হোক। সেখানে আর্মির অত্যাচারে পাগল হওয়া সিভিলিয়ানদের চিকিতসার সুযোগ চাই।

সভার সভাপতি  ফায়েজ বলেন, তাহলে সিদ্ধান্ত হলো, পাবনার লোক পাগলা গারদ পাবে না।

বগুড়ার রাজনীতিক মোহম্মদ আলী বগুড়া রেগে গিয়ে বলেন, পাবনায় পাগলা গারদ অবশ্যই হবে। দরকার হয়, আমি  প্রথম রোগী হিসেবে সেখানে ভর্তি হবো।

পাবনায় পাগলা গারদ প্রতিষ্ঠার কথা শুনে কলকাতায় সত্যজিত রায় বলেন, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদারি পেয়ে প্রজা শোষণ করে যারা কলকাতায় সেকেন্ড হোম করেছিলো; তারা আজ জমিদারি হারিয়ে পাগলপারা। পূর্ববঙ্গের লোক তো পাকিস্তানে যুক্ত হওয়া দ্বিতীয় অপশন হিসেবে রেখেছিলো। প্রথম অপশন ছিলো তাদের অখণ্ড বাংলা। কিন্তু এই পূর্ব বঙ্গের জমিদারগুলোই ভারতের সঙ্গে যেতে চাইলো। এ কোন পাগলামি! আমি মনে করি কলকাতাতেই "মেন্টাল এসাইলাম ফর ইস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড লর্ডস"  হওয়া উচিত। জলসাঘরে বসে তারা বেগম আখতারের ঠুমরি শুনবে আর পাকিস্তানকে গালি দেবে। এইভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে তারা।

ফায়েজ আহমেদ ফায়েজ গং-এর বাধার মুখে পাবনার হেমায়েতপুরে মোহম্মদ হোসেন গাঙ্গুলি নামে এক সহৃদয় ব্যক্তি পাগলা গারদ স্থাপন করেন।

অনুকূল চন্দ্র ঠাকুর বলেন, আমার আশ্রমে যারা আসবে; তারা একটু মেন্টাল চেক আপ করিয়ে যেও ঐ নতুন হাসপাতালে।

পশ্চিম পাকিস্তানের কবিদের বাধার মুখে পাবনায় পাগলা গারদ প্রতিষ্ঠিত হলে; ফায়েজ আহমেদকে সম্বর্ধনা দিতে এই পাগলা গারদে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে নতুন লেখা কবিতা শোনানোর আগেই হাসপাতালের পাগলেরা শক্তিশালী সব কবিতা পাঠ করে। ফায়েজ বলেন, আমরা কবিরা আসলে পাগল। সাধারণ মানুষেরা যারা, প্রতিদিনের খাওয়া- পরা-প্রাতঃক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে; তারা জীবনের গভীরের জীবনকে দেখতে পায়না। সম্পদের সোনার হরিণের পেছনে পাগলপারা হয়ে ছুটে অবশেষে হতাশ হয়। কিন্তু যেহেতু তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ; তাই তারা পাগলামির তকমাটা আমাদের মতো সংখ্যালঘিষ্ঠদের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছে; যারা খাওয়া-পরা আর সম্পদের ক্লিশে চিন্তা একেবারেই করতে পারে না। ঠিকই আছে কবির দেশে কবিতার দেশেই তো পাগলাগারদ বেশি প্রয়োজন। পশ্চিম পাকিস্তানের জমিদার আর সেনা কর্মকর্তারা সব বাড়ি-গাড়ি-নারী-ভুঁড়ি নিয়ে ব্যস্ত। পেটে কিল মারলেও কবিতার একটি লাইন বোঝে না তারা। থাকুক তারা ক্ষমতার পাগল হয়ে পাওয়ার করিডোরের লুনেটিক এসাইলামে।

(এসব গল্প কাল্পনিকই হয়)

১০০ পঠিত ... ১৮:২৪, মে ১৫, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top