পাইরেটস অফ দ্য সোমালিয়ান

২৪১ পঠিত ... ১৬:১১, মার্চ ১৮, ২০২৪

20 (1)

সোমালিয়ার সরকার পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারায়; সেখানে কার্যকর কোন নৌবাহিনী নেই। এসময় বিদেশী মাছ ধরার ট্রলারগুলো সোমালিয়ার উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকা থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ায় সেখানে নিরন্তর দারিদ্র্য ও অনাহার সৃষ্টি হয়। তখন সোমালিয়ার জেলে সম্প্রদায় ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে নিজেরাই একটি নৌবাহিনী গড়ে উঠে। লক্ষ্য ছিলো সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকা পাহারা দিয়ে মতস্যজীবী সম্প্রদায়কে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে দেয়া।

কিন্তু সাধারণত যা হয়; দেশপ্রেম ও উগ্রজাতীয়তাবাদের শ্লোগান দিয়ে যারাই দেশরক্ষায় এগিয়ে আসে; তারাই কালক্রমে ডাকাতে পরিণত হয়। ফলে সোমালিয়ার দেশপ্রেমিক সমুদ্রযোদ্ধারা জলদস্যুতে পরিণত হয়। তাদের দস্যুতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয় আরব সাগর ও ভারত সাগরে।সোমালিয়ার জনগণের অনেকের বিশ্বাস; এরা এখনো দেশের জন্য যুদ্ধ করছে।

পশ্চিমা বাণিজ্য জাহাজগুলো সোমালীয় জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হবার প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মিলিত নৌপাহারাদারেরা টাস্ক ফোর্স গঠন করে। এমেরিকান নৌবাহিনী লোহিত সাগরে ও আফ্রিকার শিং এলাকায় তাদের চৌকি বসায়। কিন্তু কিছুতেই সোমালিয়ার দেশপ্রেমিক জলদস্যুদের বাগে আনতে পারে না তারা।

এমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ ও বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এম আই সিক্স ব্যর্থ হলে তারা পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আইকে কিছু করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পানি দেখলে ভয় লাগে স্যার; বেশি কাজ করলে দেশের মাইনষে গালি দেয় সোশাল মিডিয়ায়; তাই এখন প্রপাগান্ডা মুভি বানাই; ফিল্ম কোম্পানি হয়ে গেছি স্যার। সি আই এ ভতসনা করে, অপদার্থ কুনহানহানকার! অযথা তগো পিছে টেকাটুকা নষ্ট করছি।

এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক নেতা নরেন্দ্র মোদী গুজরাট উপকূলবর্তী আরব সাগরের নীচে দ্য লস্ট সিটি অফ দ্বারকা পরিদর্শন করে। এই সেই নগরী যেখানে হাজার বছর আগে আধুনিক প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটেছিলো। কী ছিলোনা সেখানে; ছিলো পারমানবিক শক্তি, যুদ্ধ বিমান, ন্যানো প্রযুক্তির নানা উপাচার। গবেষণায় জানা যায় হাজার বছর আগে এই প্রত্ন নগরীতে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও স্পাইওয়ারের উদ্ভব ঘটেছিলো। পৃথিবীর অধিকাংশ বিজ্ঞানীই এই প্রত্ন নগরীর গ্রন্থাগার ও গবেষণাগার থেকে চুরি যাওয়া বিজ্ঞান সূত্র নকল করে পরবর্তীতে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

মোদী সমভিব্যহারে দ্বারকা নগরী পরিদর্শনের পর গোয়েন্দা সংস্থা র'-এর প্রধান বলেন, হাজার বছর আগের সবচেয়ে দক্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ছিলো এই নগরীতে। আমি সেসময়ের র' দপ্তর থেকে একটি গাইড বুক এনেছি। এখন আমাদের ঠেকাতে পারে এমন কোন শক্তি নেই। সামনে বসা টাবু বলে, তার মানে বুঝতে পারছি আমাদের কাজ বাড়লো বস!

গোয়েন্দা প্রধান হেসে বলেন, সোমালিয়ার জলদস্যুদের কিছুতেই বাগে আনতে পারছে না সি আই এ। আর তারা খুব ব্যস্ত ঐ ইয়েমেনের পানিদস্যুদের নিয়ে। কারণ ইরান ইয়েমেনের পানিদস্যুদের প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।

টাবু ভ্রু কুঁচকে বলে, সোমালিয়ার জলদস্যুদের পেছনে কে; নিশ্চয়ই পাকিস্তান!

--অর্ণব গোস্বামী সেটাই সন্দেহ করে। কিন্তু আমাদের চাই প্রমাণ। তুমি এক কাজ করো টপ এজেন্ট অক্ষয়ের সঙ্গে দেখা করো। সে কেদারনাথে ধ্যান করছে।

অক্ষয় পদ্মাসনে বসে চোখ বন্ধ করে আরব সাগর ও ভারত সাগরের তলদেশ স্ক্যান করে। সমুদ্রের ওপরে সে মাল্টা জাহাজ রুয়েনকে খুঁজে পায়। সেখানে জলদস্যুদের নড়াচড়া লক্ষ্য করে। চোখ খুলে বলে, কে টাবু এসেছো; এতোদিন পর আমার কথা মনে পড়লো তবে! তাপসী পান্নু কই; সমুদ্রে চিৎকার করে জলদস্যুদের সঙ্গে বারগেইন করার জন্য তাপসীকে চাই।

সী প্লেনে করে আকাশে চক্কর দিতে শুরু করে অক্ষয়, টাবু ও তাপসী!

তাপসী চিৎকার করে বলে, এই পাইরেটস অফ দ্য সোমালিয়ান, সারেন্ডার সারেন্ডার প্লিজ।

সাড়া শব্দ না পেয়ে গুলি ছুঁড়ে টাবু। সোমালীয় এক দস্যুর গায়ে গুলি লেগে সে ডেকে পড়ে যায়। একজন সহদস্যু এসে তার ক্ষতস্থানে সোমালীয় হেকিমি মলম লাগিয়ে আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ  দিলে সে আবার জ্যান্ত হয়ে ওঠে।

হঠাতই একটা জাহাজ "এম ভি হারুনের ভাতের হোটেল" থেকে হ্যান্ডফোনে আওয়াজ আসে, টাবু আপা একটু খেয়ে যান; আপনাদের জন্য ভাত, ডিম আর মুরগীর মাংস এনেছি, সঙ্গে সালাদ; তারপর একটু দই আর বালিশ চমচম।

খাবারের মেনু শুনে তাপসী বলে, টাবুদি চলো নামি!

অক্ষয় বলে, তোমার যাও; আর আমি একটু গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে দ্বারকা নগরীর মন্দিরে পুজো দিয়ে আসি।

টাবু ও তাপসী এম ভি হারুনের ভাতের হোটেলে এলে, টেবিলের ওপর বাংলা খবরের কাগজ পেতে খাবার পরিবেশন করা হয়। হোটেল মালিক হাত দিয়ে একটা করে ডিম আর বেলের ভর্তা তুলে দেয় দুজনের পাতে।

অক্ষয় দ্বারকা নগরীর মন্দিরে গিয়ে নারকেল তোড়ে তার পর চোখ বুঁজে ধ্যান করে। হঠাত দুটো আলোর রেখা তার চোখে এসে পড়ে। সেই আলোর উতস অনুসরণ করে অক্ষয় পৌঁছে যায় এক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণাগারে। সেইখানে এক বিশাল আকৃতির চুম্বক। পাশের একটি সুইচে চাপ দিতেই চুম্বকটি ভুঁস করে সমুদ্রের ওপরে উঠে আসে। তারপর তা মাল্টার জাহাজ রুয়েনের দিকে এগুতে থাকে।

বড় চুম্বকটি গিয়ে মাল্টার জাহাজ রুয়েনের গায়ে আটকে যায়; অমনি জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। অক্ষয় সমুদ্রের গভীর থেকে উপরে উঠতেই চুল ঝাঁকিয়ে স্লো মোশানে দুইদিকে জল ছড়িয়ে দেয়, সে জাহাজের দিকে সাঁতার কাটতে থাকে পেশী বহুল হাত দিয়ে; নেপথ্যে গান বাজতে থাকে, ওম নমঃ শিবায়ে! ওম নমঃ শিবায়ে। অরুণাচল শিবা নমঃ শিবায়ে।

ওম শব্দটি পৃথিবী সৃষ্টির আদিশব্দ; ফলে সমুদ্রের মধ্যে সামুদ্রিক প্রাণীদের দেহে প্রাণ সঞ্চার হয়। পাখিরা আকাশে ওড়াউড়ি করতে থাকে। চারপাশে অপার শান্তি নেমে আসে।

টাবু ও তাপসী রুহেন জাহাজে চড়ে গ্রেফতার করে সোমালীয় জস্যুদলকে।

র' সদর দপ্তরে  আনন্দে সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হাত তালি দেয়। র প্রধান ফোনে; অপরপ্রান্তে তিনি, যিনি সার্বক্ষণিকভাবে অপারেশন মনিটর করছিলেন; অহোরাত্র অতন্দ্র যিনি। তিনি শুধু একবার বলেন, আচ্ছে দিন!

(কাল্পনিক গল্প; বাস্তবের সঙ্গে মিল খুঁজে অস্থির হওয়া ঠিক হবে না)

২৪১ পঠিত ... ১৬:১১, মার্চ ১৮, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top