রবার্ট মুগাবের একটি কাল্পনিক লেটস টক উইথ ইনফ্লুয়েন্সার

৪২৬ পঠিত ... ১৭:০১, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩

412684652_267240609691608_1382541686804372076_n

রবার্ট মুগাবে। উগান্ডার প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইয়াং ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে একটি মত বিনিময় সভার আয়োজন করেছেন। সভার নাম দিয়েছে লেটস টক। সভায় আমন্ত্রিত হয়েছে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার সমৃদ্ধ ফুড ভ্লগার থেকে শুরু করে কমেডিয়ান, ফ্যাশন ভ্লগার, ট্রাভেল ভ্লগার, কাপল ভ্লগার সবাই।

নির্বাচনের আগে এই সভাটিকে দেখা হচ্ছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে। দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে সেখানে। মুগাবে বেশ রোমাঞ্চিত, সাথে কিছুটা ভয় তো আছেই। দেশের ইয়ুথদের সাথে নির্বাচনের আগে কথা বলবে, তারা দেশ নিয়ে তাদের নানান ভাবনার কথা জানাবে। এটা যেমন ভালো লাগার তেমনি দেশ, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি সচেতন এই তরুণরা অনেক কঠিন প্রশ্নও করে বসতে পারে। সে প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়তো মুগাবের জন্য কঠিনও হয়ে যেতে পারে।

প্রথম প্রশ্নটা করলেন উগান্ডার জনপ্রিয় ফুড ভ্লগার আফসান দ্য সেঝ ভাই। রাজনীতি নিয়ে এই ছেলের মেধা দূর্দান্ত। ভাবেন দেশ ও সমাজ নিয়েও। শুধু এ কারণেই মুগাবের সাথে এই সভায় দাওয়াত পেয়েছেন তিনি। বেশিরভাগ ইনফ্লুয়েন্সারই দাওয়াত পেয়েছেন দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ নিয়ে নিজেদের সহজাত ভাবনার কারণে। রাফসানের প্রথম প্রশ্নেই কিছুটা নড়েচড়ে বসেছেন মুগাবে। কী বলবেন, বুঝতে পারছেন না। আফসান মুগাবেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘গুম হওয়া মানুষরা কী খায়? আপনি জানেন? আমি তাদের খাবার রিভিউ করতে চাই।‘

এমন প্রশ্নের জন্য পিএম প্রস্তুত ছিলেন না। প্রশ্নটি এড়িয়ে যাবেন এমন সুযোগও নেই। এড়িয়ে গেলেন না। তিনি বললেন, ‘আমি তো বাড়িতে প্রায়ই রাঁধি। আমার নাতি-নাতরিরা আমার হাতের রান্না বেশ প্রশংসা করেন।‘

পরের প্রশ্নটাও ছিলো একদম তীরের মতো। প্রশ্নটা করেছেন কানা ভাই জোশ নামের আরেক ইনফ্লুয়েন্সার। শ্রম অধিকার নিয়ে দারুণ সচেতন এই মেয়েটি। সেজন্যই তাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কানা ভাইয়ের শাড়ির সাথে মুগাবের শাড়ি কালার মিলে যাওয়ায় মুগাবে কানা ভাইয়ের প্রশংসা করেছিলেন। এই ফাঁকেই কানা ভাই করে বসেন সেই তীক্ষ্ণ প্রশ্নটি, ‘ন্যায্য অধিকার নিয়ে আন্দোলন করার জন্য গার্মেন্টস শ্রমিকদের উপর আপনার পুলিশ গুলি চালালো কেন?’ এই প্রশ্নের জবাবও ঠিকঠাক দিতে পারেননি মুগাবে। তবে কিছুটা দায় এড়ানোর চেষ্টা তিনি আসলে করেছেন। কানা ভাইকে বলেছেন, ‘যে পুলিশ গুলি চালিয়েছে সে উগান্ডা ন্যাশনালিস্ট পার্টি করে। ইউএনপি। আমাদের কোনো দোষ নাই।‘

ক্যাটরিনা কায়সার নামে আরেক ইনফ্লুয়েন্সারের প্রশ্নটিও ছিলো বেশ অ্যাটাকিং। তারা নিজেদেরকে যুব সমাজের আইডল মনে করেন, প্রশ্ন তো কঠিন হবেই। প্রশ্নটি ছিলো সমুদ্র আর রুনি নামের দুই সাংবাদিক হত্যার একটি মামলা নিয়ে। ক্যাটরিনা কায়সার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘সমুদ্র আর রুনির মামলার ডাবল সেঞ্চুরি কি আমরা এই নির্বাচনের পর স্পর্শ করতে পারবো?’ এই প্রশ্নের তেমন কোনো জবাব দেননি মুগাবে।

এরপরের প্রশ্নটি করার জন্য মাইক হাতে নেন লাফিং আবসার নামের আরেক ইনফ্লিয়েন্সার। তিনি মুইগাবে জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘আপনার মেয়াদে আমরা দারুণ কিছু সাফল্য পেয়েছি। উগান্ডা কেন্দ্রিয় ব্যাঙ্ক থেকে রিজার্ভ চুরির মতো অর্জন আমাদের ঝুলিতে আছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পেয়েছি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটা লিক করার মতো সাফল্য। সামনের নির্বাচনে আপনি ক্ষমতায় আসলে আমরা এমন আর কোন কোন ডিজিটাল সাফল্য পেতে পারি?’

৪২৬ পঠিত ... ১৭:০১, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top