যে কারণে এইচএসসি পাশের সাথে সাথেই মেয়েকে বিয়ে দেবেন (মেয়ের বাবা-মায়ের অবশ্য পাঠ্য)

৩৩৫ পঠিত ... ১৮:১৯, নভেম্বর ২৬, ২০২৩

17

এইচএসসি পাশের পর ছেলে কোথায় ভর্তি হবে, দেশে পড়বে নাকি বিদেশে? মেডিকেলে পড়বে নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং—এমন নানান বিষয় নিয়ে ছেলের বাবা-মায়ের মতবিরোধ দেখা দিলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদমই আলাদা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেই কোনো মতবিরোধ। এইচএসসি পাশ মানে মেয়ের বিয়ে দিতে হবে—বাংলাদেশের বেশিরভাগ বাবা-মা’ই এই সিদ্ধান্তে তর্ক ছাড়াই একমত। আত্মীয়-স্বজনরাও তাই কোন মেয়ে এইচএসসি পাশ শুনলে তার জন্য তড়িৎ গতিতে নিয়ে আসেন নানান আকর্ষনীয় ও ভালো পাত্র। অনেকে এইসবের সমালোচনা করেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এইচএসসি পাশের সাথে সাথেই মেয়েকে বিয়ে দেয়া অনেক বেশি কাজের, রয়েছে অনেক ভালো দিকও। মেয়ের বাবা-মায়ের জন্য এমনই কিছু সুবিধার কথা জানাচ্ছেন eআরকির গবেষক দল।

 

১#

এইচএসসি পাশের সাথে সাথেই মেয়েকে বিয়ে দিলে বাড়িতে একটা উৎসবের আয়োজন করা যাবে। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সবার দেখা হবে। একটা গেট টুগেদার হয়ে যাবে। তাছাড়া এইচএসসির পর পড়ালেখা করা তো চাট্টিখানি কথা না। কোচিং, ভর্তি পরীক্ষা, এদিক সেদিক গিয়ে অ্যাডমিশন টেস্ট দিয়ে আসা। সাথে আছে নানান মানসিক টেনশনও। এইচএসসির সাথে সাথে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিলে এইসব কোনো ঝামেলাই নেই। ছেলে হলে এইসব টেনশন নেয়া যায়, মেয়েদের ক্ষেত্রে একদমই নেয়া ঠিক না। তাছাড়া অনার্স শেষে তো এমনিতেই বিয়ে হয়ে যাবে।

 

২#

একটা মেয়ের স্বপ্ন থাকতেই পারে সে এইচএসসির পর পড়ালেখা করবে, মেডিকেলে পড়বে, ইঞ্জিনিয়ার হবে, জীবনে অনেক বড় হবে, পরিবারের হাল ধরবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে—কিন্তু একই স্বপ্ন বাবা-মায়ের থাকলে চলবে না। বাবা-মাকে হতে হবে বাস্তববাদী। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তাকে পাঠাতে হবে শশুর বাড়ি। বাপের বাড়িতে থেকে সুখে, আরাম আয়েশে দিন কাটাবে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে—এটা তো মেয়ে নেয়া যায় না। জীবনে সুখই তো সব কথা না। এজন্য মেয়েকে বিয়ে দিন। জীবনে দুঃখ দেখারও দরকার আছে তাদের।

 

৩#

এইচএসসি পর পড়ালেখা করলে মেয়ে চাকরি করবে, স্বাভলম্বি হবে। স্বাভ্লম্বি মেয়েকে বিয়ে দিলে রয়েছে নানান ঝামেলা। শশুর বাড়ির মানুষ, স্বামী তার উপর অত্যাচার করতে পারবে না। কিছু করলেই স্বাভ্লম্বি মেয়ে মানুষ টুপ করে নিজের বাড়ি চলে আসবে। চলে আসতে পারে বাবা-মায়ের বাড়িতেও। এরপর নানান ঝামেলা। ফলে স্বাভলম্বি হওয়ার সুযোগ মেয়েদেরকে দেয়াই যাবে না। তাদেরকে তৈরি করতে হবে শশুর বাড়ির জন্য। ফলে এইচএসসির পর পরই বিয়ে দিয়ে দিতে হবে।

 

৪#

মেয়ের বাবা-মা হিসেবে মেয়ের স্বামীর সাফল্য নিয়ে গর্ব করতে কারই বা ইচ্ছে করে না! সবারই ইচ্ছে করে। মেয়ের বাবা-মা হিসেবে মেয়ের স্বামীর সাফল্য নিয়ে গর্ব করার জন্য হলেও এইচএসসির পর মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দেয়া উচিৎ। এইচএসসি পাশ থাকলে ভালো পাত্রও পাওয়া যায়। অনেক বাবা-মা আছেন মেয়েকে আরও পড়ালেখা করায়, স্বাবলম্বি করায়, এরপর মেয়ের সাফল্য নিয়ে গর্ব করে। এরা বোকা বাবা-মা। একটু চালাক বাবা-মা হওয়ার জন্য এইচএসসির পর দ্রুত মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিন। এরপর মেয়ের স্বামীর সাফল্য নিয়ে প্রাণভরে গর্ব করতে থাকুন।

 

৫#

মেয়ে এইচএসসি পাশ করেছে—এই খবর শোনার পর চারপাশ থেকে আত্মীয়-স্বজন নানান ভালো ভালো পাত্রের খোঁজ নিয়ে আসবে। ‘না’করে দিলে তারা মনে কষ্টও পেতে পারে। মেয়ের স্বপ্নের কথা চিন্তা করে তো আর আত্মীয়-স্বজনদের মনে কষ্ট দেয়া যায় না। মেয়ে গেলে মেয়ে পাওয়া যাবে, আত্মীয়-স্বজন গেলে তো আর আত্মীয়-স্বজন পাওয়া যাবে না। ফলে এইচএসসি পর আত্মীয় বন্ধন ঠিক রাখতে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিন। সম্ভব হলে কয়েকটা আত্মীয়কে খুশী করার জন্য মেয়েকে একাধিক বিয়ে দিন। মেয়ের বাবা-মা হিসেবে এ আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

৩৩৫ পঠিত ... ১৮:১৯, নভেম্বর ২৬, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top