স্বামীর পত্র

৯৮৪ পঠিত ... ১৭:০৪, আগস্ট ১৯, ২০২৩

Shamir-potro

প্রিয় ওয়াশিংটন,

আজ আপনাকে অনেক মন খারাপ নিয়ে চিঠি লিখছি বড় ভাই। আপনি ইদানিং বাংলাদেশে ডেনজেল ওয়াশিংটনের মতো কী সব ইকুয়ালাইজার মুভি শুরু করলেন বলেন তো!

বাংলাদেশ আমার কত সাধনার ফল তা কি আপনি জানেন! সেই ১৯৭১ সালের পর থেকে বুকে গভীর প্রেম নিয়ে ঘুরছি। কিন্তু লাস্যময়ী মেয়েটি শুধু ‘দাদা’ বলে হাতে রাখি পরিয়ে দিতে চায়। অমনি আমি দৌড়ে পালাই!

এরপর বাংলাদেশ দেখলাম, চীন এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গে এখানে-ওখানে কফি খায়। পরে ঘটক প্রণবদাকে ধরলাম। উনি শিবসেনার মন্দিরে ফুল দিতে এসে বললেন, সে দেকা যাবে ক্ষণ; আমার শ্যালিকা একটু অহংকারি! সেকী হিন্দুত্ববাদী স্বামী পছন্দ করবে!

এরপর তো আমার পারুর জন্য কেঁদে কেঁদে দেবদাস দশা; চন্দ্রমুখী আফঘানিস্তান ঠিক আছে; কিন্তু আমার আওয়ামী বাংলাদেশ চাই। অবশেষে সুজাতা গেলো পান-সুপোরি আর প্রস্তাবের ফুল-চন্দন ডালি নিয়ে। এরশাদকে দিয়ে গায়ে হলুদের ভরত নাট্যম করিয়ে ২০১৪ সালে পানচিনি হলো। এরপর একদিন শিরোধার্য মোমেন স্বীকার করলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক।

আমি উহাকে পাইলাম; সে আমার সম্পত্তি ও সম্পদ। সাতবোন রাজ্যে যাবার জন্য শ্বশুর বাড়ির উঠোনটা জোগাড় করে দিলেন আমার প্রণবদা। উনি কোয়ালিশন ইয়ারস গ্রন্থে লিখেছেন, উনার ঘটক জীবনের সাফল্যের গল্প। আজ প্রণবদা আমাদের মাঝে থাকলে, ঘটনা এতোদূর আসতো না; উনি "ইলেকশান ইয়ারস" নামে আরেকটা ঘটকালি গ্রন্থ লিখতে পারতেন।

আমি জানি, বাংলাদেশের ঐ উচ্চ শিক্ষিত দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য-বিনায়ক সেন চলায় বলায় এক্কেবারে অমর্ত্য সেন, হিন্দুত্ববাদকে দেখতে পারেন না। আমার ব্যাপারে মুসলমানের চেয়েও ক্রিটিক্যাল উচ্চশিক্ষিত হিন্দুগুলো। বড্ড তাদের সেকুলার আত্মা! তাই পড়ালেখায় দুর্বল শ্যালকগুলোকেই  অত্যন্ত ‘র’ বা কাঁচা টকার হিসেবে লাগিয়ে রেখেছি ‘সহমত ও শিবব্রত টিভি’ টকশোতে। শ্বশুরবাড়িতে অত্যন্ত হিন্দুত্ববাদকে জনপ্রিয় করতে।

আপনি তো জানেন বড় ভাই, আমাদের হিন্দুত্ববাদে আরাম কিন্তু ইসলামপন্থা হারাম। এই যে আপনি জামায়াতকে মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখেন, কিন্তু জামায়াত তো মৌলবাদি, পাকিস্তানের সঙ্গে তামুক খায়, আর বিজেপি অত্যন্ত পোগোতিচিল। করোনার সময় আমি রবীন্দ্রনাথের দাড়ি রেখেছিলাম। আর প্রণবদা তো কংগ্রেসের সেকুলার, উনি যখন বিজেপিকে ভালোবাসা দিয়েছেন; সুতরাং আমরা সেকুলার; মোটেও মৌলবাদি নইকো!

এই যে জামায়াত জুজু তাকে ভয় পাওয়া উচিত ভাই, দেখবেন চিনের সঙ্গে মিলেমিশে ও ঢাকায় ড্রাগন মিছিল নিয়ে আসবে! কোথায় হারিয়ে যাবে আমার শ্বশুর বাড়ির মঙ্গলশোভাযাত্রা; যেইখানে দাড়ি-টুপি ওয়ালা পুতুলের মাঝ দিয়ে ‘মৌলবাদ’-কে আঁকা হয় অত্যন্ত পোগোতিচিল তুলিতে!

আমরা সেকুলার না হলে হেফাজতের শাফি হুজুরকে বাঁচাতে আমাদের ডাক্তারেরা কত চেষ্টা করেছে বলুন। হেফাজত কিন্তু শিবসেনার মতোই অত্যন্ত পোগোতিচিল।

চাণক্য দাদা বলেছেন, তেঁতুল গাছের তলায় যতই দুধ-মধু ঢালুন; তাতে তেতুল কখনো মিষ্টি হবে না। জামায়াত গাছের নীচে যতই দুধ-মধু ঢালুন, ও কক্ষণো বিজেপির মতো সুমিষ্ট হবে না। আমরা হিন্দুত্ববাদী ভারত আতাফলের মতো সুমিষ্ট।

ও বড় ভাই, আপনি এইরকম ভিসা স্যাংশন দিয়ে আমার শ্বশুরকূলের আমেরিকা যাত্রা আটকে দিলেন কেন! শুনলাম ওদের সেকেন্ড হোম ও ব্যাংক একাউন্টের তালিকা হচ্ছে; এসব কী ভাই! এতো কষ্ট দিচ্ছেন কেন আমার গণতান্ত্রিক শ্যালক-শ্যালিকাদের!  আমার শ্যালক-শ্যালিকা'র আওয়ামী লীগ হেরে গেলে স্ত্রী বাংলাদেশ হেরে যাবে! কী করে বোঝাবো আপনাকে!

আপনি বড় ভাই একবার আফঘানিস্তান থেকে হুট করে চলে এসে আমার জীবন থেকে চন্দ্রমুখীর সাজানো সংসার কেড়ে নিলেন। এখন যদি পারু বাংলাদেশও জীবন থেকে ছুটে যায়; আমি কিন্তু মদ খেয়ে খেয়ে জলে ডুবে মরবো!

ভাই গো, একটু দয়া করেন, আপনি জানি কী দিয়া কী করেন, আমার হিন্দুভারতের স্বপ্নটা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে! ও ভাই, পাপ্পু কেন চোখ টিপ দেয়, ফ্লাইং কিস দেয়! ও কী বোঝাতে চায় ইশারায়! আপনি কী পাপ্পুকে ‘ইউ ক্যান ডান্স শালা’ বলেছেন! আমি আপনার কোন পাকা ধানে মই দিয়েছিলাম! আপনি ডেনজেল ওয়াশিংটনের মতো এইরকম ইকুয়ালাইজার গেম খেলছেন কেন! আপনি কী এক্সট্র্যাকশান করবেন, ভেঙ্গে দেবেন আমার আওয়ামী বাংলার সোনার সংসার!

ও ভাই আমি বউ পাগল লোক! আপনি বললে দরকার হয় চীনে মহাভারতের সব প্রাচীন ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়বো! প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে বলে দেবো আড়ি! আপনি তবু আমার সংসার ভেঙ্গে দেবেন না!

বায়েস্কোপের নেশায় নাহয় একটু বাড়াবাড়ি করেছি; পেটে দু'পাত্তর পড়লে নিজেকে পরাশক্তি ও বিশ্বমোড়ল মনে হয়। ঘাট হয়েছে; আর কোনদিন গরুর দড়ি হাতে নিয়ে স্পেস ক্লাবের মেম্বরশিপ চাইবো না! আমি জানি আমার বলিউডের রুপকথার নীচে গরীব উপকথার জীবন; বাড়িয়ে বলতে বলতে হাতির মত ফুলতে গিয়ে আমার পেট ফেটে যাবার উপক্রম। আর কোনদিন ভুল করেও আপনার চেয়ে নিজেকে বড় ভাববো না ভাই!

তবু কৃপা করুন! শাবানার সেলাই মেশিন কেড়ে নেবেন না; ওর নৌকাটা ভেঙ্গে দেবেন না! আপনার ভয়ভীতি দেখানোর পর থেকেই, ও গাইছে, এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই, স্যাংশন নামের দংশন আছে দুনিয়া বোঝাই। স্ত্রী'র চোখে অশ্রু দেখলে কোন স্বামী তা সহ্য করতে পারে বলুন!

আশা করছি, আপনার আশীর্বাদে আমাদের সংসারটি শিবসেনা ও হেফাজত ফুলে-ফলে ভরে উঠবে। আবারও একটি লাইলাতুল ইলেকশনের রাতের সিলেকশানের ফলাফল হাতে আমরা গাইবো, "গুঞ্জনে দোলে যে ভ্রমর; গণতন্ত্র চলেছে উড়ে উড়ে!" আপনি খালি একবার "সুষ্ঠু" বলে একটা মুচকি হাসি দিয়ে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করবেন ভাই।

লং লিভ এমেরিকা, জয় শ্রীরাম

ইতি আপনার ভাই

হিন্দুস্তান

৯৮৪ পঠিত ... ১৭:০৪, আগস্ট ১৯, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top