‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ গ্রন্থের বিরুদ্ধে মশালীগের বিক্ষোভ

১৫৮ পঠিত ... ১৮:২৮, আগস্ট ০৯, ২০২৩

মশার-কামড়-ক্ষতিকর

ঢাকা উত্তরের মেয়র ‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করার পর থেকেই নগরবাসী স্বস্তিতে বসবাস করতে শুরু করেছেন।

আওয়ামী লীগের সেকেন্ড হোমারদের মাঝে যারা স্ত্রী ছেলে-মেয়েদের মশা ও ডেঙ্গি থেকে নিরাপদে থাকতে সেকেন্ড হোমে প্রেরণ করেছিলেন; তারা পরিবারবর্গকে আবার শহরে ফিরিয়ে এনেছেন নানারকম চিফ হিট অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে।

‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে; ঘরে একটি গ্রন্থ রাখলে; মশারা ভয় পেয়ে আর সেখানে প্রবেশ করে না। এরোসল ,মরটিন, কয়েল, মশা মারার ব্যাট ও মশারীর চেয়ে অনেক কার্যকর এই গ্রন্থটি।

শিশু লীগের সদস্যরা মশা দেখলেই তাদের এই গ্রন্থ দেখিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। এই গ্রন্থটি শিশু খেলনা হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ গ্রন্থটিকে প্রাণঘাতী আখ্যা দিয়ে মশালীগের সভাপতি বিশিষ্ট মশা বলেছেন, আমাদের শরীরে আওয়ামী লীগের রক্ত। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে গ্রন্থ প্রকাশ করায় দলীয় সমর্থন ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ থেকে কমে নিশ্চিত চার-পাঁচ শতাংশ হয়ে যাবে। কারণ ভোট কেন্দ্রে ৪ শতাংশ মশা থাকে বলেই নির্বাচন কমিশন ঐ ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশের হিসাবটা গর্বভরে প্রকাশ করতে পারে।

মশাদের এক বুদ্ধিজীবী বলেছেন, আমরা দলের দুর্দিনে বিএনপির লোককে কামড়ে বিবৃতি দিয়ে অস্থির করে দিয়েছি। বিএনপি নেতাদের মশা মারার ব্যাটের আঘাতে অনেক মশা জীবন দিয়েছে হাসিমুখে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, মশারা এই ত্যাগের কোন মূল্যায়ন পেলো না।

মশাদের এক সংগীত বিশিষ্ট শিল্পী আক্ষেপ করে বলেছেন, ঐ যে পুণ্যভূমিতে গিয়ে মাজার জিয়ারতের পর মেয়র সাহেব যখন নৌবাহিনীর প্রমোদ তরীতে সংরক্ষিত আসনের সুন্দর বালিকাদের সঙ্গে সমবেত কন্ঠে গাইলেন, ইশকুল খুইলাছেরে মওলা ইশকুল খুইলাছে; আমি তো এরপর থেকে প্রতিদিন গাই, ইশকুল খুইলাছেরে মওলা ইশকুল খুইলাছে; আতিকুল আজম মইজভান্ডারি স্কুল খুইলাছে।

মশাদের ডিপ্লোম্যাটিক বিটের এক সাংবাদিক বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাসে ঢুকে এই যে যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যায্য দাবি নিয়ে আসে আসে আর স্যাংশানের ভয় দেখায়; সেই দেশের শত্রু ডোনাল্ড লু, আজরা জায়া থেকে নোফিউ; কাকে কামড়াইনি বলেন, তবু আজ টকশোতে ভাটের আলাপ করে প্লট পেলো ইউজলেস সাংবাদিকেরা; আর আমাদের বিরুদ্ধে লেখা হলো সব্বোনেশে গ্রন্থ!’

এদিকে গ্রন্থটিকে সুপাঠ্য ও নান্দনিক কাব্যময় উল্লেখ করে আসছে ফেব্রুয়ারিতে এই গ্রন্থটিকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেবার অনুরোধ জানিয়েছেন কবি শতবর্ষ কামাল।

এর প্রতিবাদ করে মশাদের এক কবি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকারের আমলাপ্রিয়তা এর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য ক্ষতিকর হবে! আরে উনার চেয়ে ভালো কবিতা আমরাই লিখতে পারি। কারণ আমাদের শরীরে ও জীনে রয়েছে প্রবাদপ্রতিম কবিদের রক্ত। আমার দাদাই তো কবি শামসুর রেহমানকে কামড় দিলে উনি হেসে বলেছিলেন, "কামড়াবে তো বেশ মশা কামড়াও; সস্নেহে তুলবো না তো চামড়াও।"  কবির মধ্যে এমন মায়া না থাকলে শুধু সরকারকে তেল দিয়ে কী কবি হওয়া যায়! মশার প্রতি হিংস্রতা কমিয়ে; এসো ভাই একযোগে উন্নয়নের বিপক্ষের শক্তিকে কামড়াই।‘

এক রাজনীতি সচেতন মশা বলে, ‘বুয়েটের যে ছেলেগুলো ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার শপথ নিয়েছে; আমরা তাদের দুটোকে কামড় দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছি; দেখেন গিয়ে প্লাটিলেট মাপছে ডেঙ্গির ভয়ে! আরে বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি না থাকলে, সরকারের ফুট সোলজার হবে কারা! ধরুন আবারও মোদীজী এলে, প্রতিবাদকারী ঐ সব মানবাধিকার প্রিয় ছাত্রদের বিক্ষোভে হামলা করবে কারা! বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাসগুলো ক্ষমতাসীনের ফুট সোলজার না হলে, মসনদ রক্ষা করবে কারা। যারা ছাত্র রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানকে পড়াতে চান, তারা ছেলে-মেয়েকে বিদেশে পড়ান; যেখানে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা-নেত্রীদের ছেলে মেয়ে  ছাত্র রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে ক্ষমতার চর দখলের লড়াইয়ের লেঠেল তৈরির আর দেশের জন্য মানুষ কোরবানি দেয়ার ছাত্ররাজনীতির খামার। উন্নত গণতন্ত্রের দেশে ছাত্র রাজনীতি না থাকলেও আমাদের হাইব্রিড রাতের গণতন্ত্রের দেশে হাইব্রিড ছাত্ররাজনীতি থাকবে। যারা এর বিরোধিতা করবে, আমরা তাদের কামড়ে দেবো!’

মশাদের একটি প্রতিনিধিদল স্মারকলিপি দিয়েছেন রাজনীতির কবি ওকার কাছে। ওকা তখন ফুলের বাগানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। মশাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ গ্রন্থটি আমি দেখেছি। আমার মনে হয় আমাদের দলে প্রবেশকারী কাউয়ারা এর জন্য দায়ী। দেখো গিয়ে বিএনপির লোকই লিখে দিয়েছে এই গ্রন্থ।‘

‘মশার কামড় ক্ষতিকর’ গ্রন্থটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে শাহবাগে মশাবন্ধন করেছে পোগোতিচিল মশারা। এক পোগোতিচিল  মশা মাইক্রোফোনে কামড় দিয়ে বলে, ‘আমরা তো সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক। কামড়ানোর সময় কারো ধর্ম দেখি না। শিবসেনা, শিবির, নাস্তিক সবাইকেই কামড়াই। রক্ত শুষে নিই নির্দলীয় সুশীলদেরও।‘

পরিস্থিতি সামলাতে মশাদের এক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় হারুনের ভাতের হোটেলে। ফেসবুক লাইভে দেখা যায় মশাদের নেতা বসে ভাত খাচ্ছে মুরগির সালন দিয়ে। হারুন ভাই মায়াবি চোখে তাকিয়ে মশার দিকে!

১৫৮ পঠিত ... ১৮:২৮, আগস্ট ০৯, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top