সদানন্দের ষড়যন্ত্র

৯৩১ পঠিত ... ২২:১৫, এপ্রিল ১৯, ২০২৩

sodanondo

উন্নয়নের সরকার যেখানে ১৭ কোটি মানুষকে খাওয়াচ্ছে; ১৭ কোটিকে খাওয়াতে পারলে তুমি ১০ লাখ রোহিঙ্গাকেও খাওয়াতে পারবে আপা বলে গর্বিত আমরা; সেইখানে একজন মজিদ চাচাকে  ১ টাকার বিনিময়ে আহার করিয়ে তাকে দিয়ে ক্ষুধার কথা বলিয়ে নেয়; এতো  কাছে সেই চুয়াত্তর সালের বাসন্তীকে জাল পরানোর ষড়যন্ত্রের মতোই মনে হয়। ওরা ki বলতে চায় যে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে? ওরা কী মজিদ চাচাকে বাসন্তীর জাল পরাতে চায়?

এক টাকার আহারের এই ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছে। সাড়ে চুয়াত্তর টিভি তার টিম বাজনদার নিয়ে মজিদ চাচার বাসায় গিয়ে দেখে; মজিদ চাচা গরুর গুশতো দিয়া ভুনা খিঁচুড়ি সাঁটিয়ে পান চিবাচ্ছে। টিভির মাইক্রোফোন বাগিয়ে ধরতেই মজিদ চাচা বলে, অগো এক টাকার আহার আমি করি না। ফডো তুলতে দশ টাকা দিয়া নিয়া যায়, আমি কী করুম!

মজিদ চাচার ঘরের পাশে সেই কালো গরু বাঁধা। টিম বাজনদার ইউরেকা ইউরেকা বলে চেঁচিয়ে ওঠে। এই তো সেই গরু। গরু আপন মনে খড়বিচালি চিবাচ্ছিলো। সে ঢেঁকুর দিয়ে বলে, আঁই কি কত্তাম! দশ টিঁহা দিয়া ফডু তুলাইলে। আমার একটা জমজ ভাইও আছে। হ্যাতে অহন ফডু তুলতে গেছে।

টিম বাজনদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, কাশতে কাশতে পট করে ফেসবুক লাইভ করে, এবার আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেতে হবে। কেন এতো জমি কিনতাছে সেইখানে। পাহাড়ে এতো এতিম কোত্থেকে এলো যে সেখানে এতিমখানা বানাতে হবে। নিশ্চয়ই এটা বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র। পাহাড়ি মায়ের ডাক নামে কোন এতিম খানা হবে। বিদেশি মিডিয়াকে দেখাতে চায়, গুম আর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে দ্যাকো কত জন এতিম হয়েছে।

মজিদ চাচা ও কালোগরুর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখিয়ে শুরু হয় সাড়ে চুয়াত্তর টিভির টকশো। উপস্থাপিকা বলেন, উপস্থিত রয়েছেন উপাচার্য মহোদয়; তার কাছে জানতে চাইবো, এক টাকার আহার করানোর মতো বাস্তবতা কী এই দেশে আছে স্যার।

উপাচার্য বলেন, দশ টাকার ছা ছপ ছমুছা বাস্তবসম্মত; কারণ তা শখের খাবার। কিন্তু ভাতের অভাব এই দেশে আসবে কোত্থেকে। দেখেন না এখন মাছ-মাংস-পোলাও-এর দাবী উঠছে।

উপস্থাপিকা উপস্থিত আরেক অতিথিকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি এক টাকার আহারকে কি দেশে ক্ষুধা তুলে ধরার চক্রান্ত মনে করেন?

সহমত ভাই বলেন, এটা ইলেকশান ইয়ার; নানারকম ষড়যন্ত্র হবে। ওরা একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা করেছে; আগুন সন্ত্রাস করেছে ইয়ে ইয়ে

সহমত ভাই ফাম্বল করতেই উপস্থাপিকা বলেন, উপস্থিত সাংবাদিক ভাইয়েরা কী কোন প্রশ্ন করতে চান।

 একজন বলেন, যে গরম পড়েছে, ওরা যদি একটাকায় এসির বাতাস খাওয়াতে পারতো তাহলে খুব ভালো হতো।

সাংবাদিকের কথায় সহমত ভাই রেগে কাঁই হয়ে যায়, বিএনপির সময়ে গরম আরো বেশি পড়েছিলো; আপনি তখন কোথায় ছিলেন?

উপস্থাপিকা জিজ্ঞেস করেন, গরু না খাইয়ে ডিম খাইয়েও তো পুষ্টি চাহিদা মেটানো যায়।

সাংবাদিক বলেন, ডিম তো সব ফেসবুকেই শেষ হয়ে যায়। বিবাদমান পক্ষগুলো একে অন্যকে রিমান্ডে নিয়ে ডিম দিয়েই তো স্টক ফুরিয়ে ফেলে।

৯৩১ পঠিত ... ২২:১৫, এপ্রিল ১৯, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top