২৫০০০ টাকার সুঁই সহমত ভাই হয়ে ঢুকে ২৫০০০ কোটি টাকার ফাল হয়ে বের হবে

৪৯০ পঠিত ... ১৬:৫০, মে ৩১, ২০২১

sui

ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণ শনাক্তে রোগীর মস্তিষ্কের রস সংগ্রহে ব্যবহৃত হয় বিশেষ ধরনের এক সুই। দেশের বাজারে যার প্রতিটির মূল্য ২৫০ টাকা। অথচ এই সুচই প্রতিটি ২৫ হাজার টাকায় কিনেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিষ্ঠান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। টাকার অঙ্কে যা বাজারদরের চেয়ে গুনে গুনে ১০০ গুণ বেশি।

নতুন বাজেট আসছে। বিশাল আয়তনের এই বাজেটের লোটাস ফুল ফুটবে; এই আনন্দে সহমত ভাই সুইয়েরা ফাল হবার স্বপ্নে বিভোর। গোরখোদকের ডাব চোর ছেলেটি কোনভাবে সরকারি দলের উন্নয়ন সৈনিক হয়ে দেশচুরি করে 'ফাল' হবার যে স্বপ্ন; সেটাই স্লামডগ ফালু মিলিওনিয়ার ড্রিম বলে প্রশংসিত। কিংবা নেতার ছেলের বন্ধু সুই হয়ে সেই ৪৫ বছর আগে তার বাড়িতে ঢুকেছিলো; এখন বিশাল ফাল হয়ে বিজনেস কোম্পানির দরবেশ হয়ে পড়ার যে সাফল্য ধারা; তাকেই হোয়াইট টাইগার ড্রিম বলে পরিচিত।

সুই হয়ে নেত্রী বাসায় ঢুকে নেত্রীর বাড়ির আসবাব-পর্দা-পেইন্টিং বদলে দিয়ে জনপ্রতিনিধি সভার ফাল হয়ে উত্থিত হবার যে মিড সামারস নাইটস ড্রিম; ঐটাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের সূচক হিসেবে পরিচিত সুইদেশে।

দেশের মহানায়ক হয়তো ৭০ বছর আগে কোন সুই মাঝির নৌকায় চড়েছিলেন; তিনি এখন নিঃসন্দেহে ফাল মাঝি। ঐ নেতা গ্রামের কোন ঘাটে নৌকা ভিড়িয়েছিলেন। ব্যাস! সেই গ্রামের কোন বিপুল সুই মহানায়ককে নিয়ে গ্রন্থ লিখিয়ে সেইখানে ইনিয়ে বিনিয়ে নিজের বাবা সুইয়ের সঙ্গে মহানেতার সখ্য ছিলো; সেই নেতা মারা যাওয়ার পর বিপুল সুইয়ের বাবা আর পালংকে ঘুমাননি; মাটিতে ঘুমিয়েছেন; এই গল্পটা ঐ বইয়ে লিখলে অনেক সুইমত ভাই-বোন আছেন অশ্রপাত করে রঙ্গভবনের পুকুর ভাসিয়ে দেয়ার জন্য। সেই অশ্রুজল নেত্রীর বসার ঘর প্লাবিত করলে, উনিও অশ্রুসিক্ত হলে বলেন, কে লিখেছে এই মহতগ্রন্থ; কোন সে সুই রাইটার। সুই বিপুল সেখানে করজোড়ে পৌঁছুলে; তাকে ফালরত্ন উপাধিতে ভূষিত করে; সারা দেশে বাতি জ্বালানোর দায়িত্ব দেয়া হয়। ফাল-বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করে বিপুল ফালরত্ন তখন অনেক সুইয়ের কর্মসংস্থান করেন রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এই কেন্দ্র বাতি জ্বালায় না; তবু তাকে রাজকোষ থেকে ভাড়া দিতে হয়। ফলে অসংখ্য সুই বিদ্যুৎ ফালে পরিণত হয়ে বিপুল রত্নফালের সুইমত ভাই হয়ে পড়ে।

ফেসবুকে সরকারের পক্ষে প্রতিটি অন্যায়-কর্মকাণ্ডের জাস্টিফিকেশান কমেন্ট লেখা বাবদ; দেশপ্রেমে তন্ময় হবার চেষ্টায় বুদ্ধির ফালজীবী হবার চেষ্টায় মরিয়া এক ভাঁড় সুই, প্রত্যেক সুইমত ভাইকে ২৫০ টাকা করে দেন। এই সুইমত ভাইয়েরা আবার কোন সরল-সাদা ইতিহাসের সংবাদপত্রের কাটিং সংগ্রহকারী লোককে তেলাঞ্জলি দিয়ে; কাটিংগুলো বাগিয়ে নিয়ে ইতিহাসান ফাল ও ইতিশিয়াল ফাল; রাইট ভাতৃদ্বয় হয়ে ফেসবুকের ইতিহাসবিদ ফালজ্বালা সৃষ্টি করে।

porda-shui

সেইসব ইতিহাসফালের গুনমুগ্ধ হয়ে তাদের অতি দেশপ্রেমের 'কট্টর ফতোয়া' সম্বলিত পোস্ট শেয়ার করেন শিক্ষামনিদি। সুইমত ভাইয়েরা তখন ইতিহাসান ফালতের শংসাগীতি গায়, বাঙ্গালী ফালিশ লংঘিল গিরি তুষারে ভয়ংকর; জ্বালিলো জ্ঞানের দীপ ফেসবুকে বাঙালি ফালংকর।

বিদেশে রপ্তানী করা সুইয়েরা পরিশ্রমের টেকাটুকার ফাল দেশে পাঠালে; সুইমত ভাই ব্যাংকের ফালমত ভাইকে কমিশন দিয়ে ব্যাংক-ঋণ নেয়। রেমিটেন্সের টাকা থেকে হাওলাত নিয়ে ফেরত দেয়না যে ফকির সুই; সেই এখন দরবেশ ফাল।

ইউনিভার্সিটিতে যেসব সুই সারাদিন বিসিএড গাইড পড়ে ঠোঁট সাদা করে ফেলে; তারাই পরীক্ষা দিয়ে ফাল হয়ে বের হয়। ফালের পোস্টিং হয়ে গেলে, ফেসবুকে এসে সে তার জীবন সংগ্রামের গল্প শোনালে; আবার সুইমত ভাইয়েরা অশ্রুপাত করে। সেই অশ্রু নেত্রীর পুকুর হয়ে বসার ঘরে এসে পৌঁছালে উনি জিজ্ঞেস করেন, এই ফাল অশ্রু বীরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়িত করা হোক। সেই ফাল প্রয়োজনের অতিরিক্ত সচিব হয়ে উন্নয়নের 'ফেয়ার এন্ড লাভলি' মেঘে ফেয়ার ইলেকশানে রিটার্ন করে দেয় উন্নয়নের ঋণ। কেল্লার মধ্যে জেল্লার ফাল মন্ত্রণালয়ে সুই হয়ে ঢোকা-কনস্টেবল-পিয়নদের ফালযোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দিলে, তারা মন্ত্রণালয় '২৫০ টাকার সুই ২৫ হাজার টাকার ফালের দামে কিনে বিদেশে টাকা-পাচার করছে; ফাল সেকেন্ড হোম বানিয়েছে লুন্ঠনের টাকায়' এইসব খবর দেয়ার দায়ে সাংবাদিকের টুটি চেপে ধরে।

সকল সুইয়ের সেরা যেহেতু ফালের বসুন্ধরা; তাই বসুন্ধরার ফাল যুবরাজ ক্রিকেট খেলার আসর জমিয়ে; রাজগ্যালারিতে মহানেত্রীর সঙ্গে ছবি তুললে; তখন নিজেকে বসুন্ধরা ফালের ধরার মালিক এবং 'হেরেমের পাখি পছন্দ না হলে' তা সশব্দে সরানোর মতো শক্তিশালী রাসপুটিন মনে হয়। সুইজনতা এইরকম মুনিয়া পাখি হত্যার দায়ে বিচার দাবি করলে 'সুই মিডিয়ার পীর-ফকিরেরা' ফাল হয়ে বের হয়। মুনিয়াকে নষ্টা-ভ্রষ্টা বলে দেয়। সুই চোখ টিভি, অপরাধীর ছবি ব্লার করে মুনিয়ার প্রতিশ্রুতিশীল ছবি প্রচার করে, নারীভোজি সুই দর্শকের গসিপের জন্য। সুই মুনিয়া বসুন্ধরার প্রাসাদে ঢুকে ফাল হতে চেষ্টা করলেও; সে সুইই থেকে যায়। সুইয়ের মৃত্যুতে সুইমত ভাই বোনদের কিছু এসে যায় না। তারা আছে বসুন্ধরার ফাল ভাইয়াকে বাঁচানো ইক্ষুকলের শ্রমিক হয়ে।

সুইয়ের কন্ঠ খবর দেয়, মহানায়কের শহীদ সন্তানের নামে প্রতিষ্ঠিত ফুটবল ক্লাবের গর্বিত পরিচালক পদে সুইক্রীড়ার ফাল ভাইয়ারা একশোভাগ ভোট দিয়ে তাকে ক্লাবের পরিচালক নির্বাচিত করেছে খুনের দায়ে দেশ থেকে পালিয়েছে এমন সুইমত ভাইদের গু-জবে ঢেকে রাখা সেই বসুন্ধরার ফাল যুবরাজ। ফাল-পরিচালকের এই যে পুনরুত্থান; তা ফুটবল জ্যোতিষী হিসেবে; ক্রিকেটের মতো ফুটবলও এগিয়ে যাবে মানে ফাল হবে; এমন ভবিষ্যত বাণী করেন বসুন্ধরার ফাল ভাইয়া। সবাই বুঝে যায়, সুই হত্যা করলে রীতিমতো গণক-দরবেশ ফাল হয়ে ওঠা যায়।

যে সুই দিয়ে বিনিসুতোর মালা গাথা যায়; তাকে ফালপ্রদীপ বলে; এইসব নজিরবিহীন হারকিউলিসের ফালে মারা পড়ে হাজার হাজার সুই। এলিট ফালের ফোর্স বা গতিবেগ আরো বেশি; জীবন-মৃত্যুর সওদাগর তারা। তাই তো কবি কালিদাস কহেন, আকাশে সুইয়ের মেঘের লগে ফাল দেখতেছি। আজ যে সুই কাল সে বিচার বহির্ভুত ফাল। আজ যে সুইয়ের বাল; কাল সে উন্নয়নের ফালের লাল। কহেন, কালিদাস।

৪৯০ পঠিত ... ১৬:৫০, মে ৩১, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top